ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

গ্র্যাজুয়েটদের বরণের অপেক্ষায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০, ২:০৭ পিএম আপডেট: ২১.০১.২০২০ ২:৫০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 756

দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ লালমাটির ক্যাম্পাস খ্যাত কুমিল্লা বিশ্বদ্যিালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠা লাভ করে ২০০৬ সালে। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর বিশশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা পেতে যাচ্ছে প্রথম সমাবর্তন।

সমাবর্তন ছাড়াই একে এক বিদায় নিয়েছে আটটি ব্যাচ। সবার আক্ষেপ ছিল কবে পাবে শিক্ষাজীবনের সর্বোচ্চ সম্মাননা সমাবর্তন। অবশেষে সে অপেক্ষার দিন শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ২৭ জানুয়ারি। অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। যেখানে অংশ নিতে যাচ্ছে ২ হাজার ৮৮৭ জন গ্র্যাজুয়েট।

প্রথম সমাবর্তনকে সফল করতে কোন কিছুতে কমতি রাখছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যারা।

আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবর্তনে ২ হাজার ৮৮৭ জন গ্র্যাজুয়েট অংশ নিতে যাচ্ছে। যার মধ্যে স্নাতক ডিগ্রিধারী ১ হাজার ২২২ জন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ১ হাজার ৬৬৫ জন। সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ শিক্ষায় অসমান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক প্রদান করবে।

যেখানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং সমাবর্তন বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)। প্রথম সমাবর্তনকে ঘিরে গ্র্যাজুয়েটদের পাশাপাশি প্রথম সমাবর্তন নিয়ে উচ্ছ্বসিত বর্তমান শিক্ষার্থীরাও।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সমাবর্তন কমিটি সূত্রে জানা যায়, সমাবর্তনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত এগিয়ে চলছে কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে রাস্তার দু’ধারে ও জিরো পয়েন্ট, বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের পাদদেশে ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। সমাবর্তন স্থল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, পরিবহন মাঠ নতুন ভাবে সাজানো হয়েছে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রশাসন থেকে নেওয়া হচ্ছে গ্র্যাজুয়েট বরণের কর্মসূচি। জানা যায়, আর্টিফিসিয়াল গেইট করা হবে মূল ফটকে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও নিজের জীবনের প্রথম সমাবর্তন নিয়ে অনূভূতির কথা জানান একাধিক গ্র্যাজুয়েট। তারা জানান, সমাবর্তন শব্দটি কি কেমন হতে পারে সেটা এতদিন জেনেছি অন্যন্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেখে। কিন্তু এই প্রথম আমরা সমাবর্তন পেতে যাচ্ছি, এবার আমরাও সমাবর্তন উপভোগ করতে যাচ্ছি। শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল এই আড়াম্বর অনুষ্ঠান। আবারও ক্যাম্পাসে ফিরব সে অনুভূতি ব্যক্ত করার মত নয়।

সমাবর্তনের সফলতা কামনা করেন অন্য এক গ্র্যাজুয়েট বলেন, অনেক দিনের দাবি ছিল আমাদের এই সমাবর্তন। প্রথম সমাবর্তনকে সফল আমরা সব গ্র্যাজুয়েটেরা অংশ নিচ্ছি। কোনো ধরনের অনাঙ্কিত ঘটনা যেন না ঘটে সেক্ষেত্রে প্রশাসনকে ভূমিকা রাখতে। প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের সাহসী উদ্যোগের জন্য উপাচার্য মহোদয় ও প্রশাসন কে সাধুবাদ জানিয়ে সমাবর্তনের সফলতা কামনা করেন তিনি।

এদিকে সমাবর্তন নিয়ে খুশির আমেজ বিরাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। তারা জানান, ১৪ বছর পর কোনো বড় অনুষ্ঠান হলে সেটার দিকে তাকিয়ে থাকেন সবাই। এতদিন ভাবতাম কবে হবে সমাবর্তন এবং কবে আসবে সিনিয়রেরা। অবশেষে সেদিনটি আসছে ২৭ জানুয়ারি। সবচেয়ে বড় কথা হল আবার মিলবে ১৪টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

সাফিয়া নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ২৭ জানুয়ারি কুবির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হতে যাচ্ছে। যেখানে মিলবে হাজারো প্রাণের মিলনের প্রতিচ্ছবি। গ্র্যাজুয়েটদের দেখব এটাই বর্তমান হিসাবে প্রাপ্তি হবে আমাদের। মহামান্য রাষ্ট্রপতির মজার ভাষণ শোনার অপেক্ষায় আছি। সমাবর্তন নিয়ে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত। সিনিয়রদের নতুন করে বরণের অপেক্ষায় আমরা কুবি পরিবার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) ও সমাবর্তন কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. আবু তাহের জানান, ‘প্রথম সমাবর্তনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজ করছে। আমরা সমাবর্তনকে সুন্দর ও সাফল্যমণ্ডিত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

সমাবর্তন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘সমাবর্তন আয়োজনে প্রতিটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পন্থায় এগিয়ে চলছে। সুন্দর ও সফলভাবে কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।’ সর্বোপরি মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো আসছে। আমাদের প্রত্যাশা সমাবর্তন অত্যন্ত আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ হবে।’

বন্ধ হবে না বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল
প্রথম সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলসমূহ বন্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. আবু তাহের। তিনি আরো জানান, ‘তবে এসএসএফ চাইলে একদিন অথবা তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলসমূহ বন্ধ করা হতে পারে। আগামী ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকতে পারে। এ বিষয়েও এসএসএফ সিদ্ধান্ত নেবে।’

অতিথিবৃন্দ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবর্তন বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অতিথি হিসাবে আরো উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চেীধুরী এমপিসহ প্রমুখ।

নিয়মাবলি
গ্র্যাজুয়েটেরা সমাবর্তনের গাউন ফেরতযোগ্য) ও কস্টিউম গ্রহণ করতে পারবেন ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি। এছাড়া বিভাগ থেকে ২৬ তারিখও গাউন গ্রহন করা যাবে। গাউন ফেরত ও মূল সনদপত্র গ্রহন করা যাবে ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি। গ্র্যাজুয়েটদেরকে নিমন্ত্রণপত্র ও জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা পাসর্পোট সঙ্গে আনতে হবে। মোবাইলফোন, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, হাত-ব্যাগ, ক্যামরা, পানির বোতল সঙ্গে করে আনতে পারবে না।

সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের জন্য যা যা থাকছে : গাউন (ফেরতযোগ্য), একটি সমাবর্তন ব্যাগ, নিমন্ত্রণ পত্র, কোর্ট পিন, ক্রেস্ট, টাই/পার্স, স্যুভিনিয়র, ক্যাপ, সার্টিফিকেট ফোল্ডার ও দুপুরের খাবার ইত্যাদি।

অনুষ্ঠানসূচি
সমাবর্তনে নিমন্ত্রিত গ্র্যাজুয়েটদের ১২:৩০-২:০০ ঘটিকার মধ্যে আসন গ্রহণ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের আসন গ্রহণ, সমাবর্তন শোভাযাত্রা, মহামান্য রাষ্ট্রপতির আগমন ও জাতীয় সংগীত, পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ, সমাবর্তনের অনুষ্ঠান উদ্বোধন, বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের স্বাগত বক্তব্য, মাননীয় চ্যান্সেলর কর্তৃক ডিগ্রি প্রদান, স্বর্ণপদক প্রদান, অতিথির বক্তব্য, সমাবর্তন বক্তার বক্তব্য, ক্রেস্ট বিনিময়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় চ্যান্সেলরের ভাষণ, সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা, জাতীয় সংগীত এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় চ্যান্সেলরের সমাবর্তন স্থল ত্যাগের মধ্যে দিয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষ হবে।এ ছাড়া সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন জয়প্রিয় শিল্পী জেমস, সংগীত ব্র্যান্ডদল এনকোরসহ প্রমুখ।

সমাবর্তনে সবার সহযোগিতা কামনা করে গ্র্যাজুয়েটদের আহ্বায়ন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েরর অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটি ফ্যাক্টরির মতো। সে প্রোডাক্ট সপ্লাই করবে। এখানে প্রোডাক্ট হলো শিক্ষার্থীরা। তাদের শিক্ষার গুণগত মান যত ভালো হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যান্ডিং ঠিক ততটাই উজ্জ্বল হবে। তাই গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন তাদের কর্মক্ষেত্রে তাদের এই ফ্যাক্টরিকে ব্র্যান্ডিং করতে পারে।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]