ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

নিষ্প্রভ ব্যাটিংয়ে টাইগারদের দুর্ভোগ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18

খেলা যখন উপমহাদেশের মাটিতে, তখন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে ওঠার তেমন কোনো ঝামেলা নেই। বিপিএলের সুবাদে বিগত সময়ে ক্রিকেটাররাও টি-টোয়েন্টিতেই মজে ছিলেন। তাই এই ফরম্যাটটার সঙ্গেও মানিয়ে নেওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। কিন্তু এক যুগ পর পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে নেমে টিম বাংলাদেশ যেন কোনোকিছুই ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারছে না! এরই মধ্যে দুই ম্যাচ হেরে টি-টোয়েন্টি সিরিজটাও হাতছাড়া করে ফেলেছে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের পারফরম্যান্স রীতিমতো হতাশাজনক। ব্যাটসম্যানদের নিষ্প্রভতা দলকে ভোগাচ্ছে আগাগোড়া।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের উইকেট এমনিতেই কিছুটা মন্থর। তবে সেখানে রান করা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু বিপিএল মাতিয়ে যাওয়া টাইগার ব্যাটসম্যানরা সেটাকে রীতিমতো অসম্ভবই বানিয়ে ফেলেছেন। শুক্রবার প্রথম ম্যাচে ১৪১ রানেই থেমেছিল দল, শনিবার করতে পারল আরও পাঁচ রান কম, ১৩৬। তামিম ইকবাল একপ্রান্ত আগলে দারুণ এক হাফসেঞ্চুরি না হাঁকালে ১০০ করতে পারত কি না অতিথিরা, সংশয় আছে সেটা নিয়েও। অথচ আগের দিনের তুলনায় এদিনের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা হলেও সহায়ক ছিল। সেখানে টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা খেললেন ওয়ানডে মেজাজে!
প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের উইকেট নিয়ে সমালোচনা হয়েছে বেশ। টাইগার দলপতি মাহমুদউল্লাহ থেকে শুরু করে পাকিস্তানি সাবেকরাও কড়া সমালোচনা করেছেন লাহোরের উইকেটের। এক দিন পরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলা হলো ভিন্ন উইকেটে। হালকা ঘাস থাকলেও উইকেট যে বোলারদের খুব বেশি সাহায্য করছিল তা নয়। চাইলেই ওই উইকেটে বড় রান করা সম্ভব। তামিম সেটা দেখিয়েছেন। পরে দেখিয়েছেন দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান বাবর আজম আর মোহাম্মদ হাফিজ। তাদের ওপর কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেননি টাইগার বোলাররা। অথচ পাকিস্তানি বোলারদের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা খাবি খেলেন।
শনিবার যে উইকেটে খেলা হয়েছে তা কোনোভাবেই ১৩৬ রানের উইকেট ছিল না। সিরিজ হারের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে টাইগার দলপতি মাহমুদউল্লাহ তাই এবার আর উইকেটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি। বললেন, ‘আমরা ম্যাচ ও সিরিজ হেরে হতাশ। ব্যাটিংয়ে আমরা ভালো করতে পারিনি। এই উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল।’ হারের জন্য ব্যাটসম্যানদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মাহমুদউল্লাহ, ‘তামিম ছাড়া কেউই ভালো করেনি। আমাদের ১৫০-১৬০ রান করা দরকার ছিল। এই রানটা আমরা করতে পারলে ওদের আটকানো যেত।’
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেভাবে ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, সেটাতে কোনোভাবেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আমেজ ছিল না। তারা যেন ওয়ানডে খেলছেন! রান তুলেছেন মন্থরগতিতে। অমন ব্যাটিংয়ের পর প্রশ্ন উঠেছে ব্যাটসম্যানদের রান করার ইচ্ছে নিয়েও। দলপতি মাহমুদউল্লাহ প্রশ্নটি পাশ কাটিয়ে গেছেন। বিষয়টা দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বোলারদের প্রশংসাই করলেন তিনি, ‘রান করার চেষ্টা তো ছিলই। কিন্তু পাকিস্তানি বোলারদের কৃতিত্ব দিতে হয়। ওরা ভালো গতিতে ভালো লাইন-লেংথে বল করেছে।’
আগামীকাল একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচটি খেলতে নামবে টাইগাররা। ওই ম্যাচ হারলে ধবলধোলাই হয়ে ফিরতে হবে। এরপরও মাহমুদউল্লাহ আভাস দিলেন, প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া তরুণদের বাজিয়ে দেখা হতে পারে শেষটায়, ‘পরিবর্তন আসবে কি না নিশ্চিত না। তবে আমরা কিছু তরুণ ক্রিকেটারকে খেলিয়ে দেখতে পারি শেষ ম্যাচে। যাই করি না কেন, শেষ ম্যাচে আমাদের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে জেতার চেষ্টা করতে হবে।’
জাতীয় দলের জার্সিতে নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদদের পাকিস্তানের মাটিতে ম্যাচ খেলার অপেক্ষাটা ঘুচে যেতে পারে আগামীকাল।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]