ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৮ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ফাগুন চলে যাওয়ার আট মাস
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.০১.২০২০ ১০:৪৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 25

ফাগুন চলে গেছে আট মাস হয়ে গেল। অনেকটাই দীর্ঘসময়, অনেকে হয়তো ভুলে যেতেই বসেছেন। তাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য মূলত এই লেখা নয়। এটা নিজের বুকের ভার কমানোর অযথা চেষ্টা বলতে পারেন। একজন পিতার আত্মকথন। ফাগুন, মানে ইহসান ইবনে রেজা, ফাগুন রেজা। একজন মেধাবী, সৎ ও প্রতিশ্রæতিশীল গণমাধ্যমকর্মী। যাকে আজ ‘পাস্ট টেন্সে’ লিখতে হয়। ফাগুন আজ অতীত। সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে। কিন্তু বাবার বুকে সে এখনও বর্তমান। খুন হওয়া সন্তানের ফরিয়াদি পিতার কাছে কোনোকিছুই অতীত হয় না। একজন গণমাধ্যমকর্মীকে গুপ্তঘাতকেরা গুম করার পর খুন করে ফেলে গেল রেললাইনের ধারে, এমন দৃশ্য সয়ে নেওয়া তারই গণমাধ্যমকর্মী পিতার কাছে কতটা সম্ভব? কার কাছে রাখি এমন প্রশ্ন! জানি, ফাগুন ফিরে আসবে না। এ প্রতীক্ষা ফাগুনের ফিরে আসার নয়, অন্য ফাগুনদের বাঁচানোর। অপেক্ষা বিচারের। যাতে আর ফাগুনেরা ঝরে না পড়ে। যাতে দেশ না হারায় অমিত সম্ভাবনার উৎসগুলোকে। ফাগুনের পরে আরও ফাগুন ঝরে গেছে, পড়ছে। ক্রমাগত রচিত হচ্ছে তারুণ্যের শোকগাথা। আট মাস, অনেকের কাছেই দীর্ঘ সময়। কিন্তু পিতার কাছে কালকের কথা। কিংবা একটু আগের। এইতো ছিল সে। তার বই পড়ে আছে, মোড়ানো পাতা। যেন একটু পরেই এসে পড়বে বাকিটা। ইস্ত্রি করা শার্ট আলমিরায়, হ্যাঙ্গারে ঝোলানো প্যান্ট। এই তো বেরোবে সে। দৃপ্ত পা রাখবে রাজপথে, হাঁটবে আপন গন্তব্যে। বিশ^াসে দৃঢ়, প্রত্যয়ে নির্ভয়, এমন ফাগুনেরা হারায় কি কখনও? পথরেখা রেখে যায়, অন্যরা যেন সে পথে নামে। আমাদের ভেঙে পড়া সমাজ চিন্তায় এমন বিশ^াস আর প্রত্যয় বড় দরকার আজ।
ফাগুনের প্রোফাইল সংরক্ষিত করেছে ফেসুবক। আমি ঢুকি না, সাহস হয় না। ওর করা কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর দেওয়ার ব্যর্থতা নিজেকে বিপর্যস্ত করে তোলে। ইদানীং ওর ছবির সামনে দাঁড়াতেও সাহস পাই না। ওর ঝকঝকে চোখের জিজ্ঞাসা আমাকে লজ্জিত করে। মাথা নিচু হয়ে যায় ব্যর্থতায়। অথচ যে ব্যর্থতার দায় সমাজের। নির্লজ্জ সে সমাজের লজ্জা বয়ে চলি আমি, এক অসহায় পিতা। থাকি নতমুখে, কুণ্ঠিত এক মানুষ, ‘ন-মানুষে’র ভিড়ে।
দুই
অনেকে সান্ত¡না দেন, সাগর-রুনির প্রসঙ্গে তুলে। আমার বিস্ময় আরও বাড়ে, কী অবলীলায় বলে যায় তারা সেই দম্পত্তির বিচারহীন হত্যাকাÐের কথা! এ যে তাদেরই ব্যর্থতা, একবার কি ভেবে দেখেন তারা! কী আশ্চর্য অনুভ‚তিহীনতা! মেঘের সামনে দাঁড়াতে তাদের কেউ কি আমার মতন লজ্জিত হন না? সাগর-রুনির সন্তান যে মেঘ। মেঘ কি বয়ে চলে না আমার মতন সমাজের ব্যর্থতার লজ্জা? এই প্রশ্নই বা কাকে করি! যাদের উত্তর দেওয়ার কথা, তারা তো হারিয়েছেন বিস্মরণে কিংবা স্মরণের আনুষ্ঠানিকতায়।
একজন পিতার অস্তিত্ব থাকে সন্তানে। তাকে হারানো মানে নিজ অস্তিত্ব হারানোর শূন্যতা। অনেকটা নিজের মৃত্যুকে প্রতিক্ষণ নিজ জ্ঞানে দেখা। আবার সেই সন্তান, যে অমিত সম্ভাবনাময়। যার কাছে শুধু পিতা হিসেবে নয়, পিতার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়ার কথা ছিল এদেশের। বিদেশে যাওয়ার শত সুযোগ যে অবলীলায় পায়ে ঠেলেছে নিজ দেশে থাকার জন্য। অথচ সেই দেশই তাকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো। আহা, ফাগুন!

কাকন রেজা, গণমাধ্যমকর্মী




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]