ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ মার্চ ২০২০ ১৩ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৮ মার্চ ২০২০

আজান শ্রবণকারীর করণীয়
আবদুল কাইয়ুম শেখ
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০:২৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 87

আজান শ্রবণকারীর ব্যক্তির জন্য কিছু করণীয় সুন্নত আমল রয়েছে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সুন্নতের কথা তুলে ধরা হলো।
এক. আজান শ্রবণকারীর জন্য আজানের বাক্যগুলো তেমনভাবে বলা সুন্নত যেমনভাবে মুয়াজ্জিন বলে থাকেন। তবে তিনি যখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলবেন তখন শ্রোতা বলবে ‘লা-হাউলা ওয়া লা-কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’। মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে বলা হয়েছেÑ কোনো ব্যক্তি এ আমল করলে তার জন্য জান্নাত অবধারিত।
দুই. আজান শ্রবণকারীর এই দোয়া পাঠ করা সুন্নতÑ ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ, রাজিতু বিল্লাহি রাব্বাও ওয়া বি মুহাম্মাদিন রাসুলাও ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনা।’ অর্থাৎ, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তার কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হজরত মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহ তায়ালার বান্দা ও রাসুল। পালনকর্তা হিসাবে আমি আল্লাহকে পেয়ে, রাসুল হিসাবে হজরত মুহাম্মাদকে (সা.) পেয়ে এবং দ্বীন হিসাবে ইসলামকে পেয়ে আমি সন্তুষ্ট আছি।’ মুসলিম শরিফের ৩৮৬নং হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আজান শ্রবণ করার পর এই দোয়া পাঠ করবে তার পূর্বেকার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
তিন. মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়ার পর মহানবী (সা.)-এর ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করা। এ ক্ষেত্রে দরুদে ইবরাহিমি পাঠ করা অধিকতর উত্তম। হাদিস শরিফে এসেছে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শোন তখন তার অনুরূপ তোমরাও বল। এরপর আমার ওপর দরুদ শরিফ পাঠ কর। কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার করুণাধারা বর্ষণ করেন।’ (মুসলিম: ৩৮৪)। আলোচ্য হাদিসের আলোকে প্রতীয়মান হয়, যে ব্যক্তি এই সুন্নতের ওপর আমল করবেন আল্লাহ তায়ালার দশটি করুণায় তিনি সিক্ত হবেন। আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক দশটি করুণা বর্ষণ করার একটি অর্থ এটাও করা হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের সামনে এই ব্যক্তির প্রশংসা করেন।
দরুদে ইবরাহিমি হলোÑ ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি আলি মুহাম্মাদ, কামা বারকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’ অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার পরিবারবর্গের ওপর তেমন রহমত বর্ষণ করুন যেমন রহমত বর্ষণ করেছেন হজরত ইবরাহিম (আ.) এবং তার পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (সা.) ও তার পরিবারবর্গের কল্যাণ করুন যেমন কল্যাণ করেছেন হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।’
চার. দরুদ শরিফ পাঠ করার পর এই দোয়া পড়াÑ ‘আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তা-ম্মাহ, ওয়াসসালাতিল কাইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলাহ, ওয়াব আসহু মাকামাম মাহমুদা নিল্লাজি ওয়াআদতাহ, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিআদ’, অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত নামাজের প্রভু! আপনি মুহাম্মাদকে (সা.) ‘ওয়াসিলা’ (জান্নাতের বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একটি স্থানের নাম) এবং ‘ফাজিলাহ’ (সমস্ত সৃষ্টির ওপর বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান) দান করুন এবং মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিনÑ যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন। নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না।’ যে ব্যক্তি দরুদ শরিফ পাঠ করার পর এই দোয়া পড়বে বুখারি শরিফের ৬১৪নং হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী মহানবী (সা.)-এর সুপারিশ তার জন্য অবধারিত হয়ে যাবে!
পাঁচ. এরপর নিজের জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে তার করুণা ও অনুকম্পা প্রার্থনা করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মুয়াজ্জিনগণ যেমন উচ্চারণ করেন তুমিও তাদের মতো উচ্চারণ কর। এ কর্মটি শেষ হওয়ার পর যদি তুমি আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা কর, তা হলে তোমাকে তা প্রদান করা হবে।’ (আবু দাউদ : ৫২৪)
(আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) প্রণীত ‘যাদুল মাআদ’ অবলম্বনে)










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]