ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল ২০২০ ২৫ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল ২০২০

উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতাল ঘেরাও, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ-হট্টগোল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০, ১:২৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 755

রাজধানীর উত্তরায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার খবরে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা ১১ নম্বর সেক্টর ১৭ নম্বর রোডে ৩৮ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতালটি ঘেরাও করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

রোববার রাতে এলাকার কয়েকশ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তার দুপাশে ব্যারিকেড দিয়ে হাসপাতালটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর ১৭ নম্বর রোড ৩৮ নম্বর বাড়ি রিজেন্ট হাসপাতালের এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি ডা. মঈন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ও ডিএনসিসির ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরীফুর রহমানের  নেতৃত্বে কয়েকশত মানুষ রাস্তা অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল বের করে।

পরে বিশাল মিছিলটি নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা ১৭ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতালে সামনে যায়। এসময় মিছিলকারী স্থানীয় কয়েকশ জনতা হাসপাতালের মূল গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালালে হাসপাতালের লোকজন তাদেরকে বাধা প্রদান করে।

এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয় বাসিন্দা, কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বাধা দিলে মিছিলকারীদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা বাধে। এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও হট্টগোল হয়।

এসময় মিছিলকারীরা হাসপাতাল ভাংচুরের চেষ্টা চালায় । খবর পেয়ে উত্তরা বিভাগের উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপনচন্দ্র সাহা, ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এসময় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির মত ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এসময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ছবি ও তথ্য সংগ্রহকালে মিছিলকারী ও পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এঘটনার পর রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা, ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১১ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুর রহমান ও কল্যাণ সমিতির সভাপতি ডা.মঈন উদ্দিন এবং রিজেন্ট হাসপাতালের কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে ভেতরে  আধাঘন্টা ব্যাপী এক জরুরি সমঝোতার বৈঠক করেন।
 
বৈঠক শেষে বের হয়ে স্থানীয় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: শরীফুর রহমান সাংবাদিকদেরকে বলেন, আমরা এখানে সেক্টরবাসীরা করোনা ভাইরাসের রোগীর ভর্তি কিংবা চিকিৎসা সেবা নিতে দিবো না। আমরা উত্তরাবাসীরা খুব আতংকের মধ্যে আছি। এ বিষয় নিয়ে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে এতক্ষণ বৈঠক করেছি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন (এমপি)-কে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা এ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের তারা চিকিৎসা দিতে দেবেন না। তাদের অভিযোগ হাসপাতালটিতে গ্রাম থেকে রোগী এনে চিকিৎসার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়।

এছাড়া সামান্য হাত ভাঙার কারণে হাসপাতালটিতে গেলেও আইসিইউতে ঢুকিয়ে মোটা অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেয়া হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বলেন, করোনা রোগী এই ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হবে এমন গুজবে এলাকার লোকজন জড়ো হয়েছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অবহিত করা হবে। কল্যাণ সমিতির নেতাদের বলেছি- সবাইকে শান্ত থাকতে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষে সাথে যারা চুক্তি করেছে তাদের সাথে কথা বলতে। পুলিশ এ কথা জানানোর পর এলাকাবাসী শান্ত হন। তারা আপাতত ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

 (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা জানান,  উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতাল মালিক ও কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাসের রোগী চিকিৎসা করার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৫টি হাসপাতাল অনুমতি নিয়েছিল। তার মধ্যে রিজেন্ট হাসপাতাল রয়েছে। আমরা তাদের কাগজপত্র দেখেছি। আমরা হাসপাতাল বন্ধ করতে পারি না। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাপার। তারা এবিষয়ে সিদ্বান্ত নিবেন।

এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুনরায় রোগী রাখার চেষ্টা করলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান এলাকাবাসী। আতঙ্কিত এলাকাবাসী মনে করছে, আবাসিক এলাকায় রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের রোগীর চিকিৎসা করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাররা অধিক ঝুঁকিতে পড়বেন।

স্থানীয়রা জানান, উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতাল। এমনিতেই আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল থাকা মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর এখানে করোনা আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দাররা অভিযোগ করে বলেন, নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাসপাতাল প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা রিজেন্ট গ্রুপের হাসপাতালের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কক্ষে রিজেন্ট হাসপাতালের পক্ষে এই সমঝোতা চুক্তিতে সাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ শাহেদ।

উত্তরা ১১ নম্বর কল্যাণ সমিতির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবিএম আতিকুর রহমান মুরাদ বলেন, মহল্লার ভেতর গড়ে ওঠা এ হাসপাতালটি এলাকার পরিবেশ দূষিত করছে। এ ছাড়া করোনার রোগীদের এখানে চিকিৎসা দেয়া হবে শুনে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে।

তিনি বলেন, পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা প্রশমিত হয়। হাসপাতালটিতে যাতে করোনার রোগীদের চিকিৎসা না দেয়া হয়, সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

উত্তরা ১১ নম্বর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরীফুর রহমান বলেন, জীবন দিয়ে হলেও এলাকার শান্তি-পরিবেশ বজায় রাখব। সেক্টরের ভেতরে কোনো করোনা রোগী চিকিৎসা করাতে দেয়া হবে না। রিজেন্ট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন নানা ধরনের অভিযোগ করে বলেছেন ক্লিনিকটি এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে।

এ বিষয়ে জানতে রোববার রাত সাড়ে ৯টায় ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১১ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ভাই মো: সোহেল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ঘটনার পর আমার মামাতো ভাই কাউন্সিলর মো: শরীফ রহমানকে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে র‌্যাব-১ উত্তরা কার্যালয়ে নিয়ে গেছে।

পরবর্তীতে ডিএনসিসি ৫১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শরীফুর রহমানের ব্যক্তিগত মেঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]