ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০ ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০

ভিন্নরকম এক স্বাধীনতা দিবস করোনা যুদ্ধে জয়ের প্রত্যাশা
হাবীব রহমান
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ৯:৪৬ পিএম আপডেট: ২৬.০৩.২০২০ ১১:৫৪ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

স্বাধীনতার ৪৯ বছরে বাঙালি জীবনে এ এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। শহীদদের স্মরণে স্বাধীনতা দিবসে ফুলে ফুলে ভরে যায় স্মৃতিসৌধ। লাল-সবুজের আবাহনে মেতে উঠে গোটা জাতি। এবারের পরিস্থিতি পুরো আলাদা। বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসে হয়নি পুষ্পস্তবক অর্পণ, ছিল না কুচকাওয়াজের আয়োজন, বাতিল সভা-সমাবেশ। করোনাভাইরাস বিশ^ জুড়ে আতঙ্কের যে ঢেউ তুলেছে তা বাংলাদেশেও পৌঁছেছে।
অন্যান্য বছর মহান স্বাধীনতা দিবসের কাকডাকা ভোর থেকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস, সোহরাওয়ার্দী ও রমনা পার্কে নারী, পুরুষ ও শিশুর ঢল নামে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রায় সর্বত্রই উচ্চস্বরে দেশাত্মবোধক গান বাজে। আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন সবাই। কিন্তু এবার মাইকের কোনো শব্দ নেই। নেই মানুষের পদচারণা। মারাত্মক ছোঁয়াচে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কায় সবাই সচেতন হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। সরকারিভাবেও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে ঘরেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার ‍অবসান ঘটিয়ে বিশ^ মানচিত্রে জায়গা করে নেওয়ার ৪৯তম বার্ষিকীতে স্বাধীনতা দিবস ভিন্ন আঙ্গিকে এসেছে বাংলাদেশে।
অথচ অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছরে এবার স্বাধীনতা দিবসের উদযাপন আরও আড়ম্বরভাবে পালন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের পর দ্রæত পাল্টায় পরিস্থিতি, বদলাতে হয় পরিকল্পনা। উৎসব আয়োজনের পরিবর্তে শুরু হয় অন্যরকম যুদ্ধ প্রস্তুতি।
বৈশি^ক মহামারী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধের একমাত্র উপায় জনসমাগম এড়িয়ে চলা। প্রায় এক বছর ধরে নানা পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণের পরও তাই শেষ মুহূর্তে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব বর্ষের উদযাপন অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করেন, স্থগিত করা হয় মুজিব শতবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
ভয়াবহ সংক্রামক ব্যাধি কোভিড-১৯-এর বিস্তার রোধে একে একে আসে নানা ঘোষণা। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আকার সীমিত করার ঘোষণাও আসে। ২১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বঙ্গ ভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়।
১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর অস্ত্রহাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত শহীদদের স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রীয় এমন ঘোষণা দেওয়া ছাড়া উপায়ও ছিল না। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় মানুষ নেই, গাড়িও চলছে না। ছোট বড় শপিংমল, মার্কেট, হোটেল রেস্টুরেন্ট, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালতও বন্ধ। অবস্থা এমন যে, ঢাকা শহর ঘুরে কেউ হাতের কড়া গুণে বলে দিতে পারবে রাস্তায় কত লোক আছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকার বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। গণপরিবহনসহ সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ রেখেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীসহ দেশের মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে।
রোগতত্ত¡বিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে এ রোগ ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে কারণেই স্বাধীনতা দিবসের প্রায় সব অনুষ্ঠান বাতিল করে সরকার।
একই সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বুধবার প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আমরা এবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভিন্নভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসমাগম হয় এমন সব ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।
৪৯ বছরে এবারই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এমন কাটছাঁট করতে হলো। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার পরই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর অসংখ্য জীবন উৎসর্গের পর আসে স্বাধীনতা, হার মানে পাকিস্তানি বাহিনী। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে নতুন এক দেশের জন্ম হয়।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে বর্তমান পরিস্থিতিকেও যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবারে ভাষণে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলাও একটি যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আপনারা ঘরে থাকুন। এখন আপনাদের দায়িত্ব ঘরে থাকা। আমরা সব প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হব।
শোষকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা বাঙালি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধেও জয় ছিনিয়ে আনবেÑ এবারের স্বাধীনতা দিবসে এটাই প্রত্যাশা।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]