ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৪ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

কালনা সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 26

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কালনা পয়েন্টে মধুমতী নদীতে ৬ লেন বিশিষ্ট সেতুর পাইলিং শেষের পথে। শুরু হয়েছে সংযোগ সড়কের কাজ। এটি হবে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম দৃষ্টিনন্দন সেতু।
মধুমতী নদীর এই সেতু চালু হলে উভয় পাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১০টি জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এখানে সেতুর দাবিতে যুগ-যুগ ধরে বহু আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর নড়াইলের নির্বাচনি জনসভায় এ সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রæতি দিয়ে ছিলেন।    
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রæভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় সেতুর কাজ চলছে। ছয় লেনের এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে দ্রæতগতির ও দুটি লেনে কম গতির যানবাহন চলাচল করবে। সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৬৯০ মিটার এবং প্রস্থ ২৭ দশমিক ১০ মিটার। উভয় পাশে সংযোগ সড়ক হবে ৪ দশমিক ২৭৩ কিলোমিটার, যার প্রস্থ ৩০ দশমিক ৫০ মিটার। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ৯৫৯ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা। জাপান ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ সেতু হচ্ছে। জাপানের টেককেন করপোরেশন ও ওয়াইবিসি এবং বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড এ সেতুর যৌথ ঠিকাদার।
সরেজমিন দেখা গেছে, মধুমতী নদীর কালনা ফেরিঘাটের লাগোয়া দক্ষিণে হচ্ছে সেতুটি। চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। নদীর পূর্বপাড়ে সংযোগ সড়ক করতে বালু ভরাটের কাজ চলছে। চলছে নদী পাড়ের পিলার নির্মাণের কাজ। নদীতে চলছে পাইলিংয়ের কাজ। কয়েকজন জাপানি প্রকৌশলী সার্বক্ষণিক কাজ তত্ত¡াবধান করছেন। আছেন আবদুল মোমেন লিমিটেড ও সওজের প্রকৌশলীরা। এসব প্রকৌশলী জানান, সব মিলে প্রায় তিনশ জনবল এখানে কর্মরত রয়েছে। সেতু থেকে ১ কিলোমিটার দূরে কাশিয়ানী উপজেলার শঙ্করপাশা গ্রামে ঠিকাদার এবং সওজের কার্যালয় ও বাসভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
সওজের এ সেতুর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক সৈয়দ গিয়াস উদ্দিন জানান, ২০১৮ সালের ২৪ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু কর্তৃপক্ষের কার্যাদেশ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তখন থেকে ৩৬ মাস তথা ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঠিকাদারকে এ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে সময় সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। গত বছর ২৯ মার্চ থেকে মূল সেতুর পাইলিং কাজ শুরু হয়েছে। সেতুতে মোট ২৭২টি পাইলিংয়ের কাজ রয়েছে, তার মধ্যে কাজ বাকি রয়েছে ৩০টি। সেগুলোর কাজ দ্রæত এগিয়ে চলছে। সেতুতে মোট ১৪টি পিলারের ওপর বসানো হবে ১৩টি স্প্যান। ৫টি পিলার হবে নদীর মধ্যে। এর জন্য সেখানে লাগবে ১২৪টি পাইলিং। এর ১৮টি বাকি রয়েছে, সেগুলোরও কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
সওজ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সেতু চালু হলে নড়াইল, যশোর, বেনাপোল স্থলবন্দর ও খুলনা থেকে ঢাকায় যাতায়াতকারী পরিবহন মাগুরা, ফরিদপুর হয়ে যাতায়াতের পরিবর্তে কালনা হয়ে যাতায়াত করতে পারবে। এতে বেনাপোল-ঢাকা ও যাশোর-ঢাকার দূরত্ব ১১৩ কিলোমিটার, খুলনা-ঢাকার দূরত্ব ১২১ কিলোমিটার এবং নড়াইল-ঢাকার দূরত্ব ১৮১ কিলোমিটার কমবে। একইভাবে ঢাকার সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর যশোরের নওয়াপাড়া ও মোংলা বন্দর, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্য জেলার দূরত্বও কমে যাবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]