ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২০ ২৫ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২০

সময়ের আলো সাক্ষাৎকার
প্রকৃত রাজাকারের তালিকা করতে আরও এক বছর
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ১১:০৪ পিএম আপডেট: ২৬.০৩.২০২০ ১২:০৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 306

আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ওঠায় শেষ পর্যন্ত সেটি স্থগিত করে সরকার। ২৬ মার্চ তালিকা প্রকাশের জন্য ঘোষণা হয় নতুন তারিখ। কিন্তু ২০২০ সালেও হচ্ছে না রাজাকারের তালিকা। আরও এক বছর পর সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। দৈনিক সময়ের আলোকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নতুন এ তথ্য জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।
আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরোধিতাকারীর আসল রাজাকারের সংশোধিত তালিকা ২৬ মার্চ ঘোষণা করার কথা থাকলেও এ বছর তা হচ্ছে না। তালিকা প্রকাশ করতে আরও এক বছর লাগবে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ যেন দিতে পারি এ প্রত্যাশা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
তিনি বলেন, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ ওঠার পর তা নিয়ে ক্ষোভের মুখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে ২৬ মার্চ রাজাকারের তালিকা সংশোধন করার প্রতিশ্রুতি দেন।
১০ হাজার ৭৮৯ জনের ওই তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে এরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার,
আল-বদর, আল-শামসসহ স্বাধীনতাবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল। ওই সময় ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপুর নাম রাজাকারের তালিকায় চলে আসে। তখন এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নিজের নাম রাজাকারের তালিকায় দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। এমন আরও পরিচিত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রাজাকারের তালিকায় স্থান পায়। ঘটনার পরপরই তালিকাটি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
৭১-এর রণাঙ্গনের যোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে রাজাকারদের তালিকা প্রণয়ন হবে এবং অসঙ্গতিপূর্ণদের বাদ দেওয়া হবে। আমি নিজেও অভিযোগ আসাদের নিয়ে কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার চেষ্টা করছি।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে আদালত একটি রায় দিয়েছেন। কিন্তু রায়টি সুস্থ মস্তিষ্কে দিয়েছেন কি না ভাবতে হবে! কারণ, যা সঠিক নয় তা ভুয়া বলেই সম্বোধিত। এ দেশে জজ, হাকিম, ব্যারিস্টার, উকিল থেকে শুরু করে ভুয়া মন্ত্রী-এমপিও আছে! আপনি যা না, তার পরিচয় দিচ্ছেন বলেই তো ভুয়া। তাই ভুয়াদের ভুয়া বলতে সমস্যা কোথায়? সেটা হোক মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তি সংগ্রামে না গিয়ে কেন যোদ্ধার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে?
করোনারভাইরাসের কারণে স্বাধীনতা দিবসের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে সরকার। এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে অনেক প্রস্তুতি থাকার পরও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হচ্ছে না। সারা দেশে সব অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের হাতে নেওয়া কর্মসূচিগুলোও বাতিল করা হয়েছে।
দেশের আনাচে-কানাচে থাকা গণকবর সংরক্ষণে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ উপজেলার ইউএনওদের কাছে অর্থ পাঠিয়ে দিচ্ছি। তারা কাজ করছেন। দফতরে অনেকে অরক্ষিত কবরের সন্ধান পেলে জানাচ্ছেন। যেখানেই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের গণকবরের সন্ধান মিলবে, সেখানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় কাজ কতটুকু হলো, না হলো তা তদারকি করছে। কোথাও গণকবর অরক্ষিত থাকলে স্থানীয় প্রশাসন আমাদের অবহিত করছেন।
আ ক ম মোজাম্মেল হক দ্বিতীয়বারের মতো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ গাজীপুর-১ আসন থেকে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা রাখা মোজাম্মেল হক গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিরি সহসাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তৎকালীন গাজীপুর মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গাজীপুরের প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি ১৯ মার্চ গাজীপুর থেকে সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ১৯৮৯ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত গাজীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকেটে জয়ী হন। এ সময় তিনি সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]