ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সেই ফিলিস্তিনই চ্যাম্পিয়ন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 9

শিরোপার স্বপ্ন দেখেছিল বুরুন্ডি; বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া দলটির সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তাদের ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে ফিলিস্তিন। দলটি গড়েছে ইতিহাস। প্রথম দল হিসেবে পরপর দুবার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। ইতিহাস গড়া জয়ের পর ফিলিস্তিন দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশনেত্রীর হাত থেকেই রানার্সআপ ট্রফি বুঝে নেয় বুরুন্ডি।
র‌্যাঙ্কিংয়ে ফিলিস্তিন এগিয়ে থাকলেও এবারের আসরে পারফরম্যান্স বিচারে বুরুন্ডিকেই ফেবারিট ভাবা হচ্ছিল। ফুটবলবোদ্ধাদের বেশিরভাগই আফ্রিকার এ দলটির হাতেই শিরোপা দেখেছিলেন। কিন্তু শনিবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অন্য এক ফিলিস্তিনকেই দেখা গেল। এদিন শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল উপহার দেয় তারা। লিড নেয় ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই। অধিনায়ক সামেহ মারাবার জোগান দেওয়া বল পেয়ে যান মোহামেদ দারউইশ। এই মিডফিল্ডারের পা ছুঁয়ে বল যায় খালেদ সালেমের কাছে। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় বুরুন্ডির জাল কাঁপান এই ফরোয়ার্ড (১-০)।
শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আরও চাপ বাড়ায় চ্যাম্পিয়নরা। দাপুটে ফুটবলের উপহারটা প্রথমার্ধেই পায় তারা। বিরতিতে যায় ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। ফিলিস্তিনির ব্যবধান দ্বিগুণ হয় দশম মিনিটে। মিডফিল্ডার মাহমুদ আবু ওয়ারদার কর্নার থেকে মুসা সালিমের শট ফিরিয়ে দেন প্রথম দফায় ফিরিয়ে দেন বুরুন্ডির গোলরক্ষক। কিন্তু পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি দলকে। ফিরতি বল পেয়ে যান ডিফেন্ডার ইওয়াই ইয়াজান। তার পাস ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণের জটলা এড়িয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মারাবা (২-০)।
শিরোপার লড়াইয়ে শুরুতেই দুই গোল হজম করায় আরও এলোমেলো হয়ে যায় বুরুন্ডির খেলোয়াড়রা। তাতে প্রথমার্ধে হজম করে আরও একটি গোল। নিজেরা গোলের কোনো সুযোগ তৈরি করার আগেই তৃতীয় গোল হজম করে বসে বুরুন্ডি। ২৬ মিনিটে গোলদাতা হতে পারতেন ফরোয়ার্ড খালেদ সালেম। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য, শট ফিরে আসে পোস্টে আঘাত হেনে। তবে হতাশা হতে হয়নি ফিলিস্তিনকে। ফিরতি বলে ঠিকই জালে জড়িয়ে দেন আরেক ফরোয়ার্ড লেইথ খারউব (৩-০)।
অবশেষে ৩৯ মিনিটে গোল করার ভালো একটি সম্ভাবনা তৈরি করে বুরুন্ডি। ডিফেন্ডার জাবনজিয়া ব্লানচারড বল বাড়িয়েছিলেন জসপিন সিমিরিমানার উদ্দেশ্যে। যা দখলে নিলেও সফল হননি এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ জুড়ে জসপিনের ব্যর্থতার কৃতিত্বটা চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণভাগের। আসরে দুই হ্যাটট্রিক করা বুরুন্ডির ফরোয়ার্ড নিয়ে ভালোভাবেই ছক কষেছিল ফিলিস্তিন। এতে ফাইনালে জসপিন ছিলেন বোতলবন্দি। তাই দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলে খেলতে নামে বুরুন্ডি। সফলতাও আসে দ্রুত। তবে ৫২ মিনিটে হাতছাড়া হয় গোলের সুবর্ণ সুযোগ। বাঁ প্রান্ত থেকে সতীর্থদের লক্ষ্যে দারুণ এক পাস বাড়ান জসপিন। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে বলের নিয়ন্ত্রণও নেন গ্যাসঙ্গ বেনজামিন। কিন্ত এই ফরোয়ার্ড শট নেন ফিলিস্তিন গোলরক্ষক তৌফিক আবু হামাদ বরাবর!
অবশেষে ৬০ মিনিটে কাটে বুরুন্ডির গোলখরা। জসপিনের কর্নারে বল নিয়ে সতীর্থের উদ্দেশ্যে পাস দেন ব্লানচার্ড। বল পেয়ে ছোট বক্স থেকে ডান পায়ের শটে ফিলিস্তিনের জালে বল পাঠান ডিফেন্ডার ডিকুয়ামানা (৩-১)। শনিবার শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এটাই প্রথম গোল হজমের ঘটনা ফিলিস্তিনের। এর আগে গ্রুপপর্ব এবং সেমিফাইনালে মোট ৩ ম্যাচের একটিতেও চ্যাম্পিয়নদের জাল কাঁপাতে পারেনি প্রতিপক্ষ দলগুলো। উল্টো ওই ম্যাচগুলোতে ফিলিস্তিনের মোটের গোলের সংখ্যা ছিল ৫।
অর্থাৎ শিরোপা জিততে না পারলেও জাল অক্ষত রেখে ফিলিস্তিনকে চ্যাম্পিয়ন হতে দেয়নি বুরুন্ডি। যদিও ম্যাচের ইনজুরি সময়ে আরেকটি গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল তারা, তবে জসপিনের ফ্রি-কিক বোকা বানাতে পারেনি গোলরক্ষককে। এরপর বেজে উঠে শেষ বাশি। তাতে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে ফিলিস্তিন গোল্ডকাপ মিশন শেষ করে চ্যাম্পিয়ন হয়ে।












সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]