ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৮ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মিয়ানমারকে গণহত্যা বন্ধের নির্দেশ
উল্লেখযোগ্য অর্জন, মানবতার জয়
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.০১.২০২০ ১০:৪৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 21

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার অন্তর্বর্তীকালীন রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে)। ২৩ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের রাজধানী দ্য হেগে আইসিজের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাভি আহমেদ ইউসুফ সর্বসম্মতিক্রমে রাখাইনে এখন যে রোহিঙ্গারা আছেন, তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন। সময়ের আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালত অন্তর্বর্তীকালীন চারটি আদেশও দিয়েছেন। আদালত যে চারটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে, গণহত্যার দায় নিতে হবে মিয়ানমারকে, রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে হবে, রোহিঙ্গা নির্যাতনের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং চার মাসের মধ্যে নিধনযজ্ঞ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালতের রায়ে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় মিয়ানমারের অসহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি দেশটির স্বাধীন তদন্ত কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগেও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা দশ লাখেরও বেশি। রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো মিয়ানমারের এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করেছিল গাম্বিয়া। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যখন ক্লান্ত, মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে বাধ্য করানোর কোনো উদ্যোগ যখন কাজে আসছে না, তখন রোহিঙ্গাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার দাঁড়ানো নিশ্চিতভাবেই সাহসী পদক্ষেপ এবং মানবতার পক্ষে অবস্থান। ছোট দেশ গাম্বিয়ার এই মহৎ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তারা মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে যে ভ‚মিকা রেখেছে, তা চিরস্মরণীয়। একইভাবে গাম্বিয়ার আর্জিতে শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক আদালত যে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন সে রায়ে মানবতার জয়ই প্রতিফলিত হয়েছে। রোহিঙ্গা গণহত্যার সঙ্গে মিয়ানমার যে জড়িত, আদালতের রায়ে সে সত্যটি প্রমাণ হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের চালানো গণহত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে উদাসীন ভ‚মিকা ও নীরব ভ‚মিকা পালন করছে, আদালতের রায়ে সেই নিরবতার বিপক্ষেও মানবিক চেতনার উদয় হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সসম্মানে নিজ দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ গাম্বিয়া, ওআইসি, রোহিঙ্গা এবং অবশ্যই বাংলাদেশের জন্যও বড় অর্জন। বিশ^ আদালতে মিয়ানমার যে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে, আদালতের কাছে মিয়ানমার কর্তৃক চালানো গণহত্যা যে প্রমাণ হয়েছে, এ একটি ইতিবাচক প্রাপ্তি। তবে আদালতের আদেশের পরে, আমাদের নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে
থাকার সুযোগ নেই। বরং আমাদের ক‚টনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে। বরং এই রায়ের পর আমাদের আরও সতর্কতার সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে পেতে জোরালো ভ‚মিকা রাখতে হবে। মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা নিধনকে গণহত্যা অভিহিত করেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা চালাতে হবে, যাতে করে আর কোনো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিতে না পারে। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া, তাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ মিয়ানমারকেই নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব মিয়ানমারের। ইতঃপূর্বে তারা সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরার দু’দফা উদ্যোগ ভেস্তে গেছে মিয়ানমারের অসহযোগিতার কারণে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে ফেরার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে মিয়ানমার কিছুই করেনি। এই নিন্দনীয় ও অমানবিক বিষয়টিও বিশ^বাসীর কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। আমাদের এখন একটাই চাওয়া, আর সেটা হলো, নিরাপদে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। তাতে তারাও বাঁচে, আমরাও বাঁচি।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]