ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ওষুধ শিল্পের বিকাশে সহায়তা
অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বেগবান করবে
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৪.০২.২০২০ ১১:২২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 17

ওষুধ শিল্পের অগ্রযাত্রা আমাদের জন্য স্বস্তির। ওষুধ শিল্প খাতে আমাদের সফলতা চোখে পড়ার মতো। বিশে^র প্রায় ১৫০টিরও বেশি দেশে রফতানি হয় আমাদের উৎপাদিত ওষুধ। যা আমদের অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তি ও গৌরবের। আমাদের উৎপাদিত ওষুধ এখন দেশের ৯৮ শতাংশ চাহিদা মেটাচ্ছে। ওষুধ শিল্পের এই অগ্রযাত্রা সমৃদ্ধ করছে আমাদের অর্থনীতিকে। এক পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে বিশে^র ৪৮টি দেশের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প। দেশের ওষুধ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় আড়াই শতাধিক কোম্পানি। এসব কারখানায় বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ ও কাঁচামাল উৎপাদিত হয়। এ শিল্পে কর্মরত মানুষের সংখ্যাও প্রায় দুই লাখ। ওষুধ শিল্পের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ওষুধ শিল্প পার্ক। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে জানা যায়, দেশীয় ৪৬টি কোম্পানির প্রায় ৩০০ প্রকারের ওষুধ পণ্য বিশ^বাজারে রফতানি হয়। যাতে করে আমরা অর্জন করছি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। যেখানে আশির দশকে আমাদের ওষুধ শিল্পের আকার ছিল মাত্র ১৭০ কোটি টাকা। তা বর্তমানে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। সত্যিকার অর্থেই আমাদের ওষুধ শিল্পের উত্থান বিস্ময়কর। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও প্রবেশ করেছে আমাদের তৈরি ওষুধ। যার একদিকে যেমন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তেমনি নির্দেশ করছেÑ আমরা এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। এখন এ ধারায় যদি আয়ুর্বেদিক ওষুধ উৎপাদন যোগ করা যায়, তা আমাদের সামনে আরও একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। বর্তমানে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের সঙ্গে বাড়ছে আয়ুর্বেদিক ওষুধের চাহিদাও। আয়ুর্বেদিক ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার যে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি আজ আমাদের সামনে তাকে আমরা অবহেলা করতে পারি না।
সম্প্রতি রাজধানীতে ‘বিমসটেক ট্র্যাডিশনাল হেলথ কেয়ার এক্সপো-২০২০’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রচলিত ওষুধ শিল্পের বিকাশেও সহায়তা দেওয়া হবে। আমরা অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ শিল্পে যে বিস্ময়কর উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি, সেই ধারা প্রচলিত ওষুধ শিল্পের বিকাশেও কাজে লাগাতে হবে। একসময় মানুষ প্রাকৃতিক উপাদানÑ প্রকৃতির বিভিন্ন গাছ-গাছড়া থেকে ওষুধ তৈরি করত। সুস্থতার জন্য প্রকৃতির দেওয়া উপাদানকেই কাজে লাগাত। এখনও বিশে^র বিভিন্ন স্থানের মানুষ আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথি ওষুধের ওপর তাদের আস্থা রেখেছে। বিভিন্ন দেশে আয়ুর্বেদিক ওষুধের চাহিদাও প্রচুর। অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মতো আমাদের এই দিকটিতেও নজর দিতে হবে। সময়ের আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথি ওষুধের মতো প্রচলিত ওষুধ শিল্পের বিকাশে বেসরকারি খাতে সরকারের সব ধরনের সহায়তার আশ^াস দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রচলিত ওষুধের প্রসারে এর কাঁচামালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে গাছপালা নিধন রোধ এবং বনায়নের প্রতিও আহŸান জানিয়েছেন। অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা যে সুনাম অর্জন করেছি, তা ধরে রাখার পাশাপাশি আমাদেরকে প্রচলিত ওষুধ উৎপাদনের দিকেও নজর দিতে হবে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশের আয়ুর্বেদিক ওষুধও বিশ^ বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে। আমাদের সামনেও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে সেই বাজার ধরার। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে বেসরকারি খাতকেও। আমরা যদি অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মতো আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতেও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি গাইডলাইন ও স্ট্যান্ডার্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পারি তাহলে তা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও বেগবান করবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]