ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩ এপ্রিল ২০২০ ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ৩ এপ্রিল ২০২০

‘এ ছুটি উৎসবের নয়, বাসায় থাকার’
করোনা প্রতিরোধে সচেতন হোন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ১১:৩৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

বিশ^ব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এ থেকে মুক্ত নই আমরাও। ইতোমধ্যে করোনা সংক্রমণে বাংলাদেশেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাড়ছে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাও। এ সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে, মানুষকে করোনাভাইরাসের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভাইরাসটির ঝুঁকি বিবেচনায় বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা জারি করেছে, যা থেকে ভাইরাসটির ভয়াবহতা আঁচ করা যায়। যেহেতু প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটির বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধক এখনও আবিষ্কার হয়নি, তাই ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতাই এ ক্ষেত্রে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে। সংক্রামক ব্যাধির নিয়ম মেনেই ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে, ফলে এখন যত কম মানুষের সংস্পর্শে আসা যাবে, ততই মঙ্গল। যত কম মানুষের মেলামেশা হবে, ভাইরাসটি তত কম ছড়াতে পারবে। আমরা তত বেশি নিরাপদ থাকতে পারব। এ বিবেচনায় সরকার ভাইরাসটির বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক আগেই বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে করোনার প্রভাবে দেশে মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় সরকার মানুষের জীবন রক্ষায় আরও বিস্তৃত পরিসরে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ছুটি ঘোষণা করে। এ ছুটির মধ্যে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ এবং এর আগে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ও পরে ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক, ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটিও এর সঙ্গে যোগ হয়। ফলে সাধারণ মানুষ ১০ দিনের সাধারণ ছুটি পায়।
সরকারের এ সাধারণ ছুটির লক্ষ্যÑ মানুষ যেন ঘরে থাকে, তাদের যেন বাইরে বের হতে না হয়। অথচ যে উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার ছুটি ঘোষণা করেছে, আমাদের অসচেতনতায় এ ছুটির উদ্দেশ্য বিফলে যেতে বসেছে। সরকার ছুটি ঘোষণার পরই সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকা ছাড়তে শুরু করে। রীতিমতো উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হয় লঞ্চ, বাস, ট্রেন স্টেশনে। এর আগে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, তখনও ঠিক এমন একটি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রসহ বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় তখন মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়। বাধ্য হয়ে সরকারকে বিনোদনকেন্দ্রগুলোর ভিড় এড়াতে পদক্ষেপ নিতে হয়। অথচ এ ক্ষেত্রে আমাদের ব্যক্তি পর্যায়ের সতর্কতা জরুরি ছিল। আমাদের এ ধরনের অসচেতনতা এবং দায়িত্বহীন আচরণে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলতে বাধ্য হয়েছেন, এ ছুটি উৎসবের নয়, বাসায় থাকার। আমরাও মনে করি, মানুষের জীবন রক্ষায় সরকার যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, তাতে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারের সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়ে পড়বে।
বিশে^র বিভিন্ন দেশে করোনা যেভাবে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে, আমরা যেন সে অবস্থার সম্মুখীন না হই, আমরা যেন নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে না আনি তাই সচেতন হতে হবে। এ সময়ে ঘরে থাকার মাধ্যমে আমরা যেমন নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারি, তেমনি নিরাপদ রাখতে পারি আমাদের পরিবারকেও। তাই আসুন সবাই ঘরে থাকি, সরকারের নির্দেশনা মেনে চলি। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি। করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার মোক্ষম উপায় মানুষের সংস্পর্শ এড়ানো। কথাটি যেন আমরা কোনোভাবেই ভুলে না যাই। করোনা প্রতিরোধে আমাদের সচেতনতা এবং ভূমিকাই আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]