ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৫ জুন ২০২০ ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ৫ জুন ২০২০

গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ
প্রধানমন্ত্রীর আজকের ভাষণের দিকে তাকিয়ে বিজিএমইএ
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.০৩.২০২০ ১১:৩৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 274

মহাসঙ্কটে পড়েছে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাতসহ পুরো অর্থনীতি বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত আড়াই বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানির আদেশ বাতিল হয়েছে। টাকার অঙ্কে যা প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। এভাবে একের পর এক রফতানি আদেশ বাতিল পোশাক শিল্পকে একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু পোশাক খাতের রফতানি কার্যাদেশ স্থগিত হওয়ার ফলে দেশের নিম্ন আয়ের প্রায় ১ কোটি মানুষ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত আড়াইশ’ কোটি ডলার বা আড়াই বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানির আদেশ বাতিল হয়েছে। এই সঙ্কট উত্তরণে সরকার-মালিক-শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে মোকাবেলা করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সংগঠনের সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বিজিএমইএ হটলাইন অনুসারে মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৫০ কোটি ডলারের রফতানি আদেশ  বাতিল হয়েছে। এ তথ্য ১ হাজার ৩০০ কারখানার। এসব কারখানায় ১৫ লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ করে। পোশাক খাতের এমন ধসের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, দেশের রফতানি আয়ের বড় উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সংগঠিত ও অসংগঠিত নিম্ন আয়ের মানুষ। তিনি বলেন, পোশাক খাতের ৪০ লাখ শ্রমিকের পাশাপাশি এর সঙ্গে প্রায় ১ কোটি লোক জড়িত। তারা এই মন্দায় বড় ধরনের সঙ্কটে পড়বে। এ ছাড়া হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিক, দিনমজুর, কাজের বুয়া, ফেরিওয়ালা ও রিকশাচালকÑ এমন অসংগঠিত খাতের অসংখ্য মানুষ বিপদগ্রস্ত হবে। এজন্য সরকার ও উদ্যোক্তা এবং শ্রমিকপক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে এমন সঙ্কটেও পোশাক খাতের শ্রমিকরা নির্দিষ্ট সময়ে তাদের মজুরি পাবে উল্লেখ করে রুবানা হক বলেন, শ্রমিকরা আমাদের অংশ। আজকের পোশাক খাতের উন্নতিতে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ তাদেরই। তাদের আমরা বাদ দিয়ে কোনো কিছু ভাবছি না। এ ছাড়া সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাদের আশ^স্ত করা হয়েছে যে, তারা আমাদের পাশে আছেন। প্রধানমন্ত্রী যতদিন আমাদের পাশে থাকবেন; ততদিন আমরা পানিতে পড়ব না। এক প্রশ্নের জবাবে রুবানা হক বলেন, পোশাক কারখানা বন্ধের বিষয়ে চ‚ড়ান্ত ঘোষণা আসবে বুধবার। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তার বক্তব্যে আমরা দিকনির্দেশনা পাব। এরপরই আমরা চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
অন্যদিকে সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, তৈরি পোশাক কারখানার সহযোগিতা আমাদের দরকার। তারা আমাদের মাস্ক ও জীবাণু প্রতিরোধকারী পোশাক সরবরাহ করছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার নেওয়া হয়েছে। আরও ৯০ হাজার মাস্ক সংগ্রহ করা হবে তৈরি পোশাক কারখানা থেকে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বাব অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনার প্রভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিঘিœত হবে। বিশেষত বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক আরও বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে তৈরি পোশাক খাতে রফতানি আদেশ বাতিল হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পাবেন। তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা আমাদের ওপর ভরসা রাখুন। আমাদের পাশে থাকুন, যখন বেতনের সময় আসবে, তখন আপনারা বেতন পাবেন। রুবানা হক বলেন, বিশ^জুড়ে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক খাত একটি কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কাউকে ধৈর্য হারালে হবে না। তিনি বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আশ^স্ত করা হচ্ছে, সরকার আমাদের সঙ্গে আছে। তিনি দেশের গণমাধ্যমকেও এ সময় পোশাক শিল্পের পাশে থাকার আহŸান জানিয়ে বলেন, বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে এখন বলা দরকার, আমাদের যেসব পণ্য প্রস্তুত আছে, সেগুলো তারা যেন ক্রয় করে, না হলে আমরা বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ব।






এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]