ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চঞ্চল টাকা বন্দি এখন সঞ্চয়পত্রে!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 124


অলস তারল্য চাপে ২০১৪ সাল থেকে কমতে শুরু করেছে ব্যাংক আমানতের সুদের হার। এই অবস্থায় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে ব্যাংক গ্রাহকরা। পাঁচ বছর ধরে সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের এই সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে ছন্দপতন হয়েছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে।

২০১৮ সালে নভেম্বরে প্রতিটি নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ১২৮ কোটি টাকা। বিদায়ি বছরের নভেম্বরে তা ১০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ২০১৯ সালের নভেম্বর জুড়ে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩২০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

 গত অর্থবছরের বাজেটের সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। তবে অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি ছাড়িয়ে যায়। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে সব ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি অটোমেশনের আওতায় আনা হয়। একই সঙ্গে ক্রয় সীমা কমানো হয় সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের। বর্তমানে এক ব্যক্তি যেকোনো স্কিমের সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির সঞ্চয়পত্র কেনা প্রায় বন্ধ রয়েছে। মূলত প্রকৃত গ্রাহকদের কাছে সঞ্চয়পত্র পৌঁছানোর জন্য এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এরপরও এখনও ভরসার সঞ্চয়পত্র। কারণ শেয়ারবাজারের অবস্থা খারাপ। সুদের হার নয় ছয় করার তোড়জোড়ে ব্যাংকে স্থায়ী আমানতেও আর আগের মতো সুবিধা মিলবে না। এখনও সবচেয়ে বেশি সুদ ও মুনাফা পাওয়া যায় সঞ্চয়পত্র থেকে। তবে ১ লাখ টাকার বেশি হলেই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে কিনতে হবে। গত ১ জুলাই থেকে এই নিয়ম চালু হওয়ার পর অনেকে সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছেন না। গত ১১ বছরে সরকারকে কমপক্ষে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকের শোধ দিতে হয়েছে। তবে গ্রাহকদের সুদ এখন আর সরকারকে বেশি টাকা গুনতে হবে না। এরপরও চলতি অর্থবছরে ৫ মাসে আগেরবারের একই সময়ের তুলনায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমেছে ৭৩ শতাংশ।

বর্তমানে ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। নামের মধ্যেই রয়েছে ৫ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র। সবাই সব ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকার কিছু শর্ত ঠিক করে দিয়েছে। ১৮ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী ও ৬৫ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি বয়সি বাংলাদেশি নারী-পুরুষেরা শুধু একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।

পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১ লাখ টাকায় মাসিক মুনাফা পাওয়া যায় ৮৬৪ টাকা। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ত্রৈমাসিক মুনাফা ২ হাজার ৪৮৪ টাকা। আর পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ত্রৈমাসিক মুনাফা ২ হাজার ৬৪৬ টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে একেক বছরের জন্য একেক হারে মুনাফা পাওয়া যায়।

সঞ্চয়পত্রে জামানত রেখে কোনো ব্যাংক ঋণ নেওয়া যায় না। সঞ্চয়পত্র হারালে কিংবা চুরি হলে, এমনকি পুড়ে গেলে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর ডুপ্লিকেট কপি পাওয়া যায়। সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে এক বছর পার হওয়ার আগেই কেউ ভাঙাতে চাইলে কোনো মুনাফা দেওয়া হয় না। শুধু মূল টাকা নিতে হয়। ইটিআই ও ব্যাংক হিসাব ছাড়া এখন আর সঞ্চয়পত্র কেনা যায় না। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে আসল ও মুনাফার টাকা আর নগদে দেওয়া হচ্ছে না। মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙালেও টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে। সীমার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনলে গ্রাহক কোনো মুনাফা পাবেন না। তবে মূল টাকা ফেরত পাবেন।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]