ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

লোককথার সঞ্চয়নী ‘বিশ্বলোকের গল্প’
মোশাররফ হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৫৮ পিএম আপডেট: ২৭.০২.২০২০ ২:০৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 317

সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ধারা হচ্ছে লোকগল্প বা লোককথা। একটি লোককথা হতে পারে কোন ছোটগল্প, পৌরাণিক কাহিনি বা কিংবদন্তি, যা শ্রুতির মাধ্যমে বাহিত হয়ে আসছে; যার একক, শনাক্তযোগ্য লেখক নেই। একটি লোককথা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় এবং সাধারণত সংযোজন, বিয়োজনের মাধ্যমেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে একই লোককথার বিভিন্ন সংস্করণ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়।

লোকগল্পগুলো সাধারণত রূপকের মাধ্যমে শ্রোতাদের বা পাঠকদের জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই কেমন আচরণ করা উচিৎ সে সম্পর্কে একটা দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করে। গল্পগুলোর সাথে পৃথিবীর সবদেশের শিশুদের প্রথম পরিচয় ঘটে পরিবারের লোকজনের কাছ থেকেই। মনোবিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদরা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য রূপকথা এবং লোককথা শ্রবণের উপর জোর দিয়ে থাকেন।

লোককথার এই তত্ত্বগুলোই শিশুদের কল্পনাশক্তিকে উস্কে দিয়ে বিশ্বের উৎস এবং উদ্দেশ্যগুলি সম্পর্কে উপলব্ধি করতে শেখায়। তাদের মনোজগতে সৃষ্টি করে কিছু বিমূর্ত ধারণা এবং মূল্যবোধ। বিশ্ব সম্পর্কে তাদের কল্পনাকে উদ্দীপিত করে, বাড়ির বাইরে বিশ্বকে কল্পনা করার উৎসাহ দেয়, অধিকার এবং অন্যায় সম্পর্কে তাদের বুঝতে সাহায্য করে, উপলব্ধি করতে শেখায় কোন আচরণ প্রত্যাশিত এবং গৃহীত হবে।

লোককাহিনীর মাধ্যমে শিশুরা পরিবারের মূল্যবোধ, বন্ধুত্ব, শ্রমের গুরুত্ব, সততা, বিশ্বাস, ভালবাসা, শ্রদ্ধা, সুরক্ষা, বাবা-মাকে মান্য করা ইত্যাদির মূল্য সম্পর্কে জেনে থাকে।

গল্পগুলোতে খারাপ, অলস এবং অসাধুরা যেমন শাস্তি পায়; তেমনি ভাল, সৎ, পরিশ্রমী এবং সাহসীরা পায় সম্মান ও ভালবাসা। এর মাধ্যমেই শিশুদের মাঝে ইতিবাচক মূল্যবোধের নিজস্ব একটা উপলব্ধি গড়ে উঠে। আর শুধু শিশুরাই নয় লোককথাগুলো থেকে আনন্দ নিতে পারে যেকোনো বয়সী মানুষ।

বিশ্বায়নের এই যুগে এসে পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে আর এতে করেই বেড়ে যাচ্ছে একে অন্যকে জানার পরিসর। পারস্পরিক জানার এই প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিভিন্ন দেশের এবং জাতির লোকগল্প পাঠ। যে কোন জাতির লোকগল্পই সে জাতির প্রবৃত্তি, প্রবণতা ও অভিলাষকে ধারণ করে। গল্পগুলো কখনো পুরনো হয় না, তারা সদা প্রাসঙ্গিক।

বিভিন্ন জাতির এই লোককথাগুলো সহজ সরল ভাষায় আমাদের জানানোর জন্যই লোককথার এক চমৎকার পসরা সাজিয়ে বসেছেন তুহিন তালুকদার।

গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের বইমেলায় এসেছে তার ‘বিশ্বলোকের গল্প দ্বিতীয় খণ্ড’। বইটিতে এশিয়া থেকে তিনটি, আফ্রিকা থেকে তিনটি, ইউরোপ থেকে ছয়টি এবং বাকি মহাদেশগুলো থেকে একটি করে গল্প নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য লোককথা থেকে বাছাইকৃত এই পনেরটি গল্প বিষয় বৈচিত্র্যে একেবারে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের। একইসাথে যে সকল দেশ বা জাতির গল্প বাছাই করা হয়েছে জাতিগতভাবেও তাদের বৈশিষ্ট্য আলাদা করে চোখে পড়ার মতো।

এশিয়ার গল্পগুলোতে যেখানে দেখা যায় সহমর্মিতার উদাহরণ, সেখানে আফ্রিকার গল্পগুলোতে দেখা যায় হার না মানা মনোভাব। আবার নীলনদের পাড়ের গল্পে ভাগ্যের চাইতেও প্রচেষ্টার গৌরবকে যেখানে বড় করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, ইউরোপের গল্পে সেখানে দেখানো হয়েছে ভালোবাসার শক্তি এবং লক্ষ্যে অটুট থাকার সুফল।

অনুবাদ প্রসঙ্গে দু’কথা না বললেই নয়। অনুবাদ মূলত কঠিন কাজ আর শিশুদের জন্য অনুবাদ আরও কঠিন, কেননা সহজ করে বলাটাই সহজ নয়। শিশু কিশোরদের জন্য অনুবাদে আরেকটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ভিন্নতা।

সবশেষে বলতে চাই, বাচ্চাদের বেশি করে রূপকথা পড়তে দিন। কারণ, রূপকথা সত্যের চাইতেও একটু বেশি কিছু, রূপকথায় কেবল ড্রাগনই থাকেনা, চেষ্টা করলে ড্রাগনকে হারিয়ে দেওয়া সম্ভব সে বিশ্বাসও থাকে। বিশ্বলোকের গল্প শিশুদের সুকুমার চিত্তকে রাঙিয়ে তুলুক।

অনুবাদক তুহিন তালুকদার সে কাজটি করেই পাঠকের সামনে তার বিশ্বলোকের গল্পকে তুলে ধরেছেন। মূল গল্পের ভাব অক্ষুণ্ন রেখে শিশু কিশোরদের জন্য সহজবোধ্য ভাষায় প্রতিটি গল্পকেই উপস্থাপন করেছেন নিপুণ দক্ষতায়।

‘বিশ্বলোকের গল্প’ প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৯ নম্বর প্যাভিলিয়ন থেকে বইটি সংগ্রহ করা যাবে। পাওয়া যাবে রকমারিডটকমেও।
 
 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]