ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩ এপ্রিল ২০২০ ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ৩ এপ্রিল ২০২০

২৫ মার্চ কালরাত, একটি জাতি এবং জাতীয়তা
ফরিদুল আলম
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

সারা বিশে্ব আজ ভয়াবহ এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে এই ভয়াবহ ভাইরাসটি। ১৯২টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। আমরাও আজ গভীর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের দেশেও ভাইরাসাটি তার থাবা বসিয়েছে। করোনায় আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও হয়েছে একাধিক ব্যক্তির। খুব স্বাভাবিকভাবেই এখন আমাদের রাষ্ট্রীয় যেকোনো আচার অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে বিশ^ব্যাপী মহামারী হয়ে দেখা দেওয়া করোনাভাইরাসের প্রতিরোধ সম্পর্কিত বিষয়টিকে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দিবস গত হয়েছে এবং সামনে আরও আছে। ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাঞ্চল্য ছিল, কিন্তু সহসাই সবকিছু মøান হয়ে যায় বাংলাদেশে করোনার আগমনের মাধ্যমে। বেশ কয়েকজন বিশ^নেতার উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী যখন একটি বৈশি^ক আমেজ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল, এমন সময় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের অনুষ্ঠান পালন বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য একটাই দেশের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দুর্যোগ থেকে আমরা শিগগিরই মুক্তি লাভ করে পরবর্তীতে বছরব্যাপী মুজিব বর্ষকে পালন করতে পারি এবং বাঙালি জানতে পারে বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবনের অনেক
না জানা কথা।
আজ এমন একটা সময় এই লেখা নিয়ে হাজির হয়েছি যখন আজ থেকে ৪৯ বছর আগের ১৯৭১ সালের কালরাতের দগদগে ঘা এখনও আমাদের বাংলাদেশের গায়ে অমলিন রয়ে গেছে। সঙ্গত কারণেই এই দিনটিকে উপলক্ষ করে আমাদের মনে ভেসে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের হাজারো স্মৃতি। কী পরিমাণ ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে একটি জাতি তার আত্মপরিচয় লাভে সব বাধাকে অতিক্রম করে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দিতে পারে বাংলাদেশের অভ্যুদয় এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। হাজার বছরের পরাধীনতা থেকে মুক্তি লাভ করতে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল একজন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জন্য, যিনি অথৈ সাগরে ভেসে বেড়ানো বাংলাদেশ নামক ডিঙ্গি নৌকাটিকে তীরে ভিড়িয়ে মুক্তির অপার আনন্দে ভাসিয়েছিলেন আমাদের। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার খোকা নামক একজন অতি সাধারণ ছেলের পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা, এসবকিছুর মূলে ছিল বাঙালির ওপর হাজার বছরের নিপীড়ন আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে সরব প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠা।
আর তাই ব্রিটিশ শাসনের পূর্ব থেকে ৩ হাজার বছরের পরাভ‚ত বাঙালি জাতি ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে সংগঠিত হলেও ১৯৪৭ সালে যখন ভারত ভাগ হয় এর মূলে ছিল অনেকটা দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে কাহিল হয়ে পড়া ব্রিটিশদের ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’র মতো ভারত থেকে বিদায় হয়ে কৌশলে এমন দুটি রাষ্ট্র রেখে যাওয়া যারা সারা জীবন একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাবে। এমন এক অবস্থায় যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে বর্তমান পাকিস্তানের অন্যতম একটি প্রদেশ করে তথাকথিত দ্বিজাতি তত্তে¡র মধ্য দিয়ে ভারত এবং পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হলো, বঙ্গবন্ধুর মানসপটে অমøান হয়ে থাকা অসংখ্য বঞ্চনার স্মৃতি তখন জ্বলজ্বল করতে থাকে। কীভাবে নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করা যায় সেই ভাবনা থেকে তিনি নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন বাঙালির অধিকার আদায়ের
প্রতিটি সংগ্রামে।
আর এই সংগ্রামের সূচনা হয় ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যা আমাদের জাতীয়তার মূল ভিত্তি। ভাষা আন্দোলনের তৎকালীন সময়ে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তাঁর কারাবরণের অভিজ্ঞতা হয়। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রক্ত দেওয়ার সূচনা মূলত তখন থেকেই। এরপর ২৩ বছরের নাতিদীর্ঘ পাকিস্তান শাসনের ভেতর থেকেও স্বাধিকারের দাবিতে সুদীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস, যার প্রতিটি পরতে লেখা রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম। তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের (পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ) একজন সাধারণ সদস্য থেকে যুগ্ম সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিত্ব লাভ, পরবর্তীতে পদত্যাগ, গ্রেফতার, আবার আইয়ুব খানবিরোধী সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত করাÑ এসব থেকে এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের মূল নেতা হয়ে ওঠা এর প্রতিটি অর্জনের
নেপথ্যে রয়েছে এ জাতিকে নেতৃত্বদানে বঙ্গবন্ধুর যোগ্যতা এবং নেতৃত্বদানের গুণাবলির স্বীকৃতি।
১৯৬৬ সালে তিনি যে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন, মূলত সেখানেই বাঙালির স্বাধীনতার চ‚ড়ান্ত ইশতেহার পেশ করা হয়ে গিয়েছিল। ৬ দফা ছিল এমন এক রাজনৈতিক অবস্থান, তখনকার পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর জন্য এমন এক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া, যা মানা বা না মানা এ দুটোই ছিল তাদের জন্য এক চ‚ড়ান্ত নৈতিক পরাজয়। কেননা এসব দাবির ভেতর প্রকারান্তরে নিজেদের আলাদা করে শাসনের নীতিই জানান দিয়েছিল তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান, যেখানে রয়েছে আলাদা করে বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তিস্বাক্ষরের ক্ষমতা, আলাদা মুদ্রা, আলাদা প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী প্রতিষ্ঠা ইত্যকার বিষয়, যা পূর্ব পাকিস্তানকে অর্পণ করলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আর কোনো নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাই থাকে না।
অপরদিকে যদি কোনোরকমভাবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে আপসরফার মাধ্যমে কোনো একটি দাবি ছাড় দেওয়া হয় তাহলেও পরবর্তী সময়ে বাঙালি জাতির আর স্বাধীন জাতি হয়ে ওঠার আর কোনো সুযোগ খোলা থাকে না। সেদিক বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু এমন এক সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন, যার মধ্য দিয়ে মূলত সমগ্র বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা আদায়ের সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকার এক বার্তা দিয়ে দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে মোক্ষম সুযোগটি আসে ১৯৭০ সালের নির্বাচন ঘোষণার মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধু খুব ভালো করেই জানতেন যে, স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতি স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্য থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবে না, আর এটাই ছিল তার মূল অনুপ্রেরণা। ১৯৭০-এর নির্বাচনে অভ‚তপূর্ব ফলাফলে যখন আওয়ামী লীগ সমগ্র পাকিস্তান শাসন করার ম্যান্ডেট লাভ করে এমন সময় একের পর এক ভুলের মতো আরেকটি অপকর্ম করে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান। দ্বিতীয় বৃহত্তম দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে বসে। প্রতিবাদে ফুসে উঠে সমগ্র পূর্ব বাংলা। ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে রাজনীতির মহাকবি হিসেবে অঘোষিতভাবে স্বীকৃতি পেয়ে যান বঙ্গবন্ধু তার অমর ভাষণের মাধ্যমে। সেদিনের সেই ১৯ মিনিটের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন বাঙালির বিরুদ্ধে জুলুম আর নির্যাতনের সব ইতিবৃত্ত। সেই সময় সমবেত ১০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণের দাবিকে যেন সহসাই পড়ে ফেলেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর তাই তার শেষোক্ত উক্তি ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই থেকে স্বাধীনতা অর্জনে সংগঠিত হতে থাকে সমগ্র জনতা। বুঝতে আর বাকি রইল না রক্ত ছাড়া আর স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়।
তারপরও বঙ্গবন্ধুর সমগ্র রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তিনি আলোচনার দরজা কখনও বন্ধ করেননি। একদিকে আলোচনা চালিয়েছেন, অপরদিকে তিনি মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য। এদিকে আলোচনার নামে সঙ্কট সমাধানের পরিবর্তে ইয়াহিয়া খান গোপনে এই অঞ্চলে তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং সৈন্য সমাবেশ করতে থাকেন, যার চ‚ড়ান্ত প্রয়োগ ঘটান ২৫ মার্চ কালরাতে। আর দশটি রাতের মতো হলেও সেই রাতটি হঠাৎ করেই হয়ে ওঠে অন্যরকম। নির্বিচারে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবর্ষণ করে হত্যা করা হয় বিশ^বিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক, পুলিশ, ইপিআর সদস্যসহ অসংখ্য সাধারণ জনতাকে, যার মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতির মধ্যে ভীতি ছড়ানো যেন তারা স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে দাঁড়ায়। এতটা লোমহর্ষক কায়দায় আলোচনার নামে সঙ্কট সমাধানের পরিবর্তে সাধারণ এবং নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া, কল্পনাকেও হার মানায়। সে রাতে কত সংখ্যক বাঙালিকে হত্যা করা হয়েছিল সে সম্পর্কে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না
থাকলেও ধারণ করা হয় যে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নিহত হন। নিরস্ত্র মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা ছাড়াও পাকিস্তানিরা সে রাতে বাঙালির মুক্তির মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তাদের মনে এই ধারণা ছিল যে এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা এটা বুঝতে পারেনি যে বঙ্গবন্ধু তার অসাধারণ নেতৃত্বগুণে অনেক আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন যে সম্ভাব্য কী ঘটতে পারে। আর সে জন্যই তিনি তার অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সমগ্র নির্দেশনা তার অনুসারী নেতাদের দিয়ে রাখেন, সেই সঙ্গে প্রস্তুত করে রাখেন আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা, যা পেশ করা মাত্রই বাঙালি তার অধিকার আদায়ের চ‚ড়ান্ত সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ২৫ মার্চ কালরাত তাই আমাদের বাঙালি জাতির একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তার ধারক হিসেবে আমাদের ইতিহাসে অমলিন থাকবে সবসময়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিকভাবে সারা বিশে^ পরিচিত হয়ে উঠেছিল সেই সময়ের নির্ভিক বাঙালি জাতির আপসহীন একটি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, যে সংগ্রামে মাত্র ৯ মাস সময়ের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জিত হলেও প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩০ লাখ মানুষ। সেই সময় থেকে বাঙালি জাতি এবং বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতিসত্তার সঙ্গে এক এবং অভিন্ন হয়ে আছেন। স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতির যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল তা অনেকদূর পর্যন্ত
বিস্তৃতি লাভ করে।
বছরের পর বছর সেনাশাসন এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা এ সবকিছু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে ব্যাপকভাবে কলুষিত করেছে। আমাদের জাতিসত্তা নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। অথচ আমাদের জাতিসত্তার মূলে যে অনুভ‚তি, বৈষম্যহীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বারবার উপক্ষিত থেকে গেছে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের প্রাক্কালে গণপরিষদে তাঁর ভাষণে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল অসম মরণ সংগ্রামে। জাতীয়তাবাদ না হলে কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে আমরা এগিয়ে গিয়েছি।... এই যে জাতীয়তাবাদ, সে সম্পর্কে আমি একটা কথা বলতে চাই। ভাষাই বলুন, শিক্ষাই বলুন, সভ্যতাই বলুন, আর কৃষ্টিই বলুন, সবার সঙ্গে একটা জিনিস রয়েছে, সেটা হলো অনুভ‚তি।... অনেক দেশ আছে একই ভাষা, একই ধর্ম, একই সবকিছু, কিন্তু সেখানে বিভিন্ন জাতি গড়ে উঠেছে, তারা একটি জাতিতে পরিণত হতে পারে নাই। জাতীয়তাবাদ নির্ভর করে অনুভ‚তির ওপর। আজ বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, এই সংগ্রাম হয়েছিল যার ওপর ভিত্তি করে সেই অনুভ‚তি আছে বলেই আজকে আমি বাঙালি, আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদ।’ (গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রদত্ত ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বরের ভাষণ) আজ এই ক্ষণে তাই একটাই প্রত্যাশা থাকবে, আমাদের জাতীয়তা নিয়ে সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান হোক।

ষ সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
     বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]