ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০

ইসলামে স্বাধীনতা অর্জন ও দেশের সুরক্ষা
মাওলানা মুনীরুল ইসলাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ১১:৪২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 45

স্বাধীনতা আল্লাহ তায়ালার অপূর্ব দান। স্বাধীনতা যে কত বড় নেয়ামত, পরাধীন ব্যক্তিই তা অনুধাবন করতে পারেন। পরাধীনতা মানুষের জন্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথে বড় বাধা। পরাধীন মানুষের পক্ষে তৃপ্তিভরে আল্লাহর ইবাদত করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষায় সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক মানবসন্তান ফিতরাত তথা স্বভাবজাত ধর্মের ওপর জন্মগ্রহণ করে।’ (বুখারি : ১৩৫৮)। এই ফিতরাতের মধ্যেই স্বাধীনতার মর্মকথা নিহিত।স্বাধীনতা একজন মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে
থাকার প্রথম অধিকার। মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে নিয়ে সর্বপ্রকার স্বাধীনতাকে ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সারা জীবনের মৌলিক উদ্দেশ্যের অন্যতম ছিল মজলুম জনতার স্বাধীনতা অর্জন করা এবং তাদেরকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। তিনি আজ থেকে প্রায় ১৪৫০ বছর আগে আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার পরাধীনতা দূর করে মদিনা নগরীতে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মদিনাকে স্বাধীন করেছিলেন ইহুদিদের কবল থেকে। স্বাধীন রাষ্ট্রের ভিতকে মজবুত করার জন্য মদিনা ও পাশর্^বর্তী অঞ্চলের মুসলমান, ইহুদি ও পৌত্তলিকদের নিয়ে সব জাতি ও সম্প্রদায়ের মানবিক ও ধর্মীয় অধিকারকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদন করেনÑ যা ‘মদিনা সনদ’ নামে প্রসিদ্ধ। একটি স্বাধীন কল্যাণ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এটিই পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান।
স্বাধীনতা রক্ষা ও মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একদিন ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেওয়া পৃথিবী ও তার অন্তর্গত সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’ (তিরমিজি : ১৬৬৭)। অন্য হাদিসে বলেছেন, ‘মৃত ব্যক্তির সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তার আমল আর বৃদ্ধি পায় না। তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে ব্যক্তি কোনো ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তার আমল কেয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং কবরের প্রশ্নোত্তর থেকেও সে মুক্ত থাকবে।’ (তিরমিজি: ১৬২১; আবু দাউদ : ২৫০২)। আরও বলেন, ‘একদিন এক রাতের পাহারা ক্রমাগত এক মাসের নফল রোজা এবং সারারাত ইবাদতে কাটিয়ে দেওয়ার চেয়েও উত্তম।’ (মুসলিম)
আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়ে মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। তাই মানুষ স্বাভাবিকভাবে এবং সঙ্গত কারণে স্বাধীনচেতা। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কোনো ধরনের পরাধীনতাই ইসলাম সমর্থন করে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে মুক্ত করে তাদের, তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খল থেকেÑ যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তার প্রতি বিশ^াস স্থাপন করে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং যে নূর তার সঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে এর অনুসরণ করে তারাই কৃতকার্য।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৫৭)
রাসুল (সা.) একটি স্বাধীন ভূখণ্ড লাভের জন্য কঠোর সাধনা করেছিলেন। পৃথিবীতে চিরসত্য, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পর তিনি ও তাঁর সাহাবায়ে কেরাম মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করেছিলেন এবং মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে সে স্বাধীনতার বিস্তৃতি ও পূর্ণতা অর্জিত হয়েছিল। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে চিন্তা ও মত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ দিয়ে তিনি ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোতভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কল্যাণমূলক আরব রাষ্ট্র পৃথিবীর ইতিহাসে একটি চিরন্তন আদর্শের উদাহরণ হয়ে আছে। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি স্বাধীনতা রক্ষায়ও তিনি জোরালো ভূমিকা রেখে গেছেন। রাসুল (সা.) হিজরত করার পর মদিনাকে নিজের মাতৃভূমি হিসেবে গণ্য করেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাঁর জীবনের অনেক প্রতিরোধ যুদ্ধ ছিল মদিনা রাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্য। তিনি স্বাধীনতা অর্জন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনদানকে শাহাদাতের মর্যাদায় ভূষিত করেন।
১৯৭১ সালে আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতাও অনেক জান-মাল এবং ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। এই অর্জনে যারা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে তারাও শহীদের মর্যাদায় ভূষিত। সুতরাং এমন ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]