ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৮ এপ্রিল ২০২০ ২৪ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার  বুধবার ৮ এপ্রিল ২০২০

হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কে ইসলাম
সাঈদ কাদির
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ১১:৪২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 119

সম্প্রতি সারা বিশে^ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। যার প্রকোপে সারা দুনিয়া আতঙ্কিত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোও। ভয়াবহতম এ দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে ফিরছে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা। নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং (সামাজিক দূরত্ব), লকডাউন (বদ্ধাবস্থা) ও হোম কোয়ারেন্টাইন বা ঘরবন্দি জীবনযাপনের। মহামারীর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এসবের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। এ ব্যবস্থাগুলো অধিকাংশ মানুষের কাছে নতুন ও অপরিচিত মনে হলেও ইসলামী জ্ঞানসম্পন্নদের কাছে এগুলো নতুন বা অপরিচিত নয়। কেননা মহামারী প্রতিরোধে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দুটি নির্দেশনা অত্যন্ত সুষ্পষ্ট।
এক. মহামারী সংক্রমিত এলাকার মানুষ নিজ এলাকা ছেড়ে বাইরে যাবে না এবং বাইরের কাউকে সে অঞ্চলে প্রবেশ করতেও দেওয়া হবে না। মোটকথা, আক্রান্ত এলাকাকে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা। এটাই লকডাউন বা বদ্ধাবস্থা। বিষয়টি সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে এভাবে এসেছেÑ হজরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা যখন শুনবে যে, কোনো ভূখণ্ডে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সেখানে প্রবেশ করবে না আর যদি তুমি সেই ভূখণ্ডে অবস্থান কর, তাহলে সেখান থেকে বের হবে না।’ (বুখারি : ৫৭৩৯; মুসলিম : ২২১৯)
চীনের উহানে করোনাভাইরাসের প্রথম আক্রমণ হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের দিকে। কিন্তু ঠিক তখনই চীনে প্রবেশ ও চীন থেকে অন্যত্র বহির্গমন বন্ধ করা হয়নি। হাদিসের আলোকে আমলের নিয়তে যদি ডিসেম্বরেই আমরা শুধু চীনকে কার্যত লকডাউন করতে পারতাম, তাহলে হয়তো ভাইরাসটি আজ বিশ^ব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করত না। সুতরাং এখন আর অবহেলা নয়, হাদিসের ভাষ্য স্মরণ রেখে আমরা সবাই লকডাউনে চলে যাওয়াই ভবিষ্যতের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে ইনশাল্লাহ।
দুই. মহামারী ছড়িয়ে পড়লে নিজ গৃহে অবস্থান করা। এ সম্পর্কে বুখারি, নাসায়ি, সুনানে কুবরা ও আহমদ
প্রভৃতি কিতাবে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিস স্মরণ করতে পারি। হাদিসটি হজরত অয়েশা (রা.)-এর জবানে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত আজাব। আল্লাহ যাকে চান এতে আক্রান্ত করেন। অতপর মুমিনের জন্য আল্লাহ এটিকে রহমত হিসাবে প্রমাণিত করেন। সুতরাং যে কেউ মহামারী চলাকালীন ধৈর্যের সঙ্গে নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং এই ধারণা পোষণ করবে যে, তার ওপরে এই মহামারীর থেকে আল্লাহ যতটুকু চান তার চেয়ে একটুও বেশি কিছু পৌঁছাবে না। এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ শহিদি মর্যাদা নসিব করবেন। (সুনানু কুবরা; নাসায়ি : ৫/২৫৬; মুসতাদরাকে
হাকিম : ১/৬১৪)
দেখা গেল, মহামারীর সময় স্বেচ্ছাবন্দিত্ব বা ঘরবন্দি জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও নিয়ত সঠিক থাকলে এবং এতে মৃত্যুবরণ করলেও মহান রব আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার সমান সওয়াব দান করবেন। সুতরাং হাদিসের আলোকেই আমরা লকডাউন, সোশ্যাল ডিসটেন্সিং ও হোম কোয়ারেন্টাইন ইত্যাদি পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারি। আল্লাহ আমাদেরকে যাবতীয় আজাব-গজব থেকে হেফাজত করুন। আমিন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]