ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩ এপ্রিল ২০২০ ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ৩ এপ্রিল ২০২০

১০ টাকা দরে চাল বিক্রি করবে সরকার
দরিদ্রদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও আমলে নিন
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 15

করোনাভাইরাস এখন বিশ^ জুড়ে আতঙ্কের নাম। বাংলাদেশেও এর বিস্তার ঘটছে। প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। একদিকে করোনা আতঙ্ক, অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছে মহাবিপাকে। করোনা সংক্রমণ রোধে দেশ জুড়ে চলছে অলিখিত লকডাউন। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণাসহ ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত অফিস-আদালত ছুটি দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের সব ধরনের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। সংক্রমণ রোধে জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব রকম জনসমাবেশ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ করোনা মোকাবেলায় সতর্কতা গ্রহণ একেবারে অপ্রতুল বলা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গণসচেতনতা। মানুষ যার যার অবস্থান থেকে এ ভয়াবহ সময়কে অতিক্রম করতে সচেষ্ট আছে বলে আপাতদৃষ্টিতে আমরা আশান্বিত।
তারপরও বারবার যে প্রশ্নটি উঠে আসছে, খেটে খাওয়া অথবা নিম্ন আয়ের মানুষদের নিয়ে। কীভাবে এই কঠিন সময় মোকাবেলা করবে তারা? ইতোমধ্যে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি করে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনিসহ অধিকাংশ জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য মজুদ করে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে। অবশ্য সরকার বলছে, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পণ্যসামগ্রী মজুদ আছে।
এ অবস্থায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে কেজিপ্রতি ১০ টাকায় মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমদামে ডাল, ভোজ্য তেল বিক্রি করার চিন্তাও করছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল বিক্রির এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। খোলা বাজারে (ওএমএস) সবার জন্য ৩০ টাকা করে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ডিলার ১ টন করে চাল বরাদ্দ পাবে। এক ব্যক্তি সর্বাধিক ৫ কেজি চাল ক্রয় করতে পারবে। ইতোমধ্যেই ওএমএসে ১৭ টাকা কেজি দরে আটা বিক্রি করছে খাদ্য অধিদফতর। খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লকডাউনকালীন শহরের দরিদ্র মানুষের জন্য আরও কমদামে চাল দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী বলে আমরা মনে করছি। দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এমনিতে করোনা আতঙ্কিত মানুষ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। মধ্যবিত্ত বা উচ্চমধ্যবিত্তের চাল-ডালের চিন্তা কম। তারা স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত। সরকারের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কমদামে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও তাদের হতাশা কমিয়ে দেবে।
আমরা লক্ষ করছি, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বস্তিবাসীদের জন্য কোনো কার্যক্রম নেই। এমনিতে অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও ঘিঞ্জি পরিবেশে জীবনযাপন করে তারা। নানা রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকে। তার মধ্যে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো করোনাভাইরাসের থাবা এগিয়ে আসছে। তাদের সুরক্ষার জন্য আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি সেটাও কিন্তু সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে। তারা নিরাপদ না থাকলে সমাজের সব ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়বে। এসব বিষয় নিয়ে যত দ্রæত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে ততই দেশের জন্য মঙ্গল। আমরা প্রত্যাশা করছি, সরকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়েও কার্যক্রম গ্রহণ করবে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]