ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০ ১ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০

সাঈদীর রায়ের পর সুন্দরগঞ্জে চার পুলিশ হত্যা
সাত বছরেও ধরাছোঁয়ার বাইরে মামলার অধিকাংশ আসামি
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১১:১৪ পিএম আপডেট: ২৮.০২.২০২০ ১২:৫৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 24

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চার পুলিশ হত্যার ৭ বছর হলো আজ শুক্রবার। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর ব্যাপক তাÐব চালায় জামায়াত-শিবিরের লোকজন। তারা পিটিয়ে হত্যা করে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের চার পুলিশকে। আজ ৭ বছর অতিবাহিত হলেও আশানুরূপ এগোয়নি মামলার বিচারকাজ। ঢিমেতালে চলছে বিচারিক কার্যক্রম। ধরাছোঁয়ার বাইরে মামলার অধিকাংশ আসামি। দীর্ঘ সময় পেরোলেও অপরাধীদের বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষ। তবে মামলাটিতে এ পর্যন্ত ৭৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার দিন সুন্দরগঞ্জে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনে অগ্নিসংযোগ, রেললাইন তুলে ফেলা, দোকানপাটে লুটপাট করে প্রায় কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস করে তারা।
নিহত পুলিশ সদস্যরা হলেনÑ রংপুরের পীরগাছা উপজেলার রহমতচর গ্রামের তোজাম্মেল হক, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কিশামত গোবধা গ্রামের হযরত আলী, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাবলু মিয়া ও গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার খামার ধনারুহা গ্রামের নাজিম উদ্দিন। আহত হন আরও ১৮ জন পুলিশ সদস্য। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় সুন্দরগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের হাতে নিহত হন আরও ৪ জন। তারা হলেনÑ আওয়ামী লীগ সমর্থক শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা এসএম খলিলুর রহমান মামুন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হালিম ও সত্যেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ।
জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা সেদিন সুন্দরগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, রেলের প্রকৌশল অফিস, গোডাউন, নিহত এমপি লিটনের ইসলাম শিপ বিল্ডার্স, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজা বেগম কাকলীর বাড়ি, আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় তাÐব চালায়।
তৎকালীন সুন্দরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আবু হানিফ বাদী হয়ে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের জামায়াত দলীয় সাবেক এমপি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দÐপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আব্দুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ ৮৯ জনের নাম উল্লেখ করে ৫ থেকে ৬ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ হত্যা মামলায় আব্দুল আজিজসহ ২৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। কিন্তু মূল আসামি জামায়াতের সাবেক এমপি মাওলানা আব্দুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজসহ মূলহোতারা এখনও পলাতক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গাইবান্ধা জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটি এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রæত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে এ বছরের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি ঘটানো সম্ভব হবে।
এদিকে পুলিশ হত্যা দিবস উপলক্ষে সুন্দরগঞ্জ থানার আয়োজনে আজ শুক্রবার বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, তবারক বিতরণ ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।




এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]