ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৬ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বিয়ের পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে লক্ষণীয়
মুফতি আহসান শরিফ
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 69

বিয়ের প্রধান দুই পক্ষÑ পাত্র ও পাত্রী। মহর ধার্য করে সাক্ষীর উপস্থিতিতে পাত্র-পাত্রীর ইজাব-কবুলের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় বিয়ে। বিয়ে মানে সারা জীবনের জন্য পরস্পরে একজন আরেকজনের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। সুখে-দুঃখে পাশাপাশি থেকে জীবন পার করা। এমনকি দুনিয়ার স্বামী-স্ত্রী পরকালেও একত্রে থাকতে পারবেÑ যদি দুজনই দুনিয়ায় ভালো আমল করতে পারে এবং আল্লাহর নেয়ামত জান্নাত লাভ করতে পারবে। তাই বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া চাই। ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক যেসব গুণ নারী-পুরুষের থাকা দরকার সেসব আছে কি নাÑ বিয়ের আগেই তথ্য নেওয়া চাই। এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে উভয় পক্ষের অভিভাবককে; যারা নিজেদের সন্তানের জন্য উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রী খোঁজে বের করবেন। নিচে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরা হলো।
দ্বীনদার পাত্রী নির্বাচন
কারও সঙ্গে আত্মীয়তার জন্য সাধারণত অর্থ-সম্পদ, এবং পদমর্যাদার অধিকারী মানুষের দিকে আমাদের প্রথম দৃষ্টি পড়ে। এরপর সৌন্দর্য, পড়াশোনা, বংশমর্যাদা ইত্যাদি। মানুষ বুঝতেই চায় না অর্থ-সম্পদ এবং পদমর্যাদা এগুলো অস্থায়ী বিষয়। কেবল সম্পদ হলেই সুখ খুঁজে পাওয়া যায় না! এই আছে, এই নেই। মূলত ধর্মপরায়ণতা, বংশ মর্যাদা এগুলোই মানুষের শান্তি ও স্বস্তির মাধ্যম।
ইসলামে পাত্রী নির্বাচনে চারটি গুণের প্রতি লক্ষ করতে বলা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘চারটি গুণ দেখে পাত্রী নির্বাচন করা হয়Ñ ১. সম্পদ। ২. বংশমর্যাদা। ৩. সৌন্দর্য এবং ৪. দ্বীনদারিতা। তবে লাভবান হতে চাইলে, বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে চাইলে দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দাও। নির্বুদ্ধি হয়ে নিজেকে ধ্বংস করো না।’ (বুখারি ও মুসলিম সূত্রে মেশকাত : ২৯৪৮)
সৎ নারী উত্তম সঙ্গী
জীবনসঙ্গী হিসেবে সৎ ও আদর্শবান পাত্রী নির্বাচন করা। হজরত আবু উমামাহ (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তাকওয়া বা আল্লাহভীতি ব্যতীত সৎ ও আদর্শ স্ত্রী অপেক্ষা আর কোনো নেয়ামত মুমিন লাভ করেনি। সৎ ও আদর্শ নারীর পরিচয় হলো যে স্ত্রী স্বামীর আদেশ পাওয়া মাত্রই পালন করে। স্বামী স্ত্রীর দিকে তাকালে তাকে ভালোবাসার সুন্দর ও মিষ্টি হাসি দিয়ে খুশি করে। কোনো বিষয়ে শপথ করলে স্বামীকে শপথ থেকে মুক্ত করে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের এবং স্বামীর সম্পদের ব্যাপারে কল্যাণ কামনা করে।’ (ইবনে মাজাহ সূত্রে মেশকাত : ২৯৬১)
দ্বীনদার পাত্রকে প্রাধান্য
দ্বীনদার পাত্রী নির্বাচনের মতো পাত্র নির্বাচনেও দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দেওয়া। অর্থ-সম্পদ কিংবা চাকরি-পদমর্যাদা নয়, ইসলাম দ্বীনদার এবং উত্তম আদর্শবান পাত্রকে প্রাধান্য দিতে বলেছে। আদর্শবান যুবক দ্বীনদারির কারণে গুনাহের মতো ক্ষতিকারক বিষয় থেকে দূরে থাকে। চোখের, কানের এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সবরকম গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। এই বেঁচে থাকা বিয়ের পর তার এবং স্ত্রীর সুখের কারণ হয়। যে কারণে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘দ্বীনদারী, আদর্শ ও চারিত্রিক দিক থেকে পছন্দনীয় পাত্র প্রস্তাব প্রেরণ করলে তোমাদের পাত্রীকে তার সঙ্গে বিয়ে দাও। এরকম না করলে, অর্থাৎ উপযুক্ত আদর্শ পাত্র পাওয়ার পরও বিয়ে না দিলে সমাজে বিরাট ফেৎনা ও বিপর্যয় দেখা দেবে।’ (তিরমিজি : ১০৮৪; ইবনে মাজা : ১৯৬৭)
অধিক সন্তান-সম্ভবা পাত্রী
অধিক সন্তান-সম্ভবা রমণী পাত্রী হওয়ার অধিক উপযুক্ত। এ জন্য বিয়ের আগে পাত্রীর ফুফু, বড় বোন এবং পারিবারিক খোঁজ নিলেই জানা যাবে তার প্রজনন ক্ষমতা। দেখতে হবে পাত্রী শিশু পালনে আন্তরিক কতটুকু। বাচ্চাদের আদর স্নেহের অভ্যাস আছে কি না। এসব গুণের অধিকারী নারীকে বিয়ের জন্য উৎসাহিত করেছেন প্রিয় নবী। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা স্নেহপরায়ণ ও অধিক সন্তান প্রসবকারিণী রমণীকে বিয়ে করো। কেননা, কেয়ামতের ময়দানে আমি উম্মতের দিক দিয়ে সংখ্যাধিক্যের গর্বকারী হব।’ (আবু দাউদ : ২০৫০; নাসায়ি : ৩২২৭)
লেখক : প্রিন্সিপাল, মাদ্রাসাতুল বালাগ
পশ্চিম হাজারীবাগ, ঢাকা
বিয়ে সংক্রান্ত আরও পড়ুন আগামী রোববার










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]