ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাণিজ্য মেলা
ছুটির দিনে লোকারণ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.০১.২০২০ ১১:৪৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 79


মাসের শেষ দিকে এসে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমনে বেচা-বিক্রিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা।

মেলার প্রধান ফটক উন্মুক্ত করে দেওয়ার আগেই সকাল থেকে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছিলেন বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নের কর্মকর্তারা। সঙ্গে চোখে পড়ার মতো ছিল দর্শনার্থী। টিকেট সংগ্রহ করে একে একে মেলার মাঠে প্রবেশ করতে থাকেন দর্শনার্থীরা। আর সন্ধ্যে হতে না হতেই মেলা প্রাঙ্গণ ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। দেখে-শুনে পছন্দের পণ্যটি কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ক্রেতারা। আর ক্রেতা সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন স্টল ও প্যাভিলিয়নের বিক্রেতারা।

শেরেবাংলা নগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় শুক্রবার দেখা যায়, মেলায় মেয়েদের প্রসাধনী সামগ্রীর স্টলগুলোতে ভিড় লেগেই আছে। স্টলটিতে সব ধরনের পণ্যে ১০-৬০ শতাংশ ছাড় রয়েছে। বিক্রেতাদের দম ফেলার জো নেই, ক্রেতারাও দর কষাকষিতে ব্যস্ত।

মোহাম্মদপুর থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন নাসিমা আক্তার। তিনি মেলা থেকে ক্রোকারিজ সামগ্রী কিনতে চান। তিনি বলেন, মেলায় কেনাকাটা করতে সকালের সময়কে বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু সকাল থেকেই দর্শনার্থীর আগমন অনেক বেশি। তবু পণ্য কিনতে হবে।

ফার্নিচার কেনার উদ্দেশে পুরান ঢাকা থেকে মেলায় এসেছেন হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, ভালোমানের পণ্য আর দেখে নেওয়ার সুযোগ আছে মেলায়। এ জন্য সকাল সকাল মেলায় এসেছি। পণ্য কেনা হয়েছে, এবার বাসায় ফেরার পালা।

অন্যদিকে ভিআইপি গেট দিয়ে মেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে কারুপণ্য শতরঞ্জির স্টল। রংপুরে তৈরি ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্জিসহ হরেক রকমের হস্তশিল্প সামগ্রী রয়েছে এখানে। এখানকার কর্মী রোমেল রহমান বলেন, আমরা বিশ্বের প্রায় ছয় মহাদেশেই এই শতরঞ্জি রফতানি করি। কামার, কুমার, তাঁতিদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের সংগ্রহ রয়েছে এখানে। একে মেলার মধ্যে আরেকটা মেলাও বলা যায়।

বাবা-মায়ের সঙ্গে এদিন মেলায় ঘুরতে আসেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ছুটির দিনে পুরো পরিবারের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে আসতে পারি। প্রাণের স্টল থেকে অনেক কিছু কেনাকাটা করলাম, মাক্সের স্টল থেকে কেনাকাটা করলাম। আর শতরঞ্জি থেকে বড় কার্পেট আর ছোট পাপস কিনেছি।

মিরপুর থেকে বোনদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন শিক্ষার্থী নীলা ইসলাম। তিনি বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন বলেই আজকে আমরা দুপুর থেকে মেলায় ঘুরছি। মোটামুটি অনেক জিনিসই কেনাকাটা হয়েছে। আজিমপুর থেকে মেলায় আসা তাবিবুর রহমান তালুকদার বলেন, ছুটির দিন ছাড়া মেলায় আসা হয় না। তাই তিনি শুক্রবার বিকাল থেকেই ঘুরে ঘুরে অনেক কিছু কিনেছেন।
মেলায় ৫নং প্যাভিলিয়নে রয়েছে পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বসানো জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার। এখানে আছে পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের ২৮টি দোকান। এখানে বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা পাট ব্যবহার করে হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য ক্রেতাদের জন্য নিয়ে এসেছি। নাগরিক জীবনে একটু সবুজের ছোঁয়া দেওয়ার জন্য আমরা পাট ও বেতের তৈরি টবে গাছ বিক্রি করছি।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৯টি দোকান নিয়ে সাজানো হয়েছে জয়িতার প্যাভিলিয়ন। এখানকার বিক্রয়কর্মী মুক্তা জানান, তাদের প্রধান শোরুম ধানমন্ডির রাপা প্লাজায়।

কারা অধিদফতরের উদ্যোগে কারাবন্দিদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের সমাহারে মেলায় সাজানো হয়েছে কারুপণ্যের প্যাভিলিয়ন। প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে থাকা খুলনা জেলা কারাগারের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মাদ জামশেদ বলেন, আমরা তৃতীয়বারের মতো মেলায় কারুপণ্যের স্টল সাজিয়েছি। এখানে কারাবন্দিদের তৈরি বিভিন্ন কুটির শিল্প, হস্তশিল্প সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়, যে দামটা অন্যান্য দোকানের চেয়ে অনেকটাই কম।

শুক্রবারে তাদের ক্রেতার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে প্রস্তুতকারকদের শ্রমের মূল্যটুকু বাদ দিয়ে শুধু কাঁচামালের মূল্য ধরে পণ্যের দাম নির্ধারিত হয়। এরপর যা লাভ হয়, তার অর্ধেকটা সরকারি কোষাগারে এবং বাকি অর্ধেক বন্দিদের পুনর্বাসনের কাজে লাগানো হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]