ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১০ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

সন্তানকে নিয়ে মা-বাবার ভাবনা
মুফতি মুহাম্মাদ যুবাইর খান
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৭.০১.২০২০ ১১:৪৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 244

প্রত্যেক মা-বাবাই তার সন্তানকে নিয়ে নানা স্বপ্ন দেখেন। সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় স্বীকার করেন অনেক কষ্ট। কিন্তু কী তাদের সেই স্বপ্ন? আর কতটুকুই বা সেই স্বপ্নের ব্যাপ্তি? বড়ই আফসোস! সন্তানকে ঘিরে আজকের অধিকাংশ মা-বাবার গৃহীত পদক্ষেপ আর সিদ্ধান্ত বলে দেয়Ñ শুধু দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের সফলতাই যেন তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য! দুনিয়ার জীবনে সন্তানের একটি সুন্দর ক্যারিয়ার হোকÑ এটাই যেন একমাত্র অভিষ্ট লক্ষ্য!
বর্তমানের মা-বাবা দুনিয়ার ব্যাপারে সন্তানের জন্য যতটুকু সময় ব্যয় করেন, তার কিঞ্চিত তারা পরকালের ব্যাপারে ব্যয় করেন না! সন্তানের পার্থিব সফলতার বিষয়ে তারা যতটা ভাবেন, পরকালের জীবনে সন্তানের কী হবে, তা নিয়ে ততটা ভাবেন না! অথচ প্রত্যেক মা-বাবার ওপর আবশ্যক হলো, তারা নিজেদের সন্তানকে একজন প্রকৃত মুমিন, মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলবেন। মহান আল্লাহর যাবতীয় বিধিবিধান সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত করবেন। তাদেরকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সর্বোত্তম আদর্শের শিক্ষা দেবেন, যেন সন্তান আলেম হলে একজন মুত্তাকি আলেম হিসেবেই গড়ে ওঠে। ডাক্তার হলে যেন একজন দীনদার ও পরোপকারী ডাক্তারই হয়। কিংবা সন্তান যদি প্রকৌশলী কিংবা জাগতিক অন্য কোনো বৈধ পেশা অবলম্বনকারীও হয় তবুও যেন একজন মুসলিম হিসেবেই দীনের ওপর অটল-অবিচল থাকে, দুনিয়ার জন্য তারা যেন দীনকে বিক্রি না করে, নিজের স্বার্থের জন্য কারও প্রতি জুলুম না করে! সর্বোপরি তারা চ‚ড়ান্ত সফলতা লাভের জন্য পরকালীন পাথেয় অর্জনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। পবিত্র কোরআনে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের কল্যাণ প্রত্যাশার কথাই বলা হয়েছেÑ ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা বাকারা : ২০১)
একটি শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে একেবারে এ পৃথিবী সম্পর্কে অপরিচিত থাকে, সে কোনো কিছুই বুঝে না, তবে তার মধ্যে শিক্ষা অর্জন করার ক্ষমতা থাকে। সে তার মাতা-পিতা ও আশপাশের মানুষদের নিকট থেকে কিছু কিছু করে শিখে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক শিশু সত্য গ্রহণ করার ক্ষমতা নিয়েই জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার মাতা-পিতা তাকে ইহুদি বানায়, খ্রিস্টান বানায়, অগ্নিপূজক বানায়।’ (বুখারি : ১২৯২; মুসলিম : ৬৯২৬)
আমরা অনেকে মনে করে থাকি, শিশু যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবে তখন থেকেই তার শিক্ষার বয়স শুরু। তবে বাস্তবতা হলো, প্রতিটি শিশু জন্মের পর থেকেই ধীরে ধীরে শিখতে থাকে, তাই কোনো শিশুর সামনে যেকোনো কথা ও কাজ করার সময় সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। আপনি আপনার শিশুর সামনে কাউকে গালি দিয়ে কথা বললেন, কারও সঙ্গে মিথ্যা কথা বললেন, সে সেটাও শিখবে। এজন্য আপনার সন্তানকে আপনি কী রূপে দেখতে চান, সে হিসেবে আগে মা-বাবা নিজেদের ও আশপাশকে গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষভাবে শিশুটি যে জায়গায় বসবাস করবে সেখানে আপনার পছন্দমতো পরিবেশ গড়ে তুলুন। কচি বয়স থেকেই শিশুকে সিনেমা, নাটক, অশ্লীল মুভি দেখা, নাচ-গানসহ শরিয়ত বিরোধী সব কাজ থেকে বিরত রাখা আবশ্যক। এমনিভাবে কারও সঙ্গে যেন খারাপ ব্যবহার না করে, মিথ্যা না বলে, গালি না দেয়, গিবত না করে এসব বিষয়ও খেয়াল রাখতে হবে।
মাতা-পিতার উচিত ব্যস্ততার ভিড়েও সন্তানদের জন্য কিছু সময় বের করা। তাদের মানসিক পরিচর্যার দিকে নজর রাখা। একই সঙ্গে তাদেরকে ভালোবাসায় আগলে রাখা। একজন আদর্শ মাতা-পিতা হওয়ার জন্য জরুরি হলো সন্তানদের প্রতি দয়া, স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা থাকা। তখন সন্তানরাও সুষ্ঠুভাবে বেড়ে উঠতে পারবে এবং তাদের অন্তরে সাহস ও মনোবল সৃষ্টি হবে। তাদের অন্তর পরিচ্ছন্ন হবে এবং বুদ্ধি ও বিবেক স্বচ্ছ ও তীক্ষè হবে এবং সেক্ষেত্রে তাদের কোনো অন্যায় যদি হয়েও যায় আপনারা বুঝের মাধ্যমে সংশোধন করতে পারবেন।
প্রতিটি সন্তান মা-বাবার কাছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সঞ্চিত আমানত। তাই সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এ আমানতের হেফাজত করতে হবে। তার আখলাক-চরিত্র গঠনের দায়িত্ব মা-বাবারই। সময়মতো তাকে শাসন করা, মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা, সৎ ও দ্বীনি পরিবেশে রাখা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। কখনও কোনো অপরাধ হয়ে গেলে তাকে তার জন্য অল্প হলেও শাস্তি দেওয়া তাদের কর্তব্য। তবে অবশ্যই তা শুধুই ভয় দেখানো ও তাকে শোধরানোর জন্য হতে হবে। আপনি যদি ছোটখাট অন্যায়গুলোর জন্য শাস্তি দেন তাহলে বড় অন্যায় করতে সাহস পাবে না। তবে অনেকেই বাচ্চাদের বদঅভ্যাসের প্রেক্ষিতে রাগ বা শাসন করতে নারাজ। তাদের কথা হলো, এখন কিছুই বলার দরকার নেই, বড় হলে সব এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। এটা মারাত্মক ভুল। ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম ও বুজুর্গ মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেছেন, ‘বাচ্চাদের স্বভাব-চরিত্র যা গড়ার পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে গঠন হয়ে যায়। এরপর ভালো-মন্দ যেটাই হলো তা মজবুত ও পাকাপোক্ত হতে থাকে, যা পরবর্তীতে সংশোধন করা কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং বাচ্চা বুঝুক আর না বুঝুক ছোটবেলা থেকেই বোঝাতে থাকবেন। এক সময় সে বুঝবে এবং উত্তম চরিত্র নিয়ে বড় হবে।’ (ইসলাহে খাওয়াতিন : ২৫১-২৫২; তুহফাতুল উলামা : ১/৪৮৩)। তার এ বক্তব্য যেন রাসুলের এ হাদিসেরই প্রতিনিধিত্ব করছে; রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেনÑ ‘সন্তানের বয়স সাত বছর হলে তাদের নামাজের আদেশ দাও, দশ বছর বয়সে নামাজের জন্য শাসন কর এবং এ বয়সে তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।’ (মুসনাদে আহমদ : ৬৭৫৬; আবু দাউদ : ৪৯৪)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রত্যেকের সন্তানকে আদর্শ সন্তান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]