ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ এপ্রিল ২০২০ ২১ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ৫ এপ্রিল ২০২০

আজও স্বীকৃতি পাননি ফুটবলযোদ্ধারা!
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ১০:৫৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 10

বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে এ দেশ। পাকিস্তানি হানাদারদের হারাতে হয়েছে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে। সেই যুদ্ধে অনন্য অবদান রেখেছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। বিদেশের মাটিতে তারাই প্রথম উড়িয়েছেন লাল-সবুজ পতাকা, মুক্তিযোদ্ধাদের অর্থের জোগান দিতে নেমে পড়েছিলেন মাঠে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বৈশি^ক স্বীকৃতি আদায়সহ নানা বিষয়ে লড়াইয়ের জন্য ফুটবলকে বানিয়েছিলেন হাতিয়ার। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও বড় আক্ষেপ নিয়ে দিন কাটছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জায়গা পাওয়া সেই ফুটবলযোদ্ধাদের। কোনো স্বীকৃতি যে মেলেনি! এই দেশ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে এখনও জাতীয় কোনো স্বীকৃতি দেয়নি!
অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। সেই সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু বললেন, ‘কলকাতা থেকে আমরা জানলাম, যারা বর্ডারে আছ তারা চলে আস। এখানে একটা ফুটবল টিম হচ্ছে। সালাউদ্দিনরা চলে আসল। আমরা প্রায় ৪৫ জনের মতো প্লেয়ার জড়ো হলাম। ট্রায়ালের পর ৩৫ জন সিলেক্ট হলাম। যেহেতু আমি সিনিয়র ছিলাম তাই আমাকে অধিনায়ক বানানো হলো আর প্রতাপ শংকর হাজরাকে সহঅধিনায়ক। প্রথম খেলা আমাদের ২৫ জুলাই। কৃষ্ণনগর স্টেডিয়ামে, নদীয়া একাদশের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের আগে ওরা জানতে চাইল, আপনারা কি কি করবেন? সুযোগ বুঝে বললাম, তোমাদের পতাকার সঙ্গে পতাকা উড়াব এবং আমরা আমাদের পতাকা নিয়ে মাঠ প্রদিক্ষণ করব।’
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক আরও বলেন, ‘পরদিন আমাদের জানিয়ে দেওয়া হলো পৃথিবী আমাদের স্বীকৃতি দেয়নি, তাই পতাকা উড়াতে পারব না। এতে আমরাও খেলতে অপারগতা জানাই। বিকাল সাড়ে পাঁচটা বাজার পর খেলা শুরু না হওয়ায় দর্শকরা ভাঙচুর শুরু করে। কারণ অধিকাংশই এসেছিল মেহেরপুর থেকে, বাংলাদেশের সমর্থক। তখন তারা মিটিং করে এবং ডিসি বিকে ঘোষ জানান, আমরা ১০ মিনিটের জন্য পতাকা উত্তোলন করতে পারব। আমরা রাজি হয়ে যাই। বুট পড়ে আবার প্রস্তুত হলাম। আমরা বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করলাম এবং ভারতের পতাকা উড়ালেন ডিসি সাহেব। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হলো। ব্যস, ওইখানেই কিন্তু আমরা স্বীকৃতি পেয়ে গেলাম। দর্শকরা দাঁড়িয়ে বলল, জয় বাংলা এগিয়ে চল। দেশ স্বাধীন হয়েছে। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে আমরাই প্রথম স্বীকৃতি নিয়ে এসেছি। আমাদের সবচেয়ে বড় গৌরব, আমরা বিদেশের মাটিতে পতাকা উত্তোলন করে স্বীকৃতি চেয়েছি।’
ফুটবল খেলাটাকে হাতিয়ার বানিয়ে এভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া, বিশ^ ইতিহাসে এমন নজির আর নেই। সেই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলই কি না স্বীকৃতিহীন! একরাশ হতাশা কণ্ঠে ফুটিয়ে জাকারিয়া পিন্টু বললেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের কোনো কিছু দেওয়া হয়নি। আমি স্বাধীনতা পদক পেয়েছি, সালাউদ্দিন পেয়েছে। এটা আমাদের কৃতিত্বে, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলে খেলে পাইনি। আমার ক্ষোভ নাই, অভিমান আছে। এত কিছু করলাম, পতাকা উত্তোলন করলাম, মুক্তিযুদ্ধের জন্য টাকা তুলে দিলাম, কিন্তু এই টিমটাকে এখন পর্যন্ত স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমাদের দেশের দুটি পদক আছেÑ স্বাধীনতা পদক আর জাতীয় পদক, দুটির একটা তো দেওয়া উচিত ছিল।’ শঙ্কা নিয়ে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক বললেন, ‘আমাদের অনেকেই মারা গেছেন। অনেকে ৭০-৮০ বছরের কাছাকাছি, তারাও তো মরে যাবে। আমরা যখন মরে যাব, তখন তো স্বাধীন বাংলা টিম বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই আমরা চেয়েছিলাম, ২৫ জুলাই ন্যাশনাল স্পোর্টস ডে করেন। তাহলে হয়তো পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারবে, আমরা এই দিনেই পতাকা উত্তোলন করেছিলাম।’
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি কি করেছেন, সেটাও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করলেন জাকারিয়া পিন্টু, ‘শেখ হাসিনা অনেক ভালো করছে। স্পোর্টসে তার অবদান অনেক বেশি। আমার স্বাধীন বাংলা টিমের একজনকে ৩৫ লাখ টাকা দিয়েছেন, আরেকজনকে ২৫ লাখ। মেয়েদের টিমকে বাড়ি দিয়েছেন, দিয়েছেন ক্রিকেট টিমকেও। তিনি স্পোর্টসকে পছন্দ করেন। কারণ তার পরিবার স্পোর্টসের, শেখ রাসেল, শেখ জামাল, শেখ কামাল ক্রীড়াপ্রেমী ছিলেন, বঙ্গবন্ধুও ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘আমার দুঃখ হলো, আমার ফুটবল টিমটা স্বীকৃতি পেল না। এটা এই সরকারের দেওয়া উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। কারণ এই সরকারের সময়ই আমরা খেলেছি, আওয়ামী লীগের সময় খেলেছি।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]