ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৫ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফুলচাষে স্বাবলম্বী ফুলপুরের জিয়াউল
জাহাঙ্গীর কবির জুয়েল ময়মনসিংহ
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৬.০১.২০২০ ১২:২২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 104

বিদেশি ফুলচাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার গুপ্তেরগাঁও গ্রামের শৌখিন যুবক জিয়াউল হক। ফুল বিক্রির টাকা দিয়ে তার সংসার এখন সচ্ছল। প্রতিনিয়ত ফুল বিক্রির টাকা হাতে আসায় অভাব আর তার দরজায় হানা দিতে পারে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, জিয়াউলের বাড়ির সামনে মনোরম ফুলের বাগান। লাল, হলুদ ও সাদাসহ রঙ-বেরঙের গ্লাডিওলাস জাতের বিদেশি ফুল তার বাগানে শোভা পাচ্ছে। জিয়াউল বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ২০০০ সালে এনজিও ব্র্যাক থেকে জিয়াউলের বাবা শামসুল হকসহ গুপ্তেরগাঁও গ্রামের কয়েকজন কৃষককে ফুলচাষের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশি ফুলচাষে উদ্বুদ্ধ করেন। ব্র্যাকের আর্থিক সহযোগিতায় এসব কৃষকের উৎপাদিত ফুল সে সময় ব্র্যাকের মাধ্যমে বিদেশে রফতানি হতো। ২০০৫ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এলাকায় ফুলের বাজার না পাওয়ায় ফুলপুরের এই ফুলচাষি সবাই ফুলচাষ ছেড়ে দেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালে বেকার যুবক জিয়াউল হক তার বাবার কাছ থেকে অভিজ্ঞতা শুনে প্রথমে ক্ষুদ্র পরিসরে ফুলচাষ শুরু করেন। বর্তমানে ১০০ শতাংশ জমিতে বিদেশি গ্লাডিওলাস ও দেশি-বিদেশি গোলাপ ফুলের চাষ করছেন জিয়াউল হক। তার উৎপাদিত ফুল প্রতি সপ্তাহে ঢাকাসহ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। চলতি মৌসুমে মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে ৩৬ শতাংশ জমিতে গ্লাডিওলাস জাতের অর্কিড ফুলচাষ করে প্রথম পর্যায়েই ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।
তিনি আশা করেন, জমিতে যে পরিমাণ ফুল রয়েছে তাতে আরও ২ লাখ টাকা বিক্রি হবে। এ ছাড়াও ৬০ শতক জমিতে গোলাপ ফুলের চারা লাগিয়েছেন। এতে খরচ হয় মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকা। তবে গোলাপচাষ দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। গাছ বড় হলে প্রতিদিনই দু’তিন হাজার টাকার গোলাপ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করেন। তার গোলাপ বাগানে চায়না, মেরিন্ডা ও আমেরিকান হেরি জাতের গোলাপের চারাগাছ রয়েছে।
জিয়াউল জানান, বর্তমানে ফুলের বাজার কিছুটা মন্দা, তাই লাভের পরিমাণ কম। তারপরও ফুল বিক্রির টাকা দিয়ে তার ভালোই আয় হচ্ছে। বর্তমানে তার বাগানের ফুল ঢাকার আগারগাঁও, ময়মনসিংহের রজনীগন্ধা স্টোর, ফুলপুরের বন্ধু ফুলঘর ও সেলিম আর্ট ফুলের দোকানে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
জিয়াউল হক এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। জিয়াউলের দুই সন্তান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে, স্ত্রী গৃহিণী। নিজেই শ্রমিকের সঙ্গে বাগান পরিচর্চার কাজ করেন। ফুলচাষ করতে কোনো সরকারি সাহায্য পাননি জিয়াউল। গুপ্তেরগাঁও গ্রামে তার ফুলচাষে লাভ দেখে গ্রামের অনেক চাষি পুনরায় ফুলচাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
সম্প্রতি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ম্যানেজার আবুল বাশার তার বাগান পরিদর্শন করে আর্থিক সহযোগিতা করার আশ^াস দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল আল মামুন জানান, জিয়াউল হক যদি ফুলচাষের ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে চান তা হলে তিনি প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেবেন।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]