ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০ ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০

করোনা ঝুঁকিতে বিরামপুর সীমান্তের কয়েক হাজার মানুষ, নির্বিকার প্রশাসন
অনেকেই জানে না করোনার প্রাদুর্ভাব সম্পের্ক
বিরামপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২০, ৫:১৫ পিএম আপডেট: ১৯.০৩.২০২০ ৫:২৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 327

মহামান্য হাইকোর্ট যখন করোনাভাইরাসের সংক্রামককে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ঠিক তখনও এ সতর্কতাকে কোনো রকমের তোয়াক্কা করছেন না দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষসহ চোরাচালানী ও মাদকসেবীরা। তারা মানছেন না করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত কোনো নিয়ম-কানুন।

এতে ভয়াবহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। আর করোনা ঝুঁকিতে আতংকে রয়েছে সীমান্তের গ্রামগুলোর কয়েক হাজার নারী-পুরুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিরামপুর উপজেলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সীমান্তঘেঁষা। আর এ ১৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারীর জন্য ৪টি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে।

অপরদিকে ভারতীয় অংশের গ্রামের ভেতর থেকে প্রায় ৩শ গজ অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। এখানে কয়েকটি গ্রাম রয়েছে যেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা সহজে বোঝার সুযোগ নেই। কোথাও কোথাও ভারত ও বাংলাদেশের সীমারেখা শুধুমাত্র একটি ছোট নালা, খাল বা পিলারের মাধ্যমেই দৃশ্যমান। দু‘দেশের ওই গ্রামগুলোতে বসবাসকারী অনেক মানুষ আত্মীয়তার সুবাদে অবাধে যাওয়া-আসা করছে।

সেই সাথে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী চোরাচালানী, মাদকব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরাও নিয়মিত যাওয়া-আসা করছে। খিয়ার মামুদপুর গ্রাম থেকে ১শ গজ দক্ষিণে ভারতীয় সীমানায় বেলতলী নামক স্থানে জুয়ার আসরে প্রতিদিন বাংলাদেশী জুয়াড়ী ও মাদকসেবীদের চলছে অবাধ বিচরণ।

অন্যদিকে, দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিমের এলাকা সংলগ্ন শূন্যরেখার ১০ গজ দূরে ভারত সীমান্তের অভ্যন্তরে অবস্থিত মসজিদে ভারত ও বাংলাদেশের  নাগরিকদেরকে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিণ দামোদরপুর ও দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে বাংলাদেশের মানুষ ভারতে এবং ভারতীয় মানুষ বাংলাদেশে অবাধে প্রবেশ করছে। যদিও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১শ গজ দূরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তরক্ষা বাহিনীর টহলপোস্ট রয়েছে। আর ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর টহলপোস্ট রয়েছে কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরের অংশে।

সীমান্ত এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দু‘দেশের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী অনেকে বিয়ে করে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন যারা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাবার সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিকট মৌখিক সম্মতি নিয়ে যাওয়া-আসা করেন। এসব পরিবারে অনেক ছেলেমেয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে।

এদিকে, ভারতীয় সীমান্তের উঁচাগোবিন্দপুর, কোঁচপাড়া, নিচা গোবিন্দপুর, জামালপুর, শ্রীরামপুর, ভীমপুর ও কৈতাড়া গ্রামের মানুষ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী চৌঘুরিয়া, দক্ষিণ দামোদরপুর, দক্ষিণ দাউদপুর, খিয়ারমামুদপুর, ভাইগড়, হামলাকুঁড়ি, চাপড়া ও বানোড়া গ্রামে যাওয়া-আসা করছেন।

অপর দিকে বিরামপুর শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মাদকসেবী মোটরসাইকেল যোগে বাংলাদেশের সীমান্তের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে মাদকসেবন করে শহরে ফিরে যাচ্ছেন। যারা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়াবহ করোনাভাইরাস সম্পের্ক কোনো নিয়ম-কানুন মানছেন না। তাদের নাকে-মুখে নেই কোনো মাস্ক, গ্রামের দোকানগুলোতে তারা কেনাকাটা করছেন।

অনেকেই কুশল বিনিময়ের সময় হ্যান্ডশেক করছেন। ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে সীমান্তের গ্রামগুলোর কয়েক হাজার মানুষ।

এ ঘটনায় এলাকার সচেতন মহল দাবি করছেন, সীমান্তের গ্রামগুলোতে ভারতীয় নাগরিকসহ মাদকসেবীদের এমন অবাধ বিরচণ চলতে থাকলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা মারাত্মক প্রভাব ফেলবে এবং এ সংক্রমণ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিরামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদী বলেন, নিশ্চয় বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ। ইতোমধ্যে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য আলাদা একটি ভবন প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ১০ জনকে সেবা দেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত উপজেলায় ১০ জন বিদেশ ফেরত বাংলাদেশি নাগরিককে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে অবৈধ পথে শরীরে জ্বর নিয়ে ১ ব্যক্তি আসলেও এখন পযন্ত তিনি পলাতক রয়েছেন।

জানতে চাইলে ভাইগড় ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বলেন, এই বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। আপনার কিছু বলার থাকলে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলতে হবে। তবে আমাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া আছে সেটা হলো এপার থেকে কেউও যাবেও না, আবার ওপার থেকে কেউও আসবেও না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি-২৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শরিফ উল্লাহ আবেদ বলেন, দুই দেশের গ্রামগুলো কাছাকাছি হওয়ার এই ঘটনাটি ঘটছে। বিষয়টি খুবই  ঝুঁকিপূর্ণ। তবে,আমরা সতর্ক রয়েছি। ওইসব এলাকা দিয়ে ভারতীয় কোনো নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করলে বিজিবি তাকে আইনের আওতায় নেবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]