ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১ এপ্রিল ২০২০ ১৭ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ১ এপ্রিল ২০২০

খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
পরিবার ও বিএনপি কী চায়
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৭.০২.২০২০ ১২:২৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 221

অসুস্থ খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্য আইনি সব প্রক্রিয়ায় চেষ্টা করছে বিএনপি; কিন্তু মিলছে না কাক্সিক্ষত জামিন। দফায় দফায় আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করছে দল। প্রয়োগ করছে সর্বশেষ উপায়। এদিকে খালেদা জিয়ার পরিবার যে করেই হোক তাকে মুক্ত করার কথা বলছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসায় সম্প্রতি প্যারোলে জামিন আবেদনের কথাও বলছে দল। যদিও মুক্তি চেয়ে এখনও আবেদন করেনি পরিবার। তবে পরিবারে আলোচনা চলছে। সরকার বলছে, প্যারোলের আবেদন এলে, ভেবে দেখা হবে।
দুর্নীতির মামলায় দÐিত হয়ে দু’বছর ধরে কারাবন্দি খালেদার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘মানবিকতা’ চেয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করার পর থেকে ফের আলোচনায় আসে প্যারোল, যা নিয়ে রোজই কথা বলছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে খালেদা জিয়ার এক কর্মকর্তা সময়ের আলোকে জানান, জামিন পেতে বিএনপি আবারও আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর পরিবার এখনও চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আবেদনের কথাবার্তা চলছে। দলের সিদ্ধান্তের কারণে পরিবারের আবেদন করতে দেরি হচ্ছে কি না, বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাননি তিনি।
এদিকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুন রহমান জানান, তিনি গত সপ্তাহে খালেদা জিয়াকে দেখে এসেছেন। প্রয়োজনে পরিবারকে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে খালেদা জিয়ার পরিবার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তাকে কিছুই জানাননি।
বিএনপির একটি সূত্র বলছে, পরিবার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব ও লন্ডনে থাকা খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করছেন। বিএনপির অন্য নেতাদের বিষয়টি জানানো হচ্ছে না। সরকারের সঙ্গে বেশ গোপনীয়তা বজায় রেখে চলছে আলোচনা। বিএনপি এখন সরকারের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো কিছুতে কাজ না হলে শেষ মুহূর্তে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তি চাওয়া হতে পারে। তবে আবেদনে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার মানবিক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সময়ের আলো বলেন, ম্যাডামের পরিবারের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি জানি না। আমরা দলের বিষয়টি দেখছি। আইনজীবীরা আইনগতভাবে লড়ছেন। আমরা আন্দোলন-সংগ্রামে আছি। হয়তো পরিবার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, কিন্তু আমি জানি না। দলের মহাসচিবের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ আছে। উনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। আর শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন জানিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা আইনের সব রকম অস্ত্র ব্যবহার করব। জামিন চেয়ে বারবার আবেদন করব। পরিবার প্যারোল চাইবে কি না, সেটা তাদের বিষয়।
এদিকে প্যারোল নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদার পরিবার আবেদন করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর করতে হবে। এখনও কোনো লিখিত আবেদন করেনি। করার পর বিষয়টি দেখবে সরকার।
খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি আপস না সংগ্রামে রয়েছে এমন বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা বিএনপিই বলতে পারবে। আন্দোলনের কথা তারা বারবার বলে আসছেন। তাদের মধ্যে একটা দ্বিচারিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তাদের কেউ বলে মানবিক, কেউ বলে আন্দোলন ছাড়া মুক্তির পথ নেই। আন্দোলন করে যদি মুক্ত করার অঙ্গীকার থাকে এবং সেই সক্ষমতা থাকে, তা হলে আন্দোলন তারা করতে পারে।’ রোববার সচিবালয়ে তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে আগে ঠিক করতে হবে তারা কোন পথে মুক্তি চায়।
অন্যদিকে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করলে ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘আন্তরিক থাকবেন’ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। শনিবার ময়মনসিংহের ভালুকায় মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া জেলখানায় আছেন, উনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সংবিধানের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান সুযোগ পাবে, বেগম জিয়া যেহেতু একটি দলের প্রধান এবং উনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার ব্যাপারে রাষ্ট্র অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সব বিষয় পর্যবেক্ষণ করছে এবং তার জন্য কাজ করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। এর অংশ হিসেবে উনি প্যারোলে মুক্তি চেয়েছেন, এ রকম কোনো আবেদন এলে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা এবং সুযোগ সবগুলোই আমাদের মনে রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য যেমনি আন্তরিক বেগম জিয়ার বেলায়ও সেখানে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য আন্তরিক থাকবেন।
প্রায় বছরখানেক কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত¡াবধানে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা ‘গুরুতর’ বলে স্বজন ও বিএনপি নেতাদের ভাষ্য। ৭৪ বছরের খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি এখন একা চলাফেরা করতে পারেন না, এমনকি সাহায্য ছাড়া খেতেও পারেন না বলে কয়েকদিন আগে তাকে হাসপাতালে দেখে এসে বোন সেলিমা ইসলাম জানিয়েছেন।
গত মাসেই খালেদাকে দেখে এসে তার মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ‘বিশেষ আবেদন’ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন সেলিমা ইসলাম। তবে গত সপ্তাহে খালেদার সঙ্গে সাক্ষাতের দিনে স্বজনদের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের উপাচার্যের বরাবর আবেদন করা হয়েছে, খালেদার মুক্তির বিষয়টি ‘মানবিক’দিক থেকে বিবেচনার জন্য।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য সরকার এখনও কোনো আবেদন পায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার গুলশানে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো আবেদন পাইনি। তা ছাড়া এটি আদালতের বিষয়।’





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]