ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ মার্চ ২০২০ ১৩ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৮ মার্চ ২০২০

ইবাদত ও জীবনযাপন
মাওলানা আসলাম শেখোপুরি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 54

কোনো মুসলমান যদি আন্তরিকভাবে আল্লাহভীরু ও ইবাদতগুজার হতে চায়, কিন্তু আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ভারসাম্যপূর্ণ জীবনাদর্শ থেকে বিমুখ হয়, তবে সে কখনও প্রকৃত ধার্মিক হতে পারবে না। তার দ্বীনদারি ও ধার্মিকতা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না। ইবাদত করতে গিয়ে যেসব কষ্ট-ক্লেশ সে সহ্য করেছে, তারও উপযুক্ত মূল্য থাকবে না। এটা স্বয়ং নবীজি (সা.)-এর মুখের উচ্চারিত সত্য। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একবার তিনজন সাহাবি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ঘরে যান এবং তাদের কাছে নবী করিম (সা.)-এর ইবাদত-বন্দেগির কথা জিজ্ঞাসা করেন। যখন তাদের সামনে বিশ^নবী (সা.)-এর ইবাদতের অবস্থা বর্ণনা করা হলো, তখন তারা নিজেদের ইবাদতকে কম মনে করতে লাগলেন এবং নিজেদের সান্ত¡না দিয়ে বলতে লাগলেনÑ আমরা কোথায় আর মহানবী (সা.) কোথায়? তার জীবনের পূর্বাপরের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তখন তাদের একজন বললেন, আমি সারারাত ইবাদত বন্দেগি করব। অন্যজন বললেন, আমি সবসময় রোজা রাখব এবং কখনও ভাঙব না। অন্যজন বললেন, আমি সবসময় নারী সংস্রব হতে দূরে থাকব এবং কখনও বিয়ে করব না। এমন সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) এলেন। এরপর তিনি বললেন, তোমরা এমন এমন কথা বলেছ? আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু ও সংযমী। কিন্তু আমি (নফল) রোজাও রাখি আবার খাওয়া-দাওয়াও করি। রাতের বেলা নামাজও পড়ি আবার ঘুমাইও। আমি নারীদের বিয়েও করি। তো যে ব্যক্তি আমার সুন্নত ও আদর্শ থেকে বিমুখ হবে সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (বুখারি : ৫০৬৩)
এই তিনজন সাহাবির প্রত্যেকেই বিয়ে, সুস্বাদু খাবার ও রাতের ঘুম বাদ দিয়ে কেবল সন্ন্যাসীর মতো শুধু ইবাদত করার যে প্রতিজ্ঞা করতে যাচ্ছিলেন, সেটা কিসের জন্য ছিল? এসব তারা কেবল এ জন্য করতে চাচ্ছিলেন, যেন নিজেদের ধারণা মতে অধিক পরিমাণে ইবাদত করতে পারেন এবং নিজেদের ভেতর অধিক পরিমাণে ধার্মিকতা সৃষ্টি করতে পারেন। নবীজি (সা.) তাদের বললেন, তোমরা আমার চেয়ে কোনো অবস্থায়ই ইবাদতে এগিয়ে যেতে পারবে না। আল্লাহর তায়ালার ভয়ের ক্ষেত্রেও না এবং ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রেও না। আমি আল্লাহ তায়ালাকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি। কিন্তু আল্লাহর ভয় সত্তে¡ও আমি স্ত্রী, পরিজন ও নিজের শরীরের হক আদায় করি। যে ব্যক্তি আমার প্রকৃত উম্মত হতে চায় তাকে আমার অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহর হকসমূহও আদায় করতে হবে এবং বান্দাদের হকসমূহও আদায় করতে হবে। এসব হক আদায় করাই আমার সুন্নত ও জীবনাদর্শ। আমার সুন্নতের অনুসরণকারী ব্যক্তি আমার দলভুক্ত বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নতের প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করবে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। নবীজি (সা.) আরও ঘোষণা করেছেনÑ ‘যাবতীয় বিষয়ে মধ্যপন্থাই উত্তম ও কল্যাণকর।’ (বাইহাকি, শুয়াবুল ঈমান : ৬৬৫১)
সন্ন্যাসীরা দুনিয়া ছেড়ে দিয়ে বন-জঙ্গলে জীবনযাপন করা শুরু করে দিত। তাদের উদ্দেশ্যও ছিল ইবাদত-বন্দেগি করা। কিন্তু ইসলাম ধর্মে সন্ন্যাসবাদ বা দুনিয়া বর্জন করার অনুমতি নেই। বরং পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় চাকরি, বাণিজ্য ও চাষাবাদ ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত থেকেও আল্লাহ হুকুমসমূহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করা। এর মাধ্যমে পার্থিব কাজও দ্বীন হিসেবে গণ্য হবে। এমনটি না হলে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জিত হবে না। সারাজীবন বিবাহহীন, রোজাদার এবং শাক-ভাত খেয়ে গেলেও চ‚ড়ান্ত উদ্দেশ্য সফল হবে না। তাই ইবাদত-বন্দেগিসহ জীবনের সব ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা চাই।
অনুবাদ : আবদুল কাইয়ুম শেখ





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]