ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৬ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ক্ষমার অযোগ্য  গুনাহ ‘শিরক’
শামসুদ্দীন সাদী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.০১.২০২০ ১২:৪৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 165

 ছবি সংগৃহিত

ছবি সংগৃহিত


‘শিরক’ অর্থ অংশীদার করা। কোনো কিছুতে একাধিক ব্যক্তি বা বস্তুর অংশ গ্রহণ করা। ইসলামের পরিভাষায় শিরক বলা আল্লাহর সঙ্গে ইবাদত বা প্রভুর গুণাবলিতে কাউকে অংশীদার মনে করা। এটা অনেক বড় গুনাহ। এ গুনাহের কোনো ক্ষমা নেই। শিরকের অনেক প্রকার ও স্তর রয়েছে। বড় ও ছোট। প্রকাশ্য ও গোপন। ছোট ছোট অনেক শিরক রয়েছে অজান্তেই আমরা যার মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়ি। এ জন্য শিরকি বিশ্বাস ও শিরকি কাজকর্ম সম্পর্কে জানা ও সেগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য অবশ্য কর্তব্য।

শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ
মানবজীবনে মানুষ যত গুনাহ করে তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক হলো শিরক। শিরকের পাপের চেয়ে বড় কোনো পাপ নেই। এটা এতটাই জঘন্য যে, আল্লাহ তায়ালা শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.)-কে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া, আত্মহত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।’ (বুখারি : ২৬৫৩)

শিরকের গুনাহ ক্ষমা হয় না
অন্য গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করলেও শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। একজন মানুষ যতই পাপিষ্ঠ হোক, যদি শুধু তাওহিদ তথা একত্ববাদের বিশ্বাস নিয়ে কবরে যায় তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি শিরকের গুনাহ নিয়ে কবরে যায় তাহলে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না যে লোক তার সঙ্গে শরিক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের পাপ। যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল সে যেন অপবাদ আরোপ করল।’ (সুরা নিসা : ৪৮)

শিরককারীর জন্য জান্নাত হারাম
যারা শিরক করে তাদের মুশরিক বলে। আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। মুশরিকদের জন্য জাহান্নামই অবধারিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা কাফের তারা বলে যে, মরিয়ম-তনয় মসিহ-ই আল্লাহ; অথচ মসিহ বলেন, হে বনী ইসরাইল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা।

নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থির করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা মায়েদা : ৭২)। এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী খ্রিস্টানদের শিরকের কথা আলোচনা করে বলেছেন, ত্রিত্ববাদ ঈসা (আ.)-এর শিক্ষারও বিপরীত। ঈসা (আ.) নিজেই তাওহিদ ও একত্ববাদের প্রচার করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে মুশরিকদের জন্য জান্নাত হারাম হওয়া ও জাহান্নাম অবধারিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য কিছু শিরক
ছোট বড় অনেক শিরক রয়েছে। সেসব শিরক থেকে বেঁচে  থাকা জরুরি। নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু শিরকের কথা আলোচনা করা হলো

এক. আল্লাহ তায়ালার সত্তার সঙ্গে কাউকে শরিক করা। যেমন, কাউকে আল্লাহর পুত্র বা স্ত্রী বলা। এই প্রকারের শিরকের খন্ডন করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি।’ (সুরা ইখলাস : ৩)

দুই. ইবাদতের ক্ষেত্রে কাউকে শরিক করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদতের উপযুক্ত মনে করা। মূর্তিপূজা করা। সূর্য বা তারকা পূজা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ইবাদত কর আল্লাহর, শরিক কর না তাঁর সঙ্গে অপর কাউকে।’ (সুরা নিসা : ৩৬)।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।’ (সুরা বাইয়িনাহ : ৫)। মুফাসসিরগণ লিখেছেন, এ আয়াতে খাঁটি মনে ও একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরক ত্যাগ করে ঈমান গ্রহণ করা ও একত্ববাদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করা। এ আয়াতে শিরকমুক্ত তাওহিদ ও ঈমানকে সঠিক ধর্ম হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। (তাফসিরুল মুয়াস্সার)

তিন. আল্লাহর গুণাবলি ও কাজকর্মে কাউকে শরিক করা। যেমন, কাউকে সন্তানদাতা মনে করা। আরোগ্য দানকারী মনে করা। হায়াত-মউতের মালিক মনে করা। সৃষ্টিকর্তা মনে করা। বৃষ্টি বর্ষণকারী মনে করা। রিজিকদাতা মনে করা। এসব কাজ একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই করেন। অন্য কেউ করতে পারে না। কেউ যদি মনে করে আল্লাহ ছাড়া অন্যরাও এসব কাজ করতে পারে তাহলে সে প্রকাশ্য শিরক করল। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রিজিক দিয়েছেন, এরপর তোমাদের মৃত্যু দেবেন, এরপর তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের শরিকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এসব কাজের মধ্যে কোনো একটিও করতে পারে? তারা যাকে শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও মহান।’ (সুরা রূম : ৪০)

চার. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চাওয়া। সাহায্য চাওয়া হবে একমাত্র আল্লাহর কাছে। গাইরুল্লাহ বা অন্য কারও কাছে সাহায্য কামনা করে কখনও কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁকে ছাড়া তারা যাদের ডাকে, তারা তাদের কোনো কাজে আসবে না। ওদের দৃষ্টান্ত সেরূপ যেমন কেউ দুই হাত পানির দিকে প্রসারিত করে, যাতে পানি তার মুখে পৌঁছে যায়। অথচ পানি কোনো সময় পৌঁছবে না। কাফেরদের যত আহ্বান তার সবই ভ্রষ্টতা।’ (সুরা রাদ : ১৪)

উল্লিখিত এসব বড় বড় শিরক ছাড়াও ছোট ছোট অনেক শিরক রয়েছে, সেগুলো থেকেও বেঁচে থাকা আবশ্যক। হজরত মাহমুদ ইবনে লাবিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের ওপর ছোট শিরক নিয়েই আমি বেশি ভীত। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! ছোট শিরক কী? নবীজি বললেন, লোক দেখানো ইবাদত। কেয়ামতের দিন যখন মানুষকে তার আমলের বিনিময় দেওয়া হবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের বলবেন, দুনিয়ায় যাদের দেখিয়ে আমল করেছ তাদের কাছে যাও; দেখ, তাদের কাছে কোনো প্রতিদান ও বিনিময় পাও কি না?’ (মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৩০)

লেখক : শিক্ষক, জামিয়া আম্বরশাহ আল
ইসলামিয়া, কারওয়ান বাজার, ঢাকা




 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]