ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ৮ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস
কঠোর সতর্কতা জরুরি
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

করোনা ভাইরাস বর্তমানে আতঙ্কের নাম। চীনে এ ভাইরাসের প্রার্দুভাব ঘটলেও বিশ্বজুড়ে মানুষ এর সংক্রমণের ভয়ে আছে। যেহেতু এর কোনো টিকা এখনও আবিষ্কার হয়নি তাই চিকিৎসকরা এ রোগের চিকিৎসা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। নতুন এ ভাইরাসকে কেন্দ্র করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও উদ্বিগ্ন।
২০১৯ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে নতুন এ ভাইরাস দেখা দেয়। তারপর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। হঠাৎ এ শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চীন কর্তৃপক্ষ বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানায়। ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। কীভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয় এখনও বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করতে পারেননি। ‘সার্স’ ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে ১০ বছর আগে পৃথিবীতে ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ৮ হাজার মানুষ সার্সে আক্রান্ত হয়েছিল। এ রকম আরেকটি ভাইরাস ছিল মার্স। ২০১২ সালে তাতে ৮৫৮ জনের মৃত্যু হয়। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে বলা হয়, ২১ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত ৩১৪ জন নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। ৩১৪ জনের মধ্যে ৩০৯ চীনের, ২ থাইল্যান্ড, ১ জাপান এবং একজন কোরিয়ার নাগরিক।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড, জাপান এবং কোরিয়ার রোগীরা উহান শহর থেকে ফেরার পরে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের ৫১ জন গুরুতর অসুস্থ। ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চীনা কর্তৃপক্ষ ৬ জনের মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে। এ ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে থাকে তাই স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিরা বেশি আক্রান্ত হয়।
করোনা ভাইরাস কোনো প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের শরীরে ঢুকলেই মারাত্মক রূপ নিতে থাকে। প্রাথমিক ধারণায় বর্তমান ভাইরাসটি কোনো প্রাণীর শরীর থেকে এসেছে। তাই এ ভাইরাসটির নাম দেওয়া হয় ২০১৯-এনসিওভি। বিভিন্ন করোনা ভাইরাসের সঙ্গে বিশ্ব পরিচিত। বর্তমানে যেটির সংক্রমণ ঘটছে তা কোনো প্রাণী থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের উহানের কোনো প্রাণীই এর উৎস। প্রাণী থেকেই ভাইরাসটি মানুষের দেহে ঢুকেছে। তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।
২০১৯ সালের করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উহানের আক্রান্ত রোগীরা একটি বাজারের ক্রেতা। ওই বাজারে সামুদ্রিক মাছ, মুরগি, ভেড়া, শূকর, শিয়াল, ইঁদুর, বাদুড়, সাপ এবং খরগোশসহ বন্যপ্রাণী বিক্রি করা হয়। ২০১৯-এনসিওভির চীনের বাদুড়ের সার্স করোনা ভাইরাসের মিল রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, চীনে বাদুড় থেকে ভাইরাস সাপের শরীরে এসেছে। এমন সাপ উহান বাজারে বিক্রি হয়। যা বিক্রেতা এবং ক্রেতাদের শরীরে প্রবেশ করেছে। সাপের রক্ত শীতল, বাদুড়ের রক্ত উষ্ণ। করোনা ভাইরাস একই সময়ে শীতল এবং উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর শরীরে কীভাবে টিকে থাকল সেটা রহস্য। নতুন ভাইরাসটির কারণে বিশ্বে মহামারী হতে পারে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো জ্বর, কাশি এবং শ^াসকষ্ট। পরিণামে নিউমোনিয়া হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো এবং মৃত্যুও হতে পারে। বলা হয়েছে, অন্য ভাইরাসজনিত রোগের মতোই পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানীয় এবং পুষ্টির ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, প্রয়োজনে হাসপাতালের ভর্তি হতে হবে। আক্রান্তদের এড়িয়ে চলতে হবে।
এর মধ্যে চীনা কর্তৃপক্ষ করোনা আক্রান্তদের জন্য পৃথক হাসপাতাল নির্মাণ শুরু করেছে। যা ছয় দিনে শেষ হবে। ২০০৩ সালে ‘সার্স’ মোকাবেলার জন্য ছয় একর জমির ওপর তৈরি করেছিল অস্থায়ী হাসপাতাল। সময় লেগেছিল সাত দিন। আমাদের দেশে এত দ্রুত সময়ে এ ধরনের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি কি সম্ভব? তবে প্রস্তুতি থাকাটা জরুরি। কিছু হাসপাতালে এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা যেতে পারে। তৈরি রাখা যেতে পারে একটা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলও। প্রাথমিক সতর্কতা হিসেবে স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাকেই মেনে চলা জরুরি।
চীনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। চীনের উহানে আমাদের দেশের অনেকে আটকা পড়েছে। দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছে তারা। এরই মধ্যে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোয়। বিদেশ থেকে, বিশেষ করে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া দেশগুলো থেকে আগতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও যেন যথাযথভাবে করা হয়। এই ভাইরাস বহনকারী কেউ যেন বিনা পরীক্ষায় বিমানবন্দর থেকে দেশে ঢুকতে না পারে। তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। করোনা ভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ এক্ষেত্রে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে গণমাধ্যমও । সেটা তারা শুরুও করেছে।  সব চেয়ে বড় কথা, সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।











সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]