ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০ ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০

স্মৃতিসৌধের এই রূপ দেখেনি কেউ
সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ৯:৪৬ পিএম আপডেট: ২৬.০৩.২০২০ ১১:৫৩ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। প্রতি বছরে এই দিনটির প্রথম প্রহরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা কর্মীসহ পুরো জাতি। লক্ষ জনতার ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হয় শহীদ বেদি।
তবে স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম পুরো স্মৃতিসৌধ ছিল ফাঁকা। করোনাভাইরাসের দ্বারা উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে এবারের চিত্র এটি। এতটুকু শ্রদ্ধার ফুল নেই শহীদ বেদিতে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বন্ধ ঘোষণা করা হয় স্মৃতিসৌধের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা। নিষিদ্ধ করা হয়েছে জনসাধারণের প্রবেশ।
প্রতিবছরই স্বাধীনতা দিবসের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে থেকে স্মৃতিসৌধ ধোয়া-মোছার জন্য জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। শুরু হয় পরিচ্ছন্নকর্মীদের কর্মযজ্ঞ। তবে এবার সব ধরনের ধোয়া-মোছা শেষ হলেও শেষ মুহূর্তের কাজ সম্পন্ন করার আগেই ২১ মার্চ স্মৃতিসৌধের সব আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এই দিনে ফুলে ফুলে আর শ্রদ্ধায় সিক্ত হয় শহীদ বেদি। পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকায় থাকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। আর ২৬ মার্চ স্থবির ছিল জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। কোনো মানুষের ছিল না আনাগোনা, ছিল না কোনো কর্মযজ্ঞের চিহ্ন।
স্মৃতিসৌধের পরিচ্ছন্ন কর্মী সাগর আক্ষেপ করে বলেন, দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের জন্য স্মৃতিসৌধ সাজানোর কাজ শেষ করতে পারলাম না। তাদের জন্য কষ্ট করে স্মৃতিসৌধ সাজানোর কাজ শেষ করতে পারলে স্বার্থক মনে হতো নিজেকে। প্রতি বছরে দুই দিন এই সেবা করার সুযোগ পাই আমরা। এবার এটা থেকেও বঞ্চিত হলাম। খুব খারাপ লাগছে। কাজ শেষে যখন ২৬ মার্চ সকাল থেকে লাখ লাখ মানুষ ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসে তখন গর্বে বুকটা ভরে যায়। আর এবার স্মৃতিসৌধের সামনে এসে খুব খারাপ লাগছে।
অপর এক পরিচ্ছন্নকর্মী বলেন, করোনাভাইরাস আমাদের এবার কাজ করতে দিল না। স্মৃতিসৌধকে মনের মতো করে সাজাতে দিল না এই ভাইরাস। এবার কিছুই করতে পারলাম না শহীদদের জন্য। এবার কাজ করতে না পারায় খুব খারাপ লাগছে। ২৬ মার্চ এই স্মৃতিসৌধের সাজসজ্জা শেষ হলে মনে হয় স্বাধীনতা কত মধুর, কত আনন্দের। আর যখন জনতার ভিড়ে পা রাখার জায়গা থাকেনা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে তখন মনে হয় এই শহীদের স্থান ধোয়া-মোছা করে আমরা ধন্য।
স্মৃতিসৌধের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাথী নামের এক দর্শনার্থী জানান, আজকের এই দিনে স্মৃতিসৌধের সাজসজ্জা হয় চোখ ঝাঁঝালো। স্বাধীনতার স্বাদ যেন এখানে না আসলে বোঝার উপায় নেই। ২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধে আসলেই স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া যায়। এবার করোনাভাইরাস স্বাধীনতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত করল দেশবাসীকে। সঙ্গে শ্রদ্ধা থেকে বঞ্চিত করল সূর্য সন্তানদের। আমি প্রতিবারই শ্রদ্ধা জানাতে এখানে আসি। এবারও বাসায় থাকতে পারলাম না। ভেবেছিলাম  ভেতরে প্রবেশ করতে পারলে আমি শ্রদ্ধা জানাব। কিন্তু এ সুযোগটাও হলো না।
জাতীয় স্মৃতিসৌধের সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বরাবরের মতোই স্মৃতিসৌধ ধোয়া-মোছা ও সাজানোর কাজে হাত দিয়েছিলাম। শেষ মুহূর্তের কাজ ছাড়া সব ধরনের কাজ সম্পন্নও করেছিলাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে ২১ মার্চ স্মৃতিসৌধের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর থেকে স্মৃতিসৌধের শেষাংশের কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]