ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১২ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অনন্য অর্জনের সামনে টেলর
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৫.০২.২০২০ ১২:১৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 36

জীবনের কাছ থেকে শিখেছেন, সামনে এগিয়েছেন নিজের অপূর্ণতাগুলো ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে। ক্যারিয়ারের শততম টেস্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রস টেলরের উপলব্ধি কারও ক্যারিয়ারই নিখুঁত হয় না, ভুল করতে করতেই শেখে সবাই, বেড়ে ওঠে। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা নিউজিল্যান্ডের এই তারকা ব্যাটসম্যানও সেভাবেই বেড়ে উঠেছেন। ১৪ বছরের পথচলায় টেলর এখন বিরল এক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে। আর একটি টেস্ট খেললেই রেকর্ডটা লুটাবে তার পায়ে।

আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে নিউজিল্যান্ড। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে স্বাগতিকদের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামবেন টেলরও। মাঠে নামলে ওটা হবে টেলরের ১০০তম টেস্ট। কিউইদের হয়ে এই কীর্তি আছে সাবেক তিন অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিং, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর ড্যানিয়েল ভেট্টোরির। ওয়েলিংটন টেস্টে মাঠে নামলে টেলর শুধু তাদের কাতারেই নাম তুলবেন না, তিন ফরম্যাটেই অন্তত ১০০টি ম্যাচ খেলা ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার বনে যাবেন তিনি।

২০০৬ সালের পহেলা মার্চ নেপিয়ারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেকের পর এ পর্যন্ত ২৩১টি ওয়ানডে খেলেছেন টেলর। ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর ওয়েলিংটনে টি-টোয়েন্টি অভিষেক ডানহাতি ব্যাটসম্যানের। এ পর্যন্ত এই ফরম্যাটে খেলেছেন ১০০টি ম্যাচ। ওই ওয়েলিংটনেই এখন শততম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় ২০০৭ সালে এই ফরম্যাটে অভিষিক্ত টেলর। তিনি বলেছেন, ‘আমার হৃদয়ের বিশেষ একটি জায়গায় আছে ওয়েলিংটন। আমি নিশ্চিত, সেখানে পরিবারের অনেককে এবং বন্ধুবান্ধবদের দেখতে পাব। যেটা আমাকে গর্বিত করবে। ক্যারিয়ার শেষে যখন পেছন ফিরে তাকাব, তখন এটা স্মৃতিতে থাকবে।’

বর্ণিল সেই ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে টেলর বলেছেন নিজের উপলব্ধির কথা, ‘কারও ক্যারিয়ারই নিখুঁত নয় এবং বিশেষ করে একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে কোনো একটা পর্যায়ে তুমি ব্যর্থ হবেই। ভুল এবং পারিপাশির্^ক বিষয়গুলোই একজন ব্যক্তি হিসেবে তোমাকে গড়ে তুলবে।’ শততম টেস্ট খেলতে যাওয়ার প্রসঙ্গ সামনে আসতেই টেলর বলেছেন, ‘হয়তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছি! আসলে না। আমার মনে হয়, আমি এ পর্যন্ত যা অর্জন করেছি তা নিয়ে আমি খুশি। সাধারণত একজন ব্যাটারের জন্য টেস্ট ক্রিকেট এবং ক্রিকেটের মানে হচ্ছে, তোমাকে অনেক চড়াই-উতরাই পেরোতে হবে। অবশ্যই আমিও এর মধ্য দিয়েই এগিয়েছি।’

২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক সিরিজটা যারপরনাই বাজে কাটানোর পর আরও কখনও টেস্ট খেলতে পারবেন কি না, টেলর সন্দিহান ছিলেন সেটা নিয়েই। সেই টেলর এখন খেলতে যাচ্ছেন শততম টেস্ট। বড় এক উপলক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে এখন তিনি। এসব উপলক্ষের ক্ষেত্রে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে দৃঢ় মানসিকতার টেলর মাইলফক ছোঁয়ার ম্যাচটিকে আর দশটা ম্যাচের মতোই দেখতে চান, ‘আমার মনে হয়, দিন শেষে এটা আরেকটি ক্রিকেট ম্যাচই এবং দলে অবদান রাখতে আমি সম্ভাব্য সেরা চেষ্টাটাই করব। তবে একই সময়ে এটাকে উপভোগ করতে হবে।’

ক্রিকেটে এই দীর্ঘ যাত্রায় নিজের পরিবারের ত্যাগকেও বড় করে দেখছেন টেলর। নিজের সাফল্যযাত্রার পেছনে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার বড় অবদান দেখছেন তিনি, ‘এত লম্বা সময় ধরে তিনটি সন্তানকে গড়ে তোলা, আমার স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার পক্ষে মোটেও সহজ ছিল না।’ সন্তানদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ক্রিকেটার হিসেবে আমি যা অর্জন করেছি, তাতে তারা গর্ববোধ করবে।’





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]