ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল ২০২০ ২৫ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল ২০২০

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায়
কামরুল হাসান হবিগঞ্জ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ১০:৫৬ পিএম আপডেট: ২৬.০৩.২০২০ ১২:১৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 14

১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম বৈঠক হয়েছিল। ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন ২৭ সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকেই দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল গ্রহণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণকে ভাগ করা হয় ১১টি সেক্টর ও তিনটি ব্রিগেডে।
এ বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি ওসমানী, তৎকালীন মেজর সিআর দত্ত, মেজর জিয়াউর রহমান, কর্নেল এমএ রব, রব্বানী, ক্যাপ্টেন নাসিম, আব্দুল মতিন, মেজর খালেদ মোশাররফ, কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী, ভারতের ব্রিগেডিয়ার শুভ্র মানিয়ম, এমপিএ মৌলানা আসাদ আলী, লে. সৈয়দ ইব্রাহীম ও মেজর কেএম শফিউল্লাহ।
১নং সেক্টরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। ২নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন প্রথমে খালেদ মোশাররফ পরে মেজর হায়দার। ৩নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর শফিউল্লাহ পরে মেজর নুরুজ্জামান। ৪নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত। ৫নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। ৬নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার বাশার। ৭নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কাজী নূরুজ্জামান। ৮নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর ওসমান চৌধুরী মেজর এমএ মনছুর। ৯নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর আব্দুল জলিল এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন এমএ মঞ্জুর। ১০নং সেক্টর নৌবাহিনীর সৈনিকদের নিয়ে গঠন করা হয়। ১১নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজন আবু তাহের ও পরে ফ্লাইট লে. এম হামিদুল্লাহ। আর জিয়াউর রহমানের নাম অনুসারে ‘জেড ফোর্স’ জিয়াউর রহমানের দায়িত্বে, মেজর শফিউল্লাহর নাম অনুসারে ‘এস ফোর্স’ মেজর সফিউল্লাহর দায়িত্বে এবং খালেদ মোশাররফের নাম অনুসারে অন্য ব্রিগেড ‘কে ফোর্সে’র দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর খালেদ মোশাররফের ওপর।
৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর কেএম শফিউল্লাহ তার হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানে।
সড়ক ও রেলপথে বৃহত্তর সিলেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে উপজেলার তেলিয়াপাড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এখান থেকে মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা ছাড়াও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ কয়েকটি সেক্টরের কমান্ডাররা বিভিন্ন সময়ে তেলিয়াপাড়া সফর করেন। ম্যানেজার বাংলোসহ পাশর্^বর্তী এলাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেনানায়কদের পদচারণায় মুখরিত।
১৯৭১ সালের ২১ জুনের পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের কারণে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত সেক্টর হেড কোয়ার্টার তুলে নেওয়া হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিজড়িত তেলিয়াপাড়া চা বাগান স্মৃতিসৌধ এলাকা এখন আকর্ষণীয় পিকনিক স্পটে পরিণত হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন বুলেট আকৃতির স্মৃতিসৌধ, ম্যানেজার বাংলো ও চা বাগানের অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্যকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে পিকনিক স্পট।
প্রতিবছর শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য পিপাসুরা পিকনিক করতে ছুটে আসেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক কিংবা তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা স্থানে অবস্থিত তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলো। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলোর যে ভবনটিতে সেনানায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের বৈঠক হতো সেই বাংলোটি আজও স্মৃতি ধারণ করে আছে।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]