ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৮ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

কেমন আছেন আলতাফ ভাই?
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.০১.২০২০ ১০:৪৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 61

ঢাকা বিশ^বিদালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন আলতাফ মাহমুদ। তার সাংবাদিকতার শুরু সত্তরের দশকে দৈনিক স্বদেশ-এর মাধ্যমে। এরপর সাপ্তাহিক খবর, দৈনিক খবর, সাপ্তাহিক চিত্রবাংলা, দৈনিক কিশানসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষ দৈনিক ডেসটিনির নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বড় বড় সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করেছেন তিনি। তার ছেলের কাছে শোনাÑ ঘরোয়া আলোচনায় একবার আলতাফ ভাই বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি প্রতিবেদক হিসেবে সরকারি অনুষ্ঠানগুলো কাভার করতেন। একদিন এক অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধু তাকে ডেকে নিয়ে এরপর থেকে সামনের সারিতে থাকার কথা বললেন। তাৎক্ষণিক তিনি কিছু বলেননি। তারপরও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সম্মান দেখিয়ে পেছন সারিতেই তিনি বসতেন। চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের জনসভায় শেখ হাসিনার ওপর গুলিবর্ষণসহ অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী ছিলেন আলতাফ মাহমুদ। ১৯৭৫ সালের পর গণমাধ্যম যেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপতে ভয় পেত, সেখানে আলতাফ ভাই সাহস করে সাপ্তাহিক খবরে বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রকাশ করেছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কখনও নিজেকে সেভাবে জাহির করতেন না আলতাফ ভাই। চলাফেরা করতেন একেবারে সাধারণভাবে। মানে গাড়ি নেই, বাড়ি নেই। তাইতো মৃত্যুর পর ব্যাংকে তার অ্যাকাউন্টে ছিল মাত্র ১২ হাজার ১৪৮ টাকা ৬০ পয়সা। ওটাই ছিল তার জমানো টাকা। সাধারণ ছিলেন বলেই আমাদের মতো সাধারণ সাংবাদিকদের সঙ্গে তার দেখা হতো, কথা হতো। কেমন আছেন আলতাফ ভাই জিজ্ঞেস করতেই হাসি দিয়ে বলতেন ভালো, তুমি...?
শেষ নির্বাচনের আগে ভোট চাইতে এলে আলতাফ ভাইকে স্পষ্ট করেই বলেছিলামÑ কেন তাকে ভোট দেব। তাকে ভোট দিয়েছিলাম। আমার মতো অনেক সাধারণ সাংবাদিকের ভোটে তিনি জয়ীও হয়েছিলেন। দায়িত্ব বুঝে নিয়ে পরবর্তী সময়ে কাজও শুরু করেছিলেন।  শেষবার তার সঙ্গে কথা হয় প্রেসক্লাবে বসে। দুপুরের খানা খাচ্ছিলেন। খাওয়ার ফাঁকে কিছু বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম। মনোযোগ দিয়ে তিনি কথাগুলো শুনছিলেন। ওই সময় তার পরিবারের কথাও উঠে এলো। খুব সরলভাবে তার দিনযাপনের কথা বললেন। ছেলেমেয়ের কথা বললেন। তার সুখী জীবনের কিছু কথা শোনালেন। চাকরি নেই, কীভাবে চলেন? জিজ্ঞেস করতেই হেসে বললেন, টক শোর টাকা দিয়ে। বললেন, কয়েক মাসের টাকা জমিয়ে একবারে নিই। যাতে টাকাটা কাজে আসে। তার হতাশার কথাও শুনিয়েছিলেন। সেটা নাইবা বললাম। নেতা নয়, বড়ভাই হয়েই যেন কথাগুলো তিনি বলছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা একান্তে তার সঙ্গে কথা বলেছি। বড় মাপের একজন সাংবাদিক নেতা হয়েও আমার মতো অখ্যাত এক সাংবাদিকের কথা সেদিন শুনেছিলেন। সেই কথা বলার সময়টুকু আজও মনে দাগ কেটে আছে। প্রেসক্লাবে গেলে, ওই স্থানটি দেখলে মনটা ভারী হয়ে ওঠে।
২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি মারা যান সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদ। মৃত্যুর দুই মাস আগে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন। বিএফইউজের আওয়ামী লীগ সমর্থিত অংশের সভাপতি হওয়ার আগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৯১ সালে অবিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
পাঁচবার ডিইউজের নির্বাচিত সভাপতি হয়েও কোনো অহংবোধ ছিল না তার। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটিকে আমরা কতটুকু চিনতে পেরেছি? তথাকথিত আদর্শের বুলি নয়। বাস্তবিকই একজন আদর্শ ও নীতিপরায়ণ সাংবাদিক নেতা হিসেবে আলতাফ ভাই যুগ যুগ ধরে আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

বোরহান বিশ^াস, খিলগাঁও, ঢাকা




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]