ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২ অক্টোবর ২০২০ ১৬ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২ অক্টোবর ২০২০

খালেদা জিয়ার মুক্তি : বন্দিদশা থেকে ফিরলেন ফিরোজায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ১১:০৪ পিএম আপডেট: ২৬.০৩.২০২০ ১২:০৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 97

দীর্ঘ ২৫ মাস পর মুক্ত হলেন খালেদা জিয়া। প্রিয় নেত্রীকে দেখতে ঘণ্টা চারেক ধরে হাসপাতালের বাইরে নেতাকর্মীদের অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে বিকাল সোয়া ৪টায় কারামুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। 
২ বছর ১ মাস ১৬ দিন পর মুক্ত হয়ে সরাসরি গাড়িবহর যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে গুলশানের ফিরোজা বাসভবনে উঠেন তিনি। এখন থেকে এখানেই অবস্থান করার কথা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর।
হাসপাতালের কেবিন ব্লকের নিচে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল খালেদা জিয়াকে সব সময় বহন করা গাড়িটি (ঢাকা-মেট্রো-ভ ১১-০৬৯২)। নারী কারারক্ষীদের সহায়তায় ছয় তলার ৬১২ কেবিন থেকে হুইলচেয়ারে নামানো হয় অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনকে। সঙ্গে ছিলেন তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ব্যক্তিগত সেবিকা ফাতেমা বেগমও। খালেদা জিয়ার পরনে ছিল হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি। চোখে পুরনো সেই রোদ চশমা। করোনা থেকে রেহাই পেতে মুখে ছিল মাস্কও। গাড়িতে বসে সে মাস্ক কিছুক্ষণের জন্য খুলে রাখেন তিনি। বাম হাতটা একটা কাপড় নিয়ে মোড়ানো ছিল। তবে ডান হাত দিয়ে গাড়িতে নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার নিজে গাড়ি চালিয়ে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন। শামীমের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ছিলেন খালেদার পাশের সিটে।
বুধবার দলীয় চেয়ারপারসন মুক্ত হবেন। আর এই মুক্তির খবরে বুধবার সকাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বেলা গড়ালে সেই ভিড় রীতিমতো উপচে পড়ে। করোনাভাইরাসের মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েও হাসপাতালের সামনে জমায়েত হতে থাকেন তারা। এক পর্যায়ে হাসপাতালের খালেদা জিয়ার কেবিন থেকে বেরিয়ে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নিজেই নেতাকর্মীদের সরে যেতে মাইক দিয়ে অনুরোধ করেন। সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সরে যেতে বলেন। এগুলোর কিছুই কাজে আসেনি। পুরো ভিড় ঠেলেই খালেদা জিয়াকে নিয়ে গাড়ি বহর ছোটে গুলশানে। এ সময় গাড়ির চারপাশ ঘিরে নেতাকর্মীরা ‘খালেদা, খালেদা, জিয়া, জিয়া, আমার মা, আমার মা’ সেøাগান দিতে থাকেন। গাড়িবহরটি বিকাল ৫টার দিকে কারওয়ান বাজার অতিক্রম করার সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। নেতাকর্মীরা তবুও গাড়িবহরের সঙ্গে যেতে থাকলে ফার্মগেট এলাকায় আবারও লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
সোয়া ৪টার দিকে ছাড়া পেয়ে সোয়া ৫টায় গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর রোডের বাসভবন ফিরোজায় প্রবেশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেই বাসার সামনেও দেখা যায় নেতাকর্মীদের ভিড়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা এবং দলের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও কেউ তা পরোয়া করেননি। খালেদা জিয়ার গাড়ি তার বাসার সামনে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে উপস্থিত তার চিকিৎসক, পরিবারের কয়েকজন সদস্য, বোন সেলিমা ইসলাম ও দলের সিনিয়র কয়েকজন নেতা কারামুক্ত খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর তাকে হুইল চেয়ারে করে গাড়ি থেকে বের করা হয়। বাসার ভেতরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও সেলিমা রহমানসহ অনেকে ছিলেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া চেয়ারপারসনকে আমরা বাসায় নিয়ে আসতে পেরেছি। আমরা বিশ^াস করি তিনি এই ঘরোয়া পরিবেশে মানসিকভাবে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠবেন। ইনশাল্লাহ তাকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা হবে। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ম্যাডামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। আজকে তার নিজস্ব চিকিৎসকরা বসবেন এবং অন্যান্য বিষয়গুলো পরামর্শ করে দেখা হবে।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বাসায় নিতে বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পৌঁছান তার পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। করোনায় তাদের দেখা গেছে পুরো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জাম বা পিপিই নিয়ে খালেদা জিয়ার কেবিনে প্রবেশ করতে। এর পর কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত একজন নার্স ও চারজন ডাক্তার কেবিনে যান। পরে দুই দফায় হাসপাতালে ব্যবহৃত খালেদা জিয়ার সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ট্রলিতে করে গাড়িতে তোলা হয়।
অন্যদিকে বুধবার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রীর কথার সুরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি তার ছোট ভাইয়ের জিম্মায় থাকবেন। এ সময় তিনি কেন রাজনীতি করবেন? মুক্তির শর্ত হিসেবে বাসায় অবস্থান করতে হবে খালেদা জিয়াকে। চিকিৎসা নিতে হবে দেশেই। সাজা মওকুফকালীন ছয় মাস তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। দশ বছর পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে দশ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। ২ বছরের বেশি সময় কারাভোগের প্রায় এক বছর ছিলেন তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।












সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]