ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে বিড়ম্বনায় ভর্তিচ্ছুরা
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০, ৮:১১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 413

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক সম্মান ১ম বর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে ভর্তিচ্ছুরা। অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ‘বি’ ইউনিটে বিপুল কুমার নামের এক হিন্দু শিক্ষার্থী অপেক্ষমান তালিকা থেকে প্রথমে ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী বিভাগ পরিবর্তনের জন্য মাইগ্রেশন আবেদন করে। পরে তার সমযোগ্যতার অন্য শিক্ষার্থীদের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তির জন্য মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিপুল কোনও প্রকার নির্দেশনা পায়নি বলে অভিযোগ করে।

ফলে সে বিস্তারিত জানতে ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল উপ-কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণের সাথে সাক্ষাত করেন। পরে ওই শিক্ষার্থী তার যোগ্যতা থাকা শর্তেও কেন তাকে বিভাগ পরিবর্তনের এসএমএস দেওয়া হয়নি তার কারণ জানতে চান। কিন্তু এর কোন সদুত্তর না দিয়ে ড. পরেশ বলেন, তুমি হিন্দু হওয়ায় তোমাকে এসএমএস দেওয়া হয়নি। তবে তিনি শিক্ষার্থীকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়তে চায় কি না বলে জানতে চান।

ওই শিক্ষার্থী হ্যাঁ বললে পরবর্তীতে তাকে এসএমএস করা হবে বলে ড. পরেশ জানান। কিন্ত পরবর্তীতেও ওই শিক্ষার্থীকে কোন ধরনের এসএমএস করা হয়নি বলে জানা যায়। এরপর ২য় অপেক্ষমান তালিকার ভাইভা ও ভর্তি হয়ে গেলেও বিপুল কোন নির্দেশনা পায়নি কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সোমবার দুপুরে চাপের মুখে বিপুলকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে ভর্তির সুযোগ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ইউনিটের ভাইভার তারিখ ও সময় ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নোটিশ ঝুলানো, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে স্টাটাস ও মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করে থাকে কর্তৃপক্ষ। ফলে অনেকটাই ক্ষুদেবার্তা নির্ভর হয়ে পরে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিভিন্ন ইউনিটে ২য় অপেক্ষমান তালিকার ভাইভার তারিখ কেবল ফেসবুক স্টাটাস ও স্ব স্ব ইউনিট সমস্বয়কারীর অফিসে নোটিশ ঝুলানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে রোল ও সিরিয়াল নাম্বার উল্লেখ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।

গত ১৪ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিটের দ্বিতীয় অপেক্ষমান সাক্ষাতকারে শিক্ষার্থীদের ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়নি। কেবল ছাত্র উপদেষ্টার ফেইসবুক পেইজে শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে জানিয়েই দায় সারা হয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে অনেক শিক্ষার্থী ওই ফেইসবুক পেইজে অ্যাড না থাকতে পেরে সাক্ষাতকারে আসতে পারেনি।

এদিকে আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগে ৮০ টি আসনের মধ্যে ৪০ টিতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ৪০টি স্কুল-কলেজ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ভর্তির নিয়ম করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু স্কুল-কলেজের ৪৫ জনকে এই বিভাগে ভর্তি করানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া এই বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হয় চার ছাত্রী। প্রথমে তারা আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হয়।

পরে বিভাগ পারবর্তনের জন্য মাইগ্রেশন করে আল-ফিকহএ ভর্তির সুযোগ পায় তারা। তবে ভর্তির এক সাপ্তাহ পরে ওই শিক্ষার্থীদের এসএমএস এর মাধ্যমে পূনরায় আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগেই পড়তে হবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী চার ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আল-ফিকহ পাওয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য তারা অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি বাতিল করে আসে। কিন্তু পূনরায় আরবি সাহিত্য বিভাগে পড়ার নির্দেশ পেয়ে হতাশায় পরে তারা। ফলে চারজন উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বরাবর লিখিত আবেদন করে।

এই আবেদনপত্র জমা দিতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের। পরবর্তীতে তাদেরকে পূর্বের বিভাগ পছন্দক্রম অনুযায়ী আল-ফিকহ ও আরবি সাহিত্য বাদে অন্য বিভাগে সীট ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে ভর্তির সুযোগ দিয়েছে ‘বি’ ইউনিট সমন্বয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া রোববার কলেজ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আসন খালি না থাকলেও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে ৬ জনকে আল-ফিকহ বিভাগে ভর্তি হতে নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তারা ভর্তি হতে বিভাগে গেলে আসন খালি নেই বলে বিভাগ তাদের জানায়। এতে ভর্তি হওয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বি ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যে যার দায়িত্ব সেগুলো পালন করা দরকার। তাহলেই শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পরবে না।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘ইউনিট সমন্বয়কারী, একাডেমিক শাখা ও টেকনিক্যাল উপ-কমিটির সাথে সমন্বয় থাকলে এই সমস্যা হতো না। তবে তাদের সাথে কথা হয়েছে। আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে এর সমাধান হবে।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]