ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ৪ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০

কাপাসিয়ায় ৬শ বছরের পুরনো শাহী মসজিদ
শামীম শিকদার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৭.০১.২০২০ ৩:৫৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 32

প্রতি শুক্রবার মানুষের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ ও তার আশপাশ এলাকা। বাস-সিএনজি, মাইক্রোবাস ও রিকশাসহ শতাধিক যানবাহন ভিড় জমায়। দোয়া-মান্নত পূরণ হয় বলে জনমনে প্রসিদ্ধ রয়েছে। এ লক্ষ্যে মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।প্রতি শুক্রবার প্রায় ১৫-২০ হাজার লোকের সমাগম ঘটে।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা শহর থেকে ২০ কিমি উত্তরে টোক সুলতানপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় ৬শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী সুলতানপুর দরগাপাড়া শাহী মসজিদের কথাই বলছি। মসজিদটি কবে নির্মাণ করা হয় তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ধারণা করা হয় মোগল আমলে নির্মিত হয়েছে এটি।

ঐতিহাসিক তথ্য মতে, ইসলাম প্রচারের জন্য এই এলাকায় ৩৬০ জন আউলিয়া এসেছিলেন। তাদের একজনের নাম শাহ সুলতান। যার নামানুসারে গ্রামটির নামকরণ করা হয়। আর অনেকে ধারণা করেন সুলতান আকবরের শাসনামলে ঈশা খাঁ ও মানসিংহের যুদ্ধ সংগঠিতকালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সুরকি ও ইটের সংমিশ্রণে মসজিদের মূল স্ট্রাকচার নির্মিত হয়েছিল। যেখানে অস্পষ্টভাবে খোদাই করে লেখা আছে ১৩৪৬। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয়।

তবে লোকমুখে প্রচলিত আছেÑ এটি মানুষের তৈরি কোনো মসজিদ নয়। আল্লাহর কুদরতে আলৌকিকভাবে গড়ে উঠেছে মসজিদটি। মানুষ এই মসজিদে নামাজ পড়ে মনের আকুতি মিশিয়ে দোয়া করেন আল্লাহর দরবারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মসজিদের আদি রূপ এখন আর নেই। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঢাকা পড়ে গেছে প্রাচীন নিদর্শনের মূল স্থাপনা ও গম্বুজ। মসজিদের পাশে রয়েছে একটি গণকবর এবং সুলতানিয়া হাফিজিয়া এতিমখানা নামে একটি মাদ্রাসা। সুলতানিয়া মাদ্রাসায় বর্তমানে ১৫০ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পড়ালেখা করছে। মসজিদের মূল স্ট্রাকচারের মধ্যে শতাধিক মানুষ নামাজ পড়তে পারলেও সম্প্রসারিত পুরো মসজিদে একসঙ্গে ১০ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন।

চাঁদপুর গ্রামের কাউসার মাহমুদ বলেন, প্রায় শুক্রবারে মসজিদে নামাজ পড়তে আসি। এই মসজিদে নামাজ পড়ে অন্যরকম একটা আমেজ পাওয়া যায়। উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। অনেক ইতিহাস জড়িয়ে আছে এখানে।

মসজিদের মোতাওয়াল্লী নুরুল ইসলাম জানান, মসজিদটি প্রায় ৬শ বছরের পুরনো। সপ্তাহে মসজিদ থেকে প্রাপ্ত লক্ষাধিক টাকা মসজিদ সম্প্রসারণ, সংস্করণ ও মিনার নির্মাণে ব্যয় করা হয়। এ ছাড়াও প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী ইসলামী সম্মেলনের আয়োজন করা হয় মসজিদ প্রাঙ্গণে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]