ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ২৯ মার্চ ২০২০ ১৪ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ২৯ মার্চ ২০২০

বৈরী আবহাওয়ায়ও বই কেনার ধুম
মোতাছিম বিল্লাহ নাঈম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০:৪৬ পিএম আপডেট: ২৮.০২.২০২০ ১:১৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 23

মঙ্গলবার থেকে চলছে মেঘ বৃষ্টির লুকোচুরি। মাঝে মাঝে উঁকি দেয় সূর্য। এই গরম, আবার পরক্ষণেই ঠান্ডা। বসন্তের এই অনিশ্চিত আবহাওয়াও পাঠককে মেলা থেকে দূরে রাখতে পারেনি। রোদ ও বৃষ্টির এই খেলার মধ্যেই পাঠকের উপস্থিতি ছিল সরব। প্রকাশক ও স্টলকর্মীদের ধারণা ছিল এই আবহাওয়ার মধ্যে হয়তো মেলায় পাঠকরা আসতে স্বাচ্ছন্দ করবেন না। প্রকাশকদের ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে মেলায় নিজের সরব উপস্থিতির জানান দিচ্ছেন পাঠকরা।
এদিন মেলার প্রবেশ দ্বার খোলে বিকাল ৩টায়। সন্ধ্যায় নামে পাঠকের ঢল। মেলা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এর মধ্যে বেচাবিক্রি ছিল তুঙ্গে। ছোট-বড় সব ধরনের স্টলেই পাঠককে ভিড় জমাতে দেখা যায়। এদিন উপন্যাস, কবিতা, সাইন্স ফিকশন ও ইতিহাসের বই ছিল বিক্রি তালিকার ঊর্ধ্বে।
গুণিজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা : এদিন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণিজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথা প্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২০, ২০১৯ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে আবুল হাসনাত রচিত প্রত্যয়ী স্মৃতি ও অন্যান্য গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্সকে, মঈনুস সুলতান রচিত জোহানেসবার্গের জার্নাল গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে এবং রফিকুন নবী রচিত স্মৃতির পথরেখা গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশন্সকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হয়। ২০১৯ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২০ এবং ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযান (এক ইউনিট), কুঁড়েঘর প্রকাশনী লিমিটেড (২-৪ ইউনিট), বাংলা প্রকাশকে (প্যাভিলিয়ন) শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হয়। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এদিন বিকালে অনুষ্ঠিত হয় কামরুল হক রচিত বঙ্গবন্ধু ও সংবাদপত্র : ছয় দফা থেকে গণঅভ্যুত্থান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ পাঠ করেন সোহরাব হাসান। আলোচনায় অংশ নেন মোরশেদ শফিউল হাসান ও হারুন হাবীব। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন কামরুল হক। সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী।
প্রাবন্ধিক বলেন, গত শতকের ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু যে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, এ দেশের মানুষ তার ভেতরেই তাদের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন দেখতে পায়। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা থেকে শুরু করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনা ধারাবাহিকভাবে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। আলোচ্য সময়ে পূর্ব বঙ্গের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে ছয় দফাকে কেন্দ্র করেই। ঊনসত্তরে ছাত্রসমাজের ১১ দফা ছিল সেই ছয় দফারই সম্প্রসারণ ও পরিপূরক। ফলে সেদিন ছয় দফা ও এগারো দফার আন্দোলন একাকার হয়ে গিয়েছিল।
আলোচকবৃন্দ বলেন, ১৯৬৬’র ছয় দফার সময় থেকে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সময়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ সময়কালেই বঙ্গবন্ধু জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীকে পরিণত হন এবং স্বাধিকার আন্দোলনের পথে বাঙালিকে উজ্জীবিত করে তোলেন। সেই প্রবল ইতিহাস সৃষ্টিকারী সময়ে পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মূলধারার অনেক পত্রিকাই জাতীয়তাবাদী ভূমিকা নেয় এবং বাঙালির অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে।
গ্রন্থের লেখক বলেন, ১৯৬৬-৬৯ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের রাজনৈতিক ঘটনাবলি পত্রিকার সূত্র ধরে ধারাবাহিকভাবে উপস্থিত হয়েছে এ গ্রন্থে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জনগণকে কীভাবে সচেতন করেছেন, মানুষকে আন্দোলনের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং চূড়ান্ত সফলতাস্বরূপ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেনÑ ওই সময়ে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো তার সাক্ষী হয়ে আছে।
সভাপতির বক্তব্যে কামাল লোহানী বলেন, ৬৬-এর ছয় দফা থেকে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সময়ে সংবাদপত্রের ভূমিকা প্রতিফলিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও সংবাদপত্র : ছয় দফা থেকে গণঅভ্যুত্থান গ্রন্থে। বঙ্গবন্ধুর মতো জনদরদি একজন মহান নেতা যিনি প্রতিটি কর্মীর ব্যক্তিগত খোঁজখবর রাখতেন, তাঁর সঙ্গে সংবাদপত্রের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক ছিল না, তা ব্যক্তিগত পর্যায়েও পৌঁছেছিল। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অগাধ আস্থা সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের মধ্য দিয়ে উঠে আসে।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন শামস আল মমীন, আলমগীর রেজা চৌধুরী, মুম রহমান ও তানভীর আহমেদ সিডনী।
কম্বোডিয়ার প্রতিমন্ত্রীর গ্রন্থমেলা পরিদর্শন : বুধবার বিকাল ৪টায় কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইত সোফিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিদর্শন করেন। বাংলা একাডেমিতে কম্বোডিয়ান প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।
কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি আবিদ আনোয়ার, জুয়েল মাজহার, নাসরীন নঈম, ফরিদ আহমেদ দুলাল ও সোহেল হাসান গালিব। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী শাকিলা মতিন মৃদুলা ও আবু নাসের মানিক। সন্ধ্যায় ছিল মো. মাসুম হুসাইনের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘পরম্পরা নৃত্যালয়’-এর নৃত্য পরিবেশনা। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী মানসী সাধু, উম্মে রুমা ট্রফি, ফারহানা ফেরদৌসী তানিয়া, কামাল আহমেদ, আজমা সুরাইয়া শিল্পী, মাহবুবা রহমান, নাসরিন জাহান, মুন্নী কাদের। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বাবু জামান (তবলা), প্রদীপ কুমার কর্মকার (অক্টোপ্যাড), ডালিম কুমার বড়ুয়া (কি-বোর্ড) এবং মো. আবু কামাল (বেহালা)।
আজকের অনুষ্ঠান : আজ বৃহস্পতিবার, অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৬তম দিন। মেলা চলবে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত বঙ্গবন্ধু নানা বর্ণে নানা রেখায় শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ পাঠ করবেন আহমাদ মাযহার। আলোচনায় অংশ নেবেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, এনামুল করিম নির্ঝর ও আমীরুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করবেন মাহফুজা খানম। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]