ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ইস্তেখারা নামাজের পরিচয় ও নিয়ম
মাওলানা গোলাম হাসিব
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.০১.২০২০ ১১:৫৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 277

‘ইস্তেখারা’ অর্থ কোনো বিষয়ে কল্যাণ প্রার্থনা করা। বিশেষ পদ্ধতিতে নফল নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণকর বিষয় প্রার্থনা করাই হলো ‘সালাতুল ইস্তেখারা’ বা ইস্তেখারা নামাজ। মানুষ নানা সময়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায় দুটি বা একাধিক বিষয়ের মধ্যে কোনটি গ্রহণ করবে বা কোনটির পক্ষে সিদ্ধান্ত দেবে। এই সিদ্ধান্তহীনতা দূর করতেই নবীজি (সা.) ইস্তেখারা বা কল্যাণ প্রার্থনার নামাজ শিক্ষা দিয়েছেন; এই নামাজ আদায় করলে আল্লাহ তার মনের সিদ্ধান্তকে এমন জিনিসের ওপর স্থির করে দেবেন যাতে তার উপকার রয়েছে।

ইস্তেখারা নামাজ আদায়ের জন্য স্বাভাবিকভাবে পবিত্রতা অর্জন করা। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা। সালাম ফিরিয়ে আল্লাহ তায়ালার বড়ত্ব ও মর্যাদার কথা মনে জাগ্রত করে একান্ত বিনয় ও নম্রতার সঙ্গে আল্লাহর প্রশংসা ও নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পেশ করা। তারপর ইস্তেখারার দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কায়মনবাক্যে প্রার্থনা করা।

ইস্তেখারার দোয়া : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসতাখিরুকা বিইলমিকা ওয়া আসতাকদিরুকা বি-কুদরাতিকা ওয়াআসআলুকা মিন ফাদলিকাল আজিম, ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু, ওয়া তা’লামু ওয়ালা আ’লামু ওয়া আনতা আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা’লামু আননা হাজাল আমরা খাইরুন লি ফি-দ্বীনি ওয়া মায়াশি ওয়া আ’কিবাতি আমরি, ফাকদিরহু লি, ওয়া-ইয়াসসিরহু লি, ছুম্মা বা-রিকলি ফিহি, ওয়া ইন কুনতা তা’লামু আন্না হাজাল আমরা শাররুন লি ফি-দ্বীনি ওয়া মায়াশি ওয়া আ’কিবাতি আমরি ফাসরিফহু আন্নি ওয়াসরিফনি আনহু ওয়াকদির লিয়াল খাইরা হাইসু কানা ছুম্মা আরদিনি বিহি।’

দোয়ার অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কল্যাণ চাই আপনার ইলমের সাহায্যে। আপনার কাছে শক্তি কামনা করি আপনার কুদরতের সাহায্যে। আপনার কাছে অনুগ্রহ চাই আপনার মহা অনুগ্রহ থেকে। আপনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনি সর্বজ্ঞ আমি কিছুই জানি না। আপনি সব গোপন বিষয় পূর্ণ অবগত। হে আল্লাহ! আপনার ইলমে এ কাজ (যে বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি, তা) যদি আমার দ্বীন আমার জীবন-জীবিকা ও কর্মফলের দিক থেকে কল্যাণকর মনে হয়, তবে তা আমাকে করার শক্তি দান করুন। পক্ষান্তরে আপনার ইলমে এ কাজ (যে বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি, তা) যদি আমার দ্বীন আমার জীবন-জীবিকা ও কর্মফলের দিক থেকে অকল্যাণকর হয়, তবে আমার ধ্যান-কল্পনা এ কাজ থেকে ফিরিয়ে নিন। তার খেয়াল আমার অন্তর থেকে দূরীভ‚ত করে দিন। আর আমার জন্য যেখানেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে এর ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে এরই ওপর সন্তুষ্ট করে দিন।’ (বুখারি : ৬৮৪১)

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের কাজকর্মের ব্যাপারে ইস্তেখারা করার তরিকা এমন গুরুত্বসহকারে শিক্ষা দিতেন, যেমন গুরুত্বসহকারে আমাদের কোরআন মজিদের কোনো সুরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজ করার ইচ্ছা করে আর সে তার পরিণতি সম্পর্কে চিন্তিত হয়, তখন তার এভাবে ইস্তেখারা করা উচিত।’ (তিরমিজি : ৪৮০)

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেছেন, ‘এ দোয়ার যেখানে ‘হাজাল আমরা’ শব্দটি আসবে, সেখানে যে কাজটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাওয়া হচ্ছে সেটি মনে মনে তা উল্লেখ করা। পুনরায় সে বিষয়টি ভেবে নেওয়া। দোয়া শেষ করে কারও সঙ্গে কথা না বলে কেবলামুখী হয়ে ঘুমিয়ে পড়া। ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর মন যেদিকে তথা যে বিষয়ে সায় দেবে বা যেদিকে আগ্রহী হয়ে উঠবে, সেটিই ফলাফল মনে করা এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া।’ (তুহফাতুল আলমায়ি : ২/৩৩৮)

ইস্তেখারার আমল করার জন্য শরিয়তে নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। নামাজের মাকরুহ তিন ওয়াক্ত ছাড়া রাত-দিনের যেকোনো সময় তা করা যায়। তবে রাত যত গভীর হয় আল্লাহর রহমত তত বেশি দুনিয়ার আসমানের নিকটবর্তী হতে থাকে। তাই কল্যাণ প্রার্থনার এ আমল রাতে করলে কল্যাণ অনেক বেশি লাভ হবে ইনশাল্লাহ।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]