ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৬ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নামাজে সাহাবাদের মনোযোগ
মাওলানা শোয়াইব রিফাত
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 63

নামাজ পড়া মানে মহান আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে কথোপকথনের সৌভাগ্য লাভ করা। দুনিয়ার রাজা-বাদশার সামনে কথা বললে মানুষ কতটা জড়োসড়ো হয়ে থাকে! সে তুলনায় দুনিয়ার বাদশারও বাদশা আকাশ-জমিন, চন্দ্র-সূর্য, দুনিয়া-আখেরাত সবকিছুর বাদশা মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়ালে কেমন হওয়া চাই আমাদের অবস্থা! অবশ্যই ভয়-ভীতি ও মনোযোগের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে হবে। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন সে যেন তার প্রতিপালকের সঙ্গে কথোপকথন করে!’ (বুখারি : ৪১৩)। সাহাবারা নবীজির কাছ থেকে নামাজ আদায়ের পূর্ণ স্বাদ ও তৃপ্তি লাভের উপায় শিখেছিলেন। ঘরে, বাইরে, যুদ্ধের ময়দানে সর্বক্ষেত্রে এর প্রমাণ দিয়েছেন তারা। এমনকি শত্রুর নিক্ষিপ্ত তীর শরীরে বিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও নামাজে পূর্ণ খুশু বজায় রাখতেন।
হজরত তালহা (রা.) ছিলেন একজন বিখ্যাত সাহাবি। একবার নামাজের প্রতি মনোযোগে ঘাটতি হওয়ায় তিনি তার প্রিয় বাগান আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিয়েছিলেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রা) বলেন, আবু তালহা আনসারী (রা.) একবার তার এক বাগানে নামাজ আদায় করছিলেন। তখন একটি ছোট পাখি উড়তে শুরু করল (বাগান এত ঘন ছিল যে এই ক্ষুদ্র পাখিটি পথ খুঁজে পাচ্ছিল না), তাই পাখিটি এদিক-সেদিক বের হওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করল। এই দৃশ্য তার খুব ভালো লাগল। ফলে তার মনোযোগ কিছুটা সেদিকে চলে গেল। তারপর আবার নামাজের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু অবস্থা এই দাঁড়াল যে, তিনি স্মরণ করতে পারছিলেন না, নামাজ কত রাকাত আদায় করেছেন। বাগানের এ সম্পদ যেন তাকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে!
হজরত তালহা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বাগানে তার সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হয়েছিল তা বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! যে সম্পদ আমার নামাজের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে তা আমি আল্লাহর জন্য দান করে দিচ্ছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন তা সেখানে ব্যয় করুন।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ২১৪)
অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছেÑ হজরত জাবের (রা.) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে জাতুর-রিকা যুদ্ধাভিযানে বের হলাম। তখন আমাদের এক ব্যক্তি মুশরিকদের এক লোকের সঙ্গীকে হত্যা করে। ফলে ওই মুশরিক এ মর্মে শপথ করে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মাদ (সা.)-এর কোনো সঙ্গীর রক্তপাত না করব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ক্ষ্যান্ত হব না। তখন সে নবী (সা.)-এর সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল। নবী (সা.) এক জায়গায় অবতরণ করে বললেন, এমন কে আছ, যে আমাদের পাহারা দেবে? তখন মুহাজিরদের থেকে একজন এবং আনসারদের থেকে একজন তৈরি হয়ে গেলেন। তিনি বললেন, তোমরা দুজন গিরিপথের চূড়ায় মোতায়েন থাকবে। তখন উভয়ে গিরিমুখে পৌঁছলে মুহাজির সাহাবি ঘুমিয়ে পড়েন। আর আনসারী সাহাবি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ে মশগুল হয়ে পড়েন। এমন সময় ওই লোকটি এসে দূর থেকেই আনসারী সাহাবিকে দেখে চিনে ফেলল। সে বুঝতে পারল তিনি (প্রতিপক্ষের) নিরাপত্তা প্রহরী। অতএব সে তার প্রতি একটি তীর নিক্ষেপ করল, যা তার শরীরে এসে বিঁধে গেল। তিনি তা বের করে নিলেন। মুশরিক ব্যক্তি একে একে তিনটি তীর নিক্ষেপ করল। তিনি রুকু সিজদা করে (যথারীতি নামাজ শেষ করে) সঙ্গীকে জাগালেন।
মুহাজির সাহাবি জেগে উঠে তার রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে বললেন, সুবহানাল্লাহ! প্রথম তীর নিক্ষেপের পরই আমাকে ডাকেননি কেন? তিনি বললেন, আমি (নামাজে) এমন একটি সুরা তেলাওয়াত করছিলাম যা ছাড়তে আমি পছন্দ করিনি।’ (আবু দাউদ : ১৯৮)
সাহাবায়ে কেরামের নামাজের এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। তাদের নামাজ ছিল সত্যিকার অর্থেই জীবন্ত ও প্রাণবন্ত। আমাদের নামাজও যেন হয় এমন খুশু-খুজুর অনুভূতিতে পূর্ণ। যারা এমন নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তাদের জন্য সফলতার সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন ‘সফলকাম ওইসব মুমিন, যারা তাদের নামাজে খুশুখুজু (পূর্ণ মনোযোগ) অবলম্বন করে।’ (সুরা মুমিনুন : ১-২)










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]