ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০ ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
হুমকির মুখে সম্ভাবনাময় ফসল সয়াবিন
মাজহারুল আনোয়ার টিপু লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ১০:০২ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 10

জলবায়ুর প্রভাবে ‘সয়াল্যান্ড’ হিসেবে খ্যাত ল²ীপুর জেলায় এবার সয়াবিনের চাষ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি মৌসুমে অসময়ে বৃষ্টি হওয়ায় জেলার ২০ ভাগ কৃষক এবার সয়াবিন চাষ করতে পারেননি। আর যারা করেছেন তারাও এবার সয়াবিন চাষে লোকসানের আশঙ্কা করছেন। এতে করে এ জেলায় প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকার সম্ভাবনাময় ফসল সয়াবিন এবার হুমকির মুখে পড়েছে।
অবশ্য কৃষি গবেষকরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৭৫ ভাগ সয়াবিন ল²ীপুরে উৎপাদিত হলেও জলবায়ুর প্রভাবে এবার এ জেলায় সয়াবিনের চাষ কমেছে। তবে সঙ্কট মোকাবেলায় স্বল্প দিনের সয়াবিনের জাত উদ্ভাবনে চেষ্টা চলছে বলে জানান তারা।
অন্যদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, সয়াবিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশীয় সয়াবিন থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদনে বিশেষ নজর দেওয়া গেলে, দেশে যে ২০ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি করা হয় সে আমদানির প্রায় অর্ধেক টাকা রাষ্ট্রীয়ভাবে বাঁচানো সম্ভব হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে উৎপাদিত সয়াবিনের মধ্যে ল²ীপুর জেলায়ই উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৭৫ ভাগ সয়াবিন। গেল বছর ৪৮ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হয়েছে ৮৬ হাজার ৪১০ টন। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৩ হাজার ২৩৭ হেক্টর জমিতে, কিন্তু চাষ হয়েছে ৪০ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯১৭ টন, কিন্তু আবাদকৃত জমি অনুযায়ী সম্ভাব্য উৎপাদন ৭৭ হাজার ৭৩০ টন। কম খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে রামগতি, কমলনগর, সদর ও রায়পুরে কৃষকদের আগ্রহ বেশি সয়াবিন চাষে। জেলার প্রায় ৭৫ হাজার কৃষক সয়াবিন চাষ করে থাকেন। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ল²ীপুরে সয়াবিন উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে জানুয়ারির শুরুতে একাধিকবার বৃষ্টি হওয়ায় সয়াবিন চাষিরা সময়মতো জমি প্রস্তুত ও বীজ বপন করতে পারেননি। জেলার ২০ ভাগ চাষি তাদের জমি রেখেছেন অনাবাদি। কেউ কেউ আবার আবাদ করেছেন বোরো। অনেকে আবার দেরিতে হলেও সয়াবিন আবাদ করেছেন।
তবে চাষিরা জানান, বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এবার বৃষ্টি হওয়ায় বীজ রোপণে দেরি হয়েছে তাদের। প্রতিবছর যেখানে এ সময়ে ফলন ধরত সে সময়ে অপরিপক্ব রয়ে গেছে সয়াবিন গাছ। এমন পরিস্থিতিতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এ ছাড়া প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে করে সয়াবিনে পচন ধরে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে জানান।
কৃষি অধিদফতরের মতে গত ৩ বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সয়াবিন নষ্ট হয়েছে চাষিদের।
অন্যদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট নোয়াখালী অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মহী উদ্দিন চৌধুরী জানান, জলবায়ুর প্রভাব পড়েছে কৃষিতে। ২০১৪ সাল থেকে জলবায়ু সঙ্কটের আবর্তে আবর্তিত হচ্ছে সয়াবিন। এতে করে উৎপাদন ব্যাহত হওয়াসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না। সঙ্কট মোকাবেলায় স্বল্প দিনের সয়াবিনের জাত উদ্ভাবনে চেষ্টা চলছে।
এতে সয়াবিনের ব্র্যান্ডিং জেলা ল²ীপুরে সয়াবিন উৎপাদন আরও সমৃদ্ধি লাভ করবে বলে মত প্রকাশ করেন এ কৃষি গবেষক।
ল²ীপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ বেলাল হোসেন খান জানান, ল²ীপুরে সয়াবিন সম্ভাবনাময় একটি ফসল। দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৭৫ ভাগ সয়াবিন উৎপাদন হয় এ জেলায়। চলতি মৌসুমে জলবায়ুর প্রভাবে সয়াবিন চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হয়নি। এর কারণ হিসেবে অসময়ে বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে চিহ্নিত করে নতুন উদ্ভাবিত বীজ সরবরাহে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান। এখানে সোহাগ, বারী-৬, বিনা-১ ও বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ^বিদ্যালয় ভ্যারাইটি-১ জাতের সয়াবিন চাষ হচ্ছে। সয়াবিনের উৎপাদন আরও ব্যাপকহারে বাড়িয়ে তোলার কাজ চলছে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]