ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৬ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নির্বিঘœ ও আনন্দিত চিত্তের পরীক্ষাই এনে দেবে কাক্সিক্ষত সাফল্য
মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা অধ্যক্ষ, সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.০১.২০২০ ১০:৪৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18

২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা আমার শুভেচ্ছা নাও। তোমাদের পরীক্ষা খুবই কাছাকাছি সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমি দোয়া করি, আসন্ন পরীক্ষায় ভালো করার তোমাদের সর্বোচ্চ বাসনা পূরণ হোক। ভবিষ্যতের উজ্জ্বল শিক্ষা জীবনে প্রবেশদ্বার এসএসসি পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্ববহ। তাই কাক্সিক্ষত ফল অর্জনের লক্ষে পরীক্ষাটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে হবে। সবরকম জড়তা, ভয়, আশঙ্কা, উদ্বেগ ঝেড়ে ফেলে এসএসসি পরীক্ষাকে উৎসব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, পরীক্ষা শেষ করবে আনন্দে।
সাড়া বছর পড়েছ, বাকি দিনগুলো সেই পড়াই পুনরাবৃত্তি করবে। এ সময় নতুন কিছু পড়ার ঝামেলা না করাই বরং ভালো। পরীক্ষা সফল করা কিছুটা কৌশলেরও ব্যাপার। পাঠ প্রস্তুতির পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশলও পরীক্ষার সাফল্য সৃষ্টিতে ভ‚মিকা রাখে। পরীক্ষাকালীন সময়জ্ঞান মাথায় রাখা চাই, কোন প্রশ্নের উত্তর আগে হবে, কোনটির পরে, সেদিকেও সচেতন থাকা দরকার। আসন্ন পরীক্ষার জন্য বিষয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পরামর্শ এ ক্ষেত্রে ভালো ভ‚মিকা রাখতে পারে। সার্থক পরীক্ষার জন্য আনন্দিত ও নির্বিঘœ চিত্তের তুলনা নেই। পরীক্ষা দুশ্চিন্তা নয়, আনন্দোৎসব।
অভিভাবক বন্ধুরা, অবশ্যই আপনাদের পরীক্ষার্থী সন্তানদের পরীক্ষার ব্যাপারে সচেতন থাকবেন। এই সময়টি শাসনের নয়, তাদের যথাসম্ভব উৎসাহিত, উদ্দীপিত করবেন। শিক্ষার্থীকে অ্যাডমিটকার্ড, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, রুলার, বলপয়েন্ট পেন, পেন্সিল, ইরেজারসহ যাবতীয় শিক্ষা সরঞ্জাম গুছিয়ে দেবেন। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই পরীক্ষার্থীকে নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকুন। পরীক্ষার রুটিন অভিভাবকরাও প্রতিদিন দেখবেন, যাতে কোনো একটি পরীক্ষা বাদ যাওয়ার মত দুর্ঘটনা না ঘটে। পরীক্ষার সাফল্য অনেকটা পরিবারের
সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। পরীক্ষার্থীর মনে দুশ্চিন্তার উদয় হয়Ñ কিছুতেই অভিভাবকরা এমন কথা বলবেন না। তার ঘুম ও স্বাস্থ্যের প্রতি যথাসাধ্য খেয়াল রাখবেন। অবিরাম উৎসাহ, স্নেহ সম্ভাষণ পরীক্ষার্থীকে উৎফুল্ল রাখবে এবং তা পরীক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা মনের মতো হোক, তারা প্রত্যাশিত ফল অর্জন করুক, আন্তরিকভাবে কামনা করি।


সময় ব্যবস্থাপনায় মনোযোগী হতে হবে
মো. আতাউর রহমান  সিনিয়র শিক্ষক গেøাবাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনায় মনোযোগী হতে হবে। পরীক্ষার খাতায় যেন কোনো ধরনের কাটাকাটি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
শরীরিক সুস্থতার বিষয়ে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। পরীক্ষার আগের রাতে সব কিছু গুছিয়ে রাখতে হবে।
এসএসসি ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পরীক্ষার্থীদের ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং এবং ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ে ভালো করতে হলে গাণিতিক সমস্যায় বাড়তি মনোযোগী হতে হবে।
ফাইন্যান্স অংশে যে চারটি অধ্যায়ে গাণিতিক সমস্যা রয়েছে সেগুলোর ভালো করতে আয়ত্ব করতে হবে। তা না হলে, কাক্সিক্ষত ফলাফল আসবে নাও পারে। এগুলো হচ্ছে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ অধ্যায়।
ব্যাংকিং বিষয়ের সব অধ্যায় পড়তে হবে। বিশেষ করে নবম, একাদশ, দ্বাদশ, ত্রয়োদশ অধ্যায়ের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে। ব্যবসায় উদ্যোগের ক্ষেত্রে সবগুলো অধ্যায়ের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। হিসাববিজ্ঞান গাণিতিক সমস্যাসহ সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গাণিতিক সমস্যার ক্ষেত্রে মূলধন ও মুনাফা জাতীয় মূলধন, জাবেদা, খতিয়ান, নগদান বই, রেওয়ামিল, আর্থিক বিবরণী, পারিবারিক হিসাব অধ্যায়গুলো ভালোভাবে করতে হবে।


শিক্ষার্থীদের জন্য শুভ কামনা
অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক চেয়ারম্যান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ভবিষ্যতের পথ ঠিক করে দিতে এই পরীক্ষা বিশেষ ভ‚মিকা রাখে। তাই এই পরীক্ষা খুব ভালোভাবে দিতে হবে। তাই পরীক্ষা প্রস্তুতি নিতে হবে খুব ভালোভাবে। যেকোনো পরীক্ষা নিয়ে মানসিক চাপ কাজ করে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হবে।
ইতোমধ্যে যে প্রস্তুতি নিয়েছে; সেই প্রস্তুতিটা ভালোভাবে আয়ত্তে¡ নিয়ে আসতে হবে। খুব ঠান্ডা
মাথায় যেসব প্রশ্নগুলো ভালো পারে; সেগুলো উত্তর দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের কখনই পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া ঠিক হবে না। পরীক্ষা খুব স্বাভাবিক বিষয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে পরীক্ষা দিতে হয়।
পরীক্ষার আগের রাতেই প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, কলম, পেনসিল, ইরেজারসহ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সব উপকরণ গুছিয়ে রাখতে হবে। কোনোভাবেই এগুলো সঙ্গে নিতে ভুল হলে চলবে না। পরীক্ষার হলে নির্ধারিত সময়েই পৌঁছতে হবে। ভালো হয় পরীক্ষার আগের দিনে পরীক্ষা কেন্দ্রের অবস্থানটা জেনে নেওয়া। অবশ্যই পরীক্ষার খাতার কভার পৃষ্ঠায় সব তথ্য প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নির্ভুলভাবে লিখতে হবে। কোনোভাবেই ভুল তথ্য পূরণ করা যাবে না।
ফলাফল ভালো করতে হলে অবশ্যই পরীক্ষার খাতায় সুন্দরভাবে উপস্থাপনের বিকল্প নেই। অনেকেরই ধারণা বেশি লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। ধারণাটি ভুল। গঠনমূলক লেখা ছোট হলেও সম্পূর্ণ নাম্বার পাওয়া যায়। আর সে জন্য অবশ্যই প্রশ্ন বুঝে উত্তর দিতে হবে।
অভিভাবকদের কাছে আমাদের একটি অনুরোধ
থাকবে তারা যেন পরীক্ষা নিয়ে সন্তানকে কোনো চাপ না দেয়। তার সন্তান যতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছে তার ওপর ভর করে। সর্বশেষ যে কথাটি বলব, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনেক গুজব ও প্রতারণা হয়ে থাকে। কোনো শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক যেন গুজবে কান না দেয়। কোনো ধরনের প্রতারকের খপ্পরে না পড়ে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]