ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১১ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মন্দ ভাষায় কথা বলা পাপ
মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 21

মুমিন সর্বদা ভালো কথা বলবে। কখনও মন্দ কথা বলবে না। কারণ ভালো ও মন্দ কখনও সমান হতে পারে না। পবিত্র কোরআনে এসেছেÑ ‘ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। আপনি জবাবে তাই বলুন, যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবেন আপনার সঙ্গে যে ব্যক্তির শত্রæতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু।’ (সুরা হামিম সাজদা : ৩৪)। মন্দ কথাকে আল্লাহ মন্দ বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেনÑ ‘মন্দ বাক্যের উদাহরণ হলো মন্দ বৃক্ষ। একে মাটির ওপর থেকে উপড়ে নেওয়া হয়েছে, এর কোনো স্থিতি নেই।’ (সুরা ইবরাহিম : ২৬)। অর্থাৎ মন্দ কথার কোনো স্থায়িত্ব নেই।
ভালো কথা না বলতে পারলে অন্তত চুপ থাকা নবীজি নির্দেশনা। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ^াস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে। ভালো কথা না বলতে পারলে অন্তত যেন চুপ থাকে।’ (বুখারি : ৬০১৮; মুসলিম : ৪৭; তিরমিজি : ১১৮৮)
পবিত্র কোরআনের অনেক স্থানে আল্লাহ তায়ালা মন্দ কথা থেকে বিরত থাকা ও ভালো কথার নির্দেশ দিয়েছেন।
এক. আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘ভালো কথা বলে দেওয়া এবং ক্ষমা প্রদর্শন করা ওই দান-খয়রাত অপেক্ষা উত্তম, যার পরে কষ্ট দেওয়া হয়। আল্লাহতায়ালা সম্পদশালী ও সহিষ্ণু।’ (সুরা বাকারা : ২৬৩)
দুই. আরও বলেছেন, ‘মন্দ কথার প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না। তবে কারও প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ শ্রবণকারী ও বিজ্ঞ।’ (সুরা নিসা : ১৪৮)
তিন. আরও বলেছেন, ‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদের ‘উহ’ শব্দটিও বলো না; তাদের ধমক দিও না আর তাদের সঙ্গে ভালো কথা বলো।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ২৩)
চার. আরও বলেছেন, ‘তোমরা মিথ্যা কথা বলা থেকে যোজন যোজন দূরে থাকো।’ (সুরা হজ : ৩০)
পাঁচ. আরও বলেছেন, ‘যারা মুমিন পুরুষ ও মহিলাদের কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয় (কুকথা বলে) তারা একটি বড় অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে নিয়েছে।’ (সুরা আহজাব : ৫৮)
ছয়. আরও বলেছেন, ‘তোমরা একে অপরকে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করো না এবং কাউকে মন্দ নামে ডেকো না।’ (সুরা হুজরাত : ১১)
সাত. আরও বলেছেন, ‘তোমরা বেশি বেশি ধারণা এবং আন্দাজ অনুমান করা থেকে বিরত থাকো। কারও দোষ বা ছিদ্রান্বেষণ করো না। আর তোমাদের কেউ যেন কারও গীবত না করে।’ (সুরা হুজরাত : ১২)
আট. আরও বলেছেন, ‘সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা কাফ : ১৮)
নয়. আরও বলেছেন, ‘যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। যে পেছনে নিন্দা করে, একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে ফিরে, যে ভালো কাজে বাধা দেয়, যে সীমালঙ্ঘন করে; যে পাপিষ্ঠ।’ (সুরা কলম : ১০-১২)





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]