ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১ এপ্রিল ২০২০ ১৭ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১ এপ্রিল ২০২০

মুন্সীগঞ্জে ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে জ্বরে দুজনের মৃত্যু এলাকায় আতঙ্ক
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৮.০১.২০২০ ১২:২১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 286

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া গ্রামে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে চাচি-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই গ্রামে শামীমা বেগম (৩৪) মারা যান এবং রোববার রাত ২টার দিকে একই পরিবারের মীর সোহেলের ছেলে আব্দুর রহমান (৩) মারা যায়। দুজনই আকস্মিক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে জানা গেছে।
মীর সোহেলের চাচাত ভাই মীর শিবলী জানান, সকালে আকস্মিক জ্বরে আক্রান্ত হন ভাবি। ধীরে ধীরে তার শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল লাল ছোপ দেখা দেয়। জ্বর আসার ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে তিনি মারা যান। পরে ভাতিজা আব্দুর রহমান আকস্মিক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোববার রাত ২টার দিকে মারা যায়। আব্দুর রহমান জ্বরে আক্রান্ত হলে মুহূর্তে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল লাল ছোপের চিহ্ন ফুটে ওঠে। ধীরে ধীরে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে সেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
তিনি আরও জানান, আমরা স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দেখিয়েছিলাম। কিন্তু ঢাকায় নেওয়ার সুযোগ পাইনি। রোববার বিকালে ভাবিকে দাফন করি। সোমবার দুপুরে দাফন করি ভাতিজাকে। তারা কোন রোগে মারা গেল বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের লোকজন ও ডাক্তাররা এসেছিলেন। কিন্তু ডাক্তাররা রোগ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।
লৌহজং উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সোমবার সকালে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। শিশু ছেলের মৃতদেহ সকালে দাফন করা হয়। রোববার ওই শিশুর চাচি মারা গিয়েছিল। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ আতঙ্কিত এটা ভেবে যে চীনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তারা মারা যেতে পারে। কিন্তু স্থানীয় ডাক্তাররা আমাকে জানিয়েছেন মৃতদেহে যেসব লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন তাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আসলে ওই বাড়ির পাশে যশলদিয়া পানি শোধনাগারে কিছু চীনা লোক কাজ করে। এছাড়াও পদ্মা সেতু প্রকল্পেও চীনারা কাজ করছে। সে কারণে এমন আতঙ্ক ছড়াতে পারে।
মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা, আবুল কালাম আজাদ জানান, ডাক্তারদের একটি টিম নিহতদের বাড়িতে গেছে। তবে আমাদের যা মনে হয় তাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়। কারণ ১৪ দিনের মধ্যে যদি তাদের কেউ চীন থেকে আসত তাহলে আমরা সেরকম কিছু মনে করতাম। আসলে লৌহজংয়ে কিছু প্রকল্পে চীনারা কাজ করে। সেখান থেকে করোনাভাইরাস এই এলাকায় ছড়াতে পারে বলে অনেকে আগে থেকে আতঙ্কিত। হঠাৎ জ্বরে এই দুজনের মৃত্যুর পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে।












সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]