ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৬ জুন ২০২০ ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার শনিবার ৬ জুন ২০২০

মঙ্গলদীপ জ্বেলে আকস্মিক প্রয়াণ
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১১:১৬ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 36

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কলকাতার অভিনেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য তাপস পাল। মঙ্গলবার ভোরে তার আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে টালিগঞ্জ ও রাজনীতিতে। তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন সহকর্মীরা
ও ছিল আমার ছোটভাইয়ের মতো : রঞ্জিত মল্লিক
তাপস পালের অকাল প্রয়াণে ব্যথিত তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। ‘রুদ্রবীণা,’ ‘মঙ্গলদীপ’ ও ‘অন্তরতম’ ছবিতে তাদের একসঙ্গে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। রঞ্জিত মল্লিক বলেন, ‘তাপস পালের মৃত্যু অসময়োচিত। এখনও মেনে নিতে পারছি না। ও ছিল আমার ছোটভাইয়ের মতো। কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল।’
কাছের বন্ধুকে হারালাম : প্রসেনজিৎ
বাংলা চলচ্চিত্রের আর এক নক্ষত্রের পতন। কাজের ক্ষেত্রে পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও অনেক বড় মাপের শিল্পী ছিল। কাছের বন্ধুকে হারালাম।
আমার পরিবারের মতো ছিল : দেবশ্রী
তাপস পালের একাধিক ছবির নায়িকা দেবশ্রী রায় জানান, ‘কিছু বলার নেই। ভাবতেই পারছি না...। অকালে চলে গেল। আমার পরিবারের মতো ছিল।’
তার প্রাণখোলা হাসিটাই মনে পড়ছে : ঋতুপর্ণা
তাপস পালের মৃত্যুতে শোকাহত অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ‘যতদিন বাংলা ছবি থাকবে, ততদিন থাকবেন তাপস পাল। দাদার কীর্তির মতো ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। তার মতো এত শক্তিশালী অভিনেতা কম এসেছেন। এত তাড়াতাড়ি তিনি চলে যাবেন, ভাবিনি। তার প্রাণখোলা হাসিটাই মনে পড়ছে।’
গল্প করতে ভালোবাসতেন : রচনা
তাপস পালের সঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এক-দেড় মাস আগেও উনার সঙ্গে দেখা হয়েছে। উনি খুব গল্প করতে ভালোবাসতেন। কত বড় ক্ষতি হলো, তা ব্যাখ্যা করতে পারব না। এত বড় অভিনেতার কোনো বিকল্প পাবে না বাংলা ছবি।’
শুটিংয়ে দারুণ মজা করতেন : পায়েল
‘আই লাভ ইউ’ ছবির শুটিং চলছিল। আমার প্রথম শট-টাই তাপস দা’র সঙ্গে। আমি তো বেশ টেনশনে। আউটডোরে এসেই সব কিছু এমনভাবে সহজ করে দিলেন যে আমি ভুলেই গেলাম, আমি তাপস পালের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করছি। আর অদ্ভুতভাবে শট-ও ‘ওকে’ হয়ে গেল। খেয়াল করে দেখলাম, এমনিতে চুপচাপ মানুষ। অথচ সেটে একদম আলাদা। শুটিংয়ে দারুণ মজা করতেন। ‘আই লাভ ইউ’ ছবিতে আমার দাদা হয়েছিলেন উনি।
তার কাছে আমি আদরের ‘বিট্টু’: সোহম
কী বা বয়স হয়েছিল! ৬১ বছর বয়সটা তো কিছুই নয়! তাপস আঙ্কেল এভাবে আচমকা চলে যাবে, তা ভাবতেই পারছি না। বলতে গেলে ছোট থেকে উনার কোলেই বড় হয়েছি। আমার দ্বিতীয় ছবি ‘নয়নমণি’তে তাপস আঙ্কেল আমার বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছিল। তারপর উনার সঙ্গে ‘মঙ্গলদীপ’-এ কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। বয়সের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়ার পর বড় হয়ে একের পর এক ওর সঙ্গে ছবিতে কাজ করেছি। আজ যেমন ‘দানব’ ছবিটার কথা খুব মনে পড়ছে। তার কাছে আমি আদরের ‘বিট্টু’। যে শূন্যস্থান তাপস আঙ্কেল তৈরি করে গেল, তা কখনও পূর্ণ হওয়ার নয়।
ভালো মানুষরা বড্ড তাড়াতাড়ি চলে যান : দেব
সকালবেলা এমন একটা খবর পাব, একেবারেই আশা করিনি। টালিগঞ্জ পাড়া থেকে লোকসভা, সব জায়গাতেই এই মানুষটার সাহচর্য পেয়েছি। ‘চ্যালেঞ্জ-২’ আর ‘মন মানে না’ ছবিতে উনার সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমাদের প্রজন্ম অভিনেতা বলতে তাপস পালের অভিনয় দেখেই বড় হয়েছে। অভিনয় জগতের বাইরেও তাকে দেখেছি, একজন অসম্ভব ভালো মানুষ। অনেক মানুষকেই ঢাক না পিটিয়েই সাহায্য করতে দেখেছি। ভালো মানুষরা বড্ড তাড়াতাড়ি চলে যান।
ভেনিসের রাস্তায় নাচতে শুরু করল তাপস : বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত
আজ একটা অদ্ভুত দৃশ্য আমার চোখের সামনে ভাসছে। ‘উত্তরা’র জন্য আমি আর তাপস পাল ভেনিসে পৌঁছেছি পুরস্কার নিতে। ও এতটাই খুশি হয়েছে যে, ভেনিসের রাস্তায় নাচতে শুরু করে দিল। আমি এই তাপসকেই চিনি। তার প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনেতা। তাকে ঠিকমতো ব্যবহার করা হলো না। এই আফসোস থেকে যাবে চিরকাল। আমাকে সম্মান করত, শ্রদ্ধা করত। শুটিং করতে গিয়েও দেখেছি, অভিনেতা বা স্টার হিসেবে তার কোনো দম্ভ ছিল না। আলাদা মেকআপ ভ্যান, আলাদা খাবার এসব দাবি করত না। বরং আমাকে বলেছিল, ‘আমি কিন্তু দুবার লাঞ্চ করব।’ প্রচণ্ড খেতে ভালোবাসত।
উত্তম কুমারের পর অন্যতম সেরা অভিনেতা তাপসদা : রচনা
থেকে খারাপ খবর আর কিছু হতে পারে না। সেই ’৯৪ সাল থেকে যোগাযোগ। আমার প্রথম ছবির হিরো। সেখান থেকে শুরু। আমি এখনও ভাবতে পারছি না...। আসলে অসুস্থ হওয়ার পর খুব ভালো যোগাযোগ ছিল না। আমি নন্দিনীদি, লাবণী সরকার, অভিষেক চট্টোপাধ্যায় আমরা একটা পরিবারের মতো ছিলাম। একসঙ্গে কত গল্প, কত দিন-রাত কাটিয়েছে। সেগুলোই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে। ভীষণ পুরনো মানুষদের দেখতে চাইত শেষের দিকে। পুরনো কথা বলত। যাব যাব করে দেখতে যাওয়া হলো না বলে আরও খারাপ লাগছে আজ। কখনও বুঝতে দেননি একজন অত বড় মাপের অভিনেতার সঙ্গে অভিনয় করছি। উত্তম কুমারের পর বাংলা ছবিতে অন্যতম সেরা অভিনেতা তাপসদা। বাংলায় এমন কোনো নায়িকা নেই যার সঙ্গে তাপসদা অভিনয় করেননি। ভুল জীবনে প্রত্যেক মানুষ করে। তবে মানুষ তাপস পাল এক কথায় অসাধারণ।
শূন্যতা অনুভব করছি : মাধুরী দীক্ষিত
‘অনেকের মতোই তাপস পালের মৃত্যুতে শূন্যতা অনুভব করছি। আমার প্রথম কাজ তার সঙ্গেই। ঈশ^রের কাছে প্রার্থনা, এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের সদস্যদের শান্তি দিন।’ ১৯৮৪ সালে প্রথম বলিউডে পা দিয়েছিলেন তাপস পাল। জুটি বেঁধেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে। হীরেন নাগের পরিচালনায় ‘অবোধ’ ছবিতে স্বামী-স্ত্রী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]