ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা শেষ
মিলল ফাইভ-জির বার্তা
প্রযুক্তির আলো প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০৯ পিএম আপডেট: ১৯.০১.২০২০ ১২:১১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 114

আগেই ঘোষণা এসেছিল আগামী বছরের দিকে বাংলাদেশে ফাইভ-জি সেবা চালু হতে যাচ্ছে। তবে সে সেবা কেমন হবে, সেবার আওতায় কী থাকবে, বিস্তারিত বিষয়ের প্রদর্শনী হয়ে গেল পঞ্চম ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলায়। পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল সেবার এ প্রদর্শনী করেছে হুয়াওয়ে ও চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেডটিই করপোরেশন। ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ মেলা শুরু হয়। তিন দিনব্যাপী এ মেলা শেষ হয় ১৮ জানুয়ারি।


এবারের মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল ফাইভ-জি। পঞ্চম প্রজন্মের এ প্রযুক্তির উদ্ভাবন, ব্যবহারিকসহ পণ্য এবং সেবার দেখা মিলেছে জেডটিই প্যাভিলিয়নে। আরও হুয়াওয়ের ফাইভ জিতে ১.৬ জিবিপিএস গতির সাক্ষী হয়েছে ঢাকা। স্টলগুলোতেও বাড়তি ছিল পঞ্চম প্রজন্মের এ সেবা দেখতে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ।

দেশের মানুষের কাছে ফাইভ-জি প্রযুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় গত এক দশকে সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ মেলায। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আয়োজিত এ প্রদর্শনীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রযুক্তির বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় প্রযুক্তির মহাসড়ক’।

মেলা প্রাঙ্গণে ৯টি স্ট্যান্ড নিয়ে বড় পরিসরে নির্মাণ করা হয়েছে ‘জেডটিই বুথ’। ব্যবসায় সমাধান, টার্মিনাল অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ‘সিস্টেম সলিউশন’ প্রদর্শনী এলাকায় ‘সহজীকরণের মাধ্যমে বড় কিছু তুলে ধরা হচ্ছে। ফাইভ প্রদর্শনী ছিল দর্শকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এ ছাড়াও নেটওয়ার্ক একসিলারেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, চাহিদাভিত্তিক নেটওয়ার্ক, স্বয়ংক্রিয় চিপসেটের পাশাপাশি ‘কমন কোন’ নামে সেবা তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে মেলায় ফাইভ জি’র ১.৬ জিপিএস গতির সাক্ষী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে মেলার টাইটেনিয়াম সহযোগী ‘হুয়াওয়ে’।

হুয়াওয়ে জানায়, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশে ফাইভ-জি সেবা পরীক্ষায় মুখ্য ভ‚মিকা পালন করেছিল হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড। তখন ৮শ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম ব্যবহার করে প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ চার জিবি পর্যন্ত ইন্টারনেটের গতি পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে এখন মাত্র ১০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম (গতবারের ৮ ভাগের এক ভাগ) ব্যবহার করেই প্রতি সেকেন্ডে ১.৪ জিবি থেকে ১.৭ জিবি পর্যন্ত গতিতে ডেটা ট্রান্সফার করা সম্ভব হবে।

দর্শনার্থীরা মেলার উদ্বোধনী দিনেই সেকেন্ডে ১.৬ জিবি গতিতে ডেটা ট্রান্সফারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ফাইভ-জির উন্নয়ন ও গবেষণা হুওয়াওয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যয় করেছে চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

হুওয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝাং ঝেং জুন বলেন, ‘প্রযুক্তিগত সুবিধাকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গত ২১ বছর ধরে এ দেশের আইসিটি, টেলিকম অপারেটর ও স্থানীয় সহযোগীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে হুওয়াওয়ে। এখন ফাইভ-জি চালুর বিষয়ে আমরা শতভাগ প্রস্তুত।
তিন দিনব্যাপী এ মেলায় আগত দর্শনার্থীরা হুয়াওয়ের প্যাভিলিয়নে সরাসরি ফাইভ-জি স্পিড ও লো-ল্যাটেন্সি অভিজ্ঞতা নিয়েছে। এ ছাড়াও বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে পেয়েছে বিশেষ রোবট। যাকে হাতের ইশারায় পরিচালনা করে ফুটবল খেলতে পেরেছে। ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে কত দ্রæত হিউম্যান টু মেশিন কিংবা মেশিন টু মেশিন কমিউনিকেশন সম্ভব তা তুলে ধরার উদ্দেশে এ আয়োজন।

পাশাপাশি ছিল একটি প্লে জোন। যেখানে সবাই ফাইভ-জি প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ভি-আর উপভোগ করেছে। মেলায় আইএসপি প্রতিষ্ঠান, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, ট্রিপল প্লে (এক ক্যাবলে ল্যান্ডফোনের লাইন, ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ, মোবাইল অ্যাপস, ব্রডব্র্যান্ড ও ইন্টারন্টে সেবা এবং প্রযুক্তি) প্রদর্শিত হয়েছে। এ ছাড়াও ওয়ালটন, স্যামসাং, সিম্পনির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করেছে। টেলিকম অপারেটরগুলোও তাদের ভয়েস, ইন্টারনেট ও মূল্য সংযোজিত সেবা (ভ্যাস) বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছে।

এবারের ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা ১০০টি স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও বড় প্যাভিলিয়ন দিয়ে সাজানো ছিল। এতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ডিজিটাল অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। মেলায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছিল আলাদা কর্নার। প্রযুক্তির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনী সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]