ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ভেড়া পালন করে স্বাবলম্বী সুবর্ণচরের নারীরা
মাহবুবুর রহমান বাবু নোয়াখালী
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.০১.২০২০ ১১:৪১ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 242


নোয়াখালীর সুবর্ণচর ভেড়া পালনে এক নতুন সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে গড়ে উঠছে। অল্প পুঁজি ও শ্রমে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক এ ভেড়া পালনে জড়িত স্থানীয় গ্রামীণ নারীরা। বাড়ির অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ভেড়া পালন করে তারা হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী। অভাবের সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। তাই গ্রামগুলোতে এখন বাণিজ্যিকভাবে ভেড়া পালন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ভেড়া পালন অন্যান্য প্রাণীর চেয়ে সহজ ও অধিক লাভজনক। বাংলাদেশের যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় নোয়াখালীর আবহাওয়া ভেড়া পালনের উপযোগী। কম পুঁজি ও শ্রম লাগায় দিন দিন বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠছে নতুন নতুন ভেড়ার খামার। ১০-১৫টি ভেড়ার একটি খামারে সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে আয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা।

যেকোনো গবাদি পশুর চেয়ে ভেড়ার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং বাচ্চার মৃত্যুর হারও বেশ কম। ভেড়া উৎপাদন হার গরু, ছাগল ও মহিষের চেয়ে অনেক বেশি। একটি স্ত্রী ভেড়া বছরে দুবার এবং প্রতিবারে ১-২টি করে বাচ্চা জন্ম দেয়। তাই অনেকেই শখ করে চার-পাঁচটি ভেড়া পালনের মধ্য দিয়ে শুরু করলেও দুই বছরের ব্যবধানে এখন ভেড়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০টিরও বেশি। মাচা পদ্ধতিতে লালন-পালন করার কারণে এদের বাসস্থানের খরচও কম। তা ছাড়া ভেড়া অত্যন্ত কষ্ট সহিষ্ণু গবাদি পশু।

এখানকার উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে পারে সহজেই। কোনো ধরনের সরকারি সহযোগিতা না পেলেও স্থানীয় একটি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ‘সাগরিকা’ ভেড়া পালনে খামারিদের চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করছে। সুবর্ণচরের চর ক্লর্ক গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, স্বামীর আয়ের পাশাপাশি ভেড়া পালন করে তাদের পরিবারের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া খরচ, জামাকাপড় কেনাসহ পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। মোহাম্মদপুর গ্রামের আমেনা বেগম বলেন, নিজেরা আয় করে সংসারে সহযোগিতা করতে পারছি। লাভও হয় বেশ। ভেড়া বেশি হলে আয়ও বেশি হয়।

সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, মাচা পদ্ধতিতে ভেড়া পালন খরচ কম। তাই এখানকার নারীরা পরিবারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য ভেড়া পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন। আমাদের তত্ত¡াবধানে প্রায় ২শ খামার তৈরি হয়েছে। দুজন ভেটেনারি ডাক্তার ও একজন প্যারাভেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, স্বল্প মূল্যে ওষুধ ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ননী গোপাল বর্মণ সময়ের আলোকে বলেন, নোয়াখালী ভেড়া পালনের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনাময়। ভেড়া পালনে বড় ধরনের কোনো মূলধন বা অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না। নরম, রসালো ও সুস্বাদু ভেড়ার মাংসে আমিষের পরিমাণ গরু ও ছাগলসহ অন্যান্যের চেয়ে বেশি। ভেড়ার মাংসে জিংক, আয়রন এবং ভিটামিনের পরিমাণ বেশি এবং চর্বি ও কোলেস্টেরল কম। ভেড়া পালনে সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]