ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০ ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০

রাজধানী ঢাকা এখন অচেনা নগরী
নেই বাসের হর্ন, রিকশার টুংটাং শব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ১০:০২ পিএম আপডেট: ২৭.০৩.২০২০ ১২:০১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 69

রাজধানী ঢাকা এখন অচেনা এক নগরী। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার এক ধরনের লকডাউন করেছে। বাসের কোনো হর্ন নেই। নেই রিকশার টুংটাং শব্দ। ব্যস্ত নগরের রাস্তার যে দিকে দৃষ্টি যায়, সে দিকেই শুধু ফাঁকা আর ফাঁকা। কোলাহলমুখর ঢাকা এখন বিরাজ করছে সুনসান, নীরবতা। কখনও কখনও রাস্তার মোড়ে নীরবতা ভেঙে সেনাবাহিনীর গাড়িতে টহল। পাশাপাশি পুলিশের টহলের গাড়ি। দোকানপাট কল কারখানা বন্ধ। অলিগলিতে নেই মানুষের শোরগোল।
শতবর্ষের ঢাকা শহরের এমন চিত্র আর কখনও দেখা যায়নি, জানালেন ষাট বছরের মালিবাগের এক বাসিন্দা।
তিনি দুকদম হেঁটে নিজের মোবাইলে টাকা লোড করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দোকানও বন্ধ। কোথাও বাস নেই। অবশ্য গত ২৪ মার্চ সড়ক ও মহাসড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। আর সে কথা অনুসারে বুধবার থেকে বাস চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ তো বটে, দূরপাল্লার বাসও বন্ধ। আর ট্রেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়েছে অনেক আগেই। কোলাহলমুখর রেলস্টেশন আর লঞ্চ-টার্মিনাল এখন জনমানবশূন্য। সদরঘাটের বুড়িগঙ্গার নদীর যতদূর চোখ যায়, দৃষ্টির সীমারেখায় অথৈ পানি আর পানি। আর জনশূন্য ফাঁকা রেলস্টেশন দেখে মনে হয়, রেললাইন দুটো যেন বয়ে যাচ্ছে সমান্তরাল। কুকুরের ইতিউতি দৃষ্টি শূন্যতায় কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে।
সায়েদাবাদ বাস-টার্মিনালে বাস থাকলেও, যেন তাদের কোনো শব্দ নেই। কোলাহলমুখর এ টার্মিনাল এখন শুধু নীরবতা। বেশকিছু শ্রমিক টার্মিনালে অলস দিন কাটাচ্ছে। যারা বাড়ি যেতে পারেননি। তারা তাস খেলে কিংবা লুডু খেলে দিন কাটাচ্ছে। খাবারের ব্যবস্থা তারা নিজেরাই করছে। তবে এ খাবারের উপকরণ একেবারে কম। সায়েদাবাদ আন্তঃবাস মালিক শ্রমিকদের নেতারা গরিবদের পাশে সচ্ছল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহŸান জানিয়েছেন। একইভাবে দিন কাটাচ্ছেন গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের শ্রমিকরা।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডানা মেলে সারি সারি বিমান । কিন্তু কোনো পাখা সচল নেই। এখানেও ছন্দপতনের ইতিহাস এই প্রথম। বিভিন্ন ওষুধের দোকান খোলা রাখার কথা থাকলেও, অনেকেই অজানা এক আশঙ্কায় দোকান খোলেনি। কোনো কোনো স্থানে ভ্যানে করে তরিতরকারি বিক্রি করতে দেখা গেলেও, বাধ সাধছে কেউ কেউ। কোনো ডায়াগনস্টিক খোলা নেই। যে কারণে অনেককে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
অলিগলিতে ছোটখাটো লন্ড্রি কিংবা সেলুন বন্ধ। অনেকে প্রতি দুই দিন অন্তর সেলুনে গিয়ে সেভ করেন। কিন্তু তারও কোনো উপায় নেই। লন্ড্রিতে যারা নিয়মিত কাপড় আয়রন করেন তারাও সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। তবে এ লকডাউনের মধ্যে কাউকে গাড়ি নিয়ে বিলাস ভ্রমণের নমুনা দেখা গেছে। নিউমার্কেটের ফুটওভার ব্রিজের নিচে গাড়িচালককে টহলরত পুলিশের কর্মকর্তারা এ সময়ে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার কারণ জানতে চেয়েও সদুত্তর পায়নি। একইভাবে বেশ কয়েকটি হোন্ডাচালককে একই প্রশ্ন ছিল পুলিশ কর্মকর্তাদের । কিন্তু সেখানেও তারা নীরব।
সরকার কাঁচাবাজার খোলা রাখার কথা বললেও, বেশিরভাগ কাঁচাবাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। একই সঙ্গে কাঁচাবাজারগুলো কেমন জানি ফাঁকা। তবে শান্তিনগরের এক মুরগি বিক্রেতা জানালেন, মুরগির জন্য ক্রেতা আসছেন । কিন্তু অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম। পুরো ঢাকা শহর এখন হকারমুক্ত। জনমানবশূন্য ঢাকা এখন অন্য এক ঢাকা শহর। বৃহস্পতিবার ছিল মহান স্বাধীনতা দিবস। এ দিবসে সারা শহর জুড়ে চলে বাংলাদেশের পতাকার মিছিল। মাইকে দেশত্মবোধক গান বাতাসে ভেসে বেড়ায়। কিন্তু বাতাস কেন জানি থমকে গেছে। থমকে গেছে ফুলের সৌরভ ছিটানো। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ। কিন্তু একটি ফুলের পাপড়ির আঁচড় লাগেনি সেই স্মৃতিসৌধে।
মানুষের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ করোনাভাইরাস যেন দূরে ঠেলে দিয়েছে। তবে এ লকডাউন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]