ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০ ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০

ফিরোজায় যেমন কাটল খালেদা জিয়ার ২৪ ঘণ্টা
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ৯:৪৬ পিএম আপডেট: ২৬.০৩.২০২০ ১১:৪৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 52

‘কারাগার-হাসপাতালে কেমন কাটছে খালেদা জিয়ার’Ñ শিরোনামগুলো এতদিন এমনই ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিকালে আকস্মিকভাবে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যায়। নেতাকর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর জল্পনা-কল্পনা শেষে মুক্তি পান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২ বছর ৪৫ দিন কারাভোগের পর এখন গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়া এমন এক সময়ে কারামুক্ত হলেন, যখন গোটা বিশে^ ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। যার প্রাদুর্ভাবে বন্দিত্ব থেকে ছাড়া পেয়েই নিজেকে সুরক্ষার জন্য থাকতে হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। করোনাসহ সব দিক বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা গৃহে একা থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় প্রবেশের পরপরই নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈষৎ কুশলাদি বিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে করোনার কারণে মুখে ছিল মাস্ক। এর আগে ছোটভাই শামীম ইস্কান্দারের সেলফিতে হাস্যোজ্জ¦ল দেখা যায় খালেদা জিয়াকে। সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীও।
রাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে শীর্ষ ৭ নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। পরে বিএনপিপন্থি একটি চিকিৎসক দলও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে ফিরোজায় যান। তারা হলেনÑ প্রফেসর ডা. এফএফ রহমান, প্রফেসর ডা. রজিবুল ইসলাম, প্রফেসর ডা. আবদুল কদ্দুস, প্রফেসর ডা. হাবিবুর রহমান, প্রফেসর ডা. সিরাজ উদ্দিন ও প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। পরে লন্ডনে থাকা বড়ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপে কথা বলেছেন তিনি। জানা যায়, বরাবরের মতো খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাসায় আছেন ব্যক্তিগত গৃহপরিচারিকা হিসেবে ফাতেমা বেগম। যিনি কারাগার ও হাসপাতালে ৭৭৪ দিন খালেদা জিয়াকে সহায়তা করেন। ফাতেমাই তাকে খাবার সরবরাহ করে দিচ্ছেন। দৈনিক সময়ের আলোকে এমনটাই জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার ছোটভাই শামীম ইস্কান্দার। তিনি আরও বলেন, আমরা আপাতত কেউ উনার কাছে যাচ্ছি না। বৃহস্পতিবারও কেউ দেখা করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া যাদের সাজেস্ট করবেন তারাই উনাকে বাসায় এসে দেখে যাবেন। তবে তার এখন শ^াসকষ্ট হচ্ছে, কথা বলতে পারছেন না, উঠে দাঁড়াতে পারছেন না। হাঁটতে পারছেন না, বসে থাকতেও বেশিক্ষণ পারছেন না, গায়ে হাত দিলেই ব্যথা লাগছে তার। খাওয়া-দাওয়াও করতে পারছেন না, খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছে। মুভ করানোর মতো অবস্থা নাই। বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। ডান হাতটাও ভালো না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াসহ আমরা সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। তিনিও চান বাসাতেই থাকবেন। সেখানে থেকেই চিকিৎসা নেবেন। আমাদের সিদ্ধান্তও তাই। আর বাসায় চিকিৎসার জন্য বিএনপি একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। চিকিৎসকরা আপাতত দূরত্ব বজায় রেখেই চিকিৎসা দেবেন।
আর বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, চিকিৎসার সার্বিক তদারকি করবেন খালেদা জিযার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান। হাসপাতাল থেকে আসার পর বাসায় এখন মানসিকভাবে অনেকটাই ভালো আছেন তিনি।
এদিকে করোনার কারণে বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার ফিরোজার বাসভবনের সামনে তেমন ভিড় দেখা যায়নি। ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন-আল-রশিদ সময়ের আলোকে জানান, খালেদা জিয়া নিজে না ডাকা পর্যন্ত তারা আপাতত দেখা করবেন না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া চিকিৎসকরাও তেমন যাবেন না। উনার শরীর খুবই দুর্বল, ওজন কমে গেছে। আর করোনায় ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া আছে।
দুর্নীতির দুই মামলায় ২ বছরের বেশি সময় সাজা ভোগের পর শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মুক্তি পাওয়ার আগে প্রায় বছরখানেক চিকিৎসাধীন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিন বøকে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]