ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৫ এপ্রিল ২০২০ ২০ চৈত্র ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ৫ এপ্রিল ২০২০

বঙ্গবন্ধু ও নজরুল
অনুপম হায়াৎ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ১১:০৯ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 11

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) ছিলেন বিদ্রোহী বিপ্লবী কবি। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫) ছিলেন ‘রাজনীতির কবি’। নজরুলের জন্ম ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে আর বঙ্গবন্ধুর জন্ম ১৯২০ সালে। বঙ্গবন্ধুর শৈশব-কৈশোর-তারুণ্যের সময়ে রবীন্দ্র-নজরুল সাহিত্যের আকাশে দীপ্তিময়তার সঙ্গে বিরাজমান। বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেম, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণে এই দুই কীর্তিমান সাহিত্যিকের রচনাকর্ম প্রভাব ফেলেছে। পরবর্তীকালের ইতিহাস এই দুই কবির প্রতি বঙ্গবন্ধুর অবিচল আস্থা-প্রেরণার জাজ্বল্যমান সাক্ষ্য দেয়। বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সময়ে এই দুই কবির রচিত কবিতা ও গান উদ্ধৃত করেছেন স্বচ্ছন্দে এবং রবীন্দ্রনাথের রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত করেছেন আর নজরুলের ‘চল চল চল’ রণসঙ্গীত হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কবি নজরুলকে তিনি ১৯৭২ সালে ঢাকায় এনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি নজরুলের বিদ্রোহী ও বিপ্লবী সত্তা, গভীর দেশপ্রেম, মানবতাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবোধ, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং বাংলার ইতিহাস-ভ‚গোল-মানুষ-জীবন-সমাজ-সংস্কৃতিকে ধারণ করে ‘জয় বাংলা’ সেøাগান ও চেতনায় প্রদীপ্ত হয়েছেন।
২.
বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী থেকে জানা যায় যে, বঙ্গবন্ধুর পিতা তাঁদের বাড়িতে দৈনিক আনন্দবাজার, বসুমতী, আজাদ, মাসিক মোহাম্মদী ও সওগাত রাখতেন। কাজেই এটা সহজেই ধরে নেওয়া যায় যে, বঙ্গবন্ধু সেই কৈশোরেই স্কুলে থাকতে কবি নজরুলের নাম জেনেছেন এবং তাঁর বিভিন্ন লেখা পড়েছেন। কারণ, নজরুল মাসিক ‘সওগাত’-এ ১৯১৮ সাল থেকে এবং পরে মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকায়ও নিয়মিতভাবে লিখতেন। ব্রিটিশ কর্তৃক কবি নজরুলকে জেলবন্দি রাখার সংবাদও তাঁর অজানা থাকার কথা নয়। বঙ্গবন্ধুর জন্ম ব্রিটিশ আমলে ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে। নজরুল আটবার বৃহত্তর ফরিদপুর সফর করেছেন। বঙ্গবন্ধুর বয়স যখন পাঁচ, সেই ১৯২৫ সালের ১ মে নজরুল ফরিদপুর প্রথম সফর করেন। তিনি বঙ্গীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দেন। ওই সময় তিনি কবি জসিম উদ্দীন ও অন্যান্যের বাড়িতে ১৫ দিন অবস্থান করেন। তিনি গানে, কবিতায়, বক্তৃতায়, হাস্য-রস্যে, আড্ডায় ফরিদপুর মাতিয়ে রাখেন। ওই সময় মহাত্মা গান্ধী, চিত্তরঞ্জন দাস, হোসেন শহদী সোহরাওয়ার্দীও ফরিদপুর আসেন। এর কয়েক মাস পর কয়েকজন মুসলমান বিপ্লবী তরুণ নজরুলকে আবার ফরিদপুর নিয়ে আসেন। তিনি সাহিত্যিক হুমায়ূন কবীরের বাড়িতে ছিলেন। এবারও তিনি গানে, কবিতায়, বক্তৃতায়, আড্ডায় ছাত্রদের মাতিয়ে রাখেন।
১৯২৬ সালের নভেম্বর মাসে নজরুল আবার ফরিদপুর আসেন নির্বাচনি প্রচার কাজ উপলক্ষে। তিনি ঢাকা ও ফরিদপুর এলাকা থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। এ সময় তিনি কবি জসিম উদ্দীনের বাড়িতে ছিলেন এবং রাজনীতিবিদ তমিজউদ্দীন খানের সঙ্গে পরিচিত হন।
নজরুল আবার যখন ফরিদপুর আসেন জসিম উদ্দীন তখন রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র। ওই কলেজের ছাত্ররা নজরুলকে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অনুমতি না পেয়ে অন্যত্র উন্মুক্ত মাঠে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়। নজরুল গান গেয়ে ও কবিতা আবৃত্তি করে দর্শক-শ্রোতাদের চিত্ত জয় করেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাজীবনে নজরুল ১৯৩৬ এবং ১৯৩৮ সালেও ফরিদপুর সফর করেন এবং জনচিত্ত মাতিয়ে যান।
নজরুলের বারবার ফরিদপুর আগমনের সংবাদ সেকালের স্কুলছাত্র বঙ্গবন্ধুর অজানা থাকার কথা নয়। উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম গোপালগঞ্জে। তিনি গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিভিন্ন স্কুলে পড়েছেন। ওই সময় গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর ছিল ফরিদপুর জেলার অধীন। একজন গৃহশিক্ষক কিশোর মুজিবকে নজরুল ও অন্যান্য বিষয়ে প্রভাবিত করেছিলেন।
বেবী মওদুদ সূত্রে জানা যায় যে, ১৯৩৭ সালে  বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ওই সময় তাঁর গৃহশিক্ষক ছিলেন কাজী আবদুল হামিদ। এই শিক্ষক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর কাছেই কিশোর শেখ মুজিবের রাজনৈতিক শিক্ষা ও দীক্ষা হয়। তাঁর মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ ও
সাংস্কৃতিক চিন্তাভাবনা, রবীন্দ্র-নজরুলকে জানার আগ্রহ হামিদ মাস্টারই জাগিয়ে তোলেন।
বঙ্গবন্ধু প্রত্যক্ষভাবে নজরুলের সংস্পর্শে আসেন ১৯৪১ সালের ১২ আগস্ট।
নজরুল ফরিদপুর জেলা মুসলিম ছাত্র সম্মিলনের অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ওই সময় তাঁর সঙ্গে আসেন অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খাঁ, মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, মুহম্মদ শামসুল হুদা চৌধুরী ও আবদুর রউফ। এই আয়োজনের উদ্যোক্তা ছিলেন সাহিত্যিক রাজনীতিবদ হুমায়ূন কবীর। তবে প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় ১৪৪ ধারা জারির ফলে নির্দিষ্ট স্থানের বদলে অন্য স্থানে অনুষ্ঠান হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই উদ্যোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। তাঁর আত্মজীবনীতে এ সম্পর্কে লিখেছেনÑ ‘একটা ঘটনার দিন-তারিখ আমার মনে নাই, ১৯৪১ সালের মধ্যেই হবে, ফরিদপুর ছাত্রলীগের জেলা কনফারেন্সে শিক্ষাবিদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁরা হলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম, হুমায়ূন কবীর, ইব্রাহীম খাঁ সাহেব। সে সভা আমাদের করতে দিল না। ১৪৪ ধারা জারি করল। কনফারেন্স করলাম হুমায়ূন কবীর সাহেবের বাড়িতে। কাজী নজরুল ইসলাম সাহেব গান শোনালেন।...’
৩.
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। কিন্তু অচিরেই স্বপ্নের পাকিস্তানে বাংলা ভাষা, বাঙালির স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। শুরু হয় নানা শোষণ-পীড়ন-দমননীতি। বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্যের উদ্যোগে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম ছাত্রলীগ। এ বছরের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে অন্যান্যের সঙ্গে তিনি হন কারারুদ্ধ। পরে ১৫ মার্চ মুক্তি পান।
১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ^^বিদ্যালয়ের নি¤œশ্রেণির কর্মচারীদের দাবির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধুকে আবার গ্রেফতার করা হয়। কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হলে তাঁকে এর যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
পরবর্তীতে তিনি ছাড়া পেলেও আবার গ্রেফতার হন ১৯৫০ সালের প্রথমদিকে। তাঁকে প্রথমে ঢাকা এবং পরে ফরিদপুরে জেলে বদলি করা হয়। বন্দি অবস্থায়ও তিনি ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রাখেন কৌশলে। ১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রæয়ারি তিনি মুক্তি লাভ করেন ফরিদপুর জেল থেকে।
বঙ্গবন্ধুর বারবার গ্রেফতার ও কারাবন্দি থাকার সময় নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ এবং ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ ইত্যাদি লেখা নিশ্চয়ই অনুপ্রেরণার সঞ্চার করত। ঢাকা এসে তিনি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির সভায় যোগ দেন। দেশে তখন চলছে তুমুল রাজনৈতিক আন্দোলন। ১৯৫৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় মুসলিম ছাত্রলীগের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী অনুুষ্ঠান পালিত হয়। এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধটি তাঁর অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে পাঠ করেন মোশারফ হোসেন চৌধুরী। বঙ্গবন্ধু তখন করাচিতে অবস্থান করছিলেন। প্রবন্ধটি নজরুলের বৈপ্লবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিদ্রোহী জীবন গড়ার এক নিখুঁত আলাপন হিসেবে প্রতিপন্ন হয়। এর উপসংহারে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে কবির বিপ্লবী জীবনাদর্শ ছাত্র-যুবক-জনগণের কতখানি প্রয়োজন তা তুলে ধরা হয়।
৪.
১৯৪২ সালে কাজী নজরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর ওই সময় বঙ্গবন্ধু বৃহত্তর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। ১৯৪৭-উত্তর পরিবেশে মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু অসুস্থ নজরুলকে দেখতে যান তাঁর কলকাতাস্থ বাসায়। নজরুল গবেষক আসাদুল হকের বর্ণনায় পাওয়া যায় সেই সাক্ষাতের বিবরণ। তিনি লিখেছেনÑ ‘ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নজরুলের ভক্ত ছিলেন। তাই পাকিস্তান আমলে তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে কলকাতায় এসে নির্বাক নিশ্চল নজরুলকে দেখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। সেটা ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের কথা। আমি তখন কলকাতা পাকিস্তান ডেপুটি হাইকমিশনার অফিসে কর্মরত। কলকাতায় আমি বসবাস করি। বঙ্গবন্ধু কলকাতায় গিয়েছিলেন কোনো কর্মোপলক্ষে। কাজ শেষে উনি কবি নজরুলকে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করায় ডেপুটি হাইকমিশনার এ কাজটি আমাকে দিয়েছিলেন। প্রেস-এটাচির সাথে করে বঙ্গবন্ধুকে নজরুলের বাসায় নিয়ে যাবার জন্য। তাই আমি তাঁর প্রেস-এটাচি দুজন বঙ্গবন্ধুকে সাথে করে গিয়েছিলাম নজরুলের বাসগৃহে টালাপার্কের মনমথ দত্ত রোডের দোতলার ফ্ল্যাটে।
বঙ্গবন্ধু যখন নজরুলকে দেখতে যান তখন সঙ্গে নিয়ে যান একগুচ্ছ রজনীগন্ধা ও সন্দেশের একটি প্যাকেট। কবির বাসায় তিনি যখন যান তখন কবি শুয়ে বিশ্রাম করছিলেন। আগন্তুক প্রবেশ করতে দেখে কবি উঠে বসেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে হাত উঠিয়ে সালাম জানান এবং নজরুলের হাতে রজনীগন্ধার গুচ্ছ দেন। কবি হাত বাড়িয়ে তা গ্রহণ করেন।’
৫.
১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই বিজয়ের পর সাংবিধানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর দল তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠনের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৭১ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রদত্ত এক সংবর্ধনা সভায় বঙ্গবন্ধু নজরুল প্রসঙ্গে বলেনÑ ‘বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে কবি নজরুল ও কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শাসক শ্রেণীর ভ্রƒকুটি উপক্ষো করে কবিতা ও গানের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ফলে রাজরোষে পতিত হয়ে কবি নজরুল কারাবরণ করেছেন।... তাঁরা ইসলামীকরণের নামে নজরুল ইসলামের গানের শব্দ পরিবর্তন করে করে তা প্রচার করেছেন।’ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ও অবদান হচ্ছে নজরুলকে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে এনে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা। বঙ্গবন্ধু নজরুল ও তাঁর পরিবারের জন্য ধানমন্ডিতে একটি বাড়ি বরাদ্দ করেন। এই বাড়িতেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে দেখতে যান। পরে কবির জন্য মাসিক ভাতা মঞ্জুর করা হয়। ওই বছরই এক বাণীতে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘নজরুল বাংলার বিদ্রোহী আত্মা ও বাঙালির স্বাধীন ঐতিহাসিক রূপকার।...’
১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর সরকারের আমলে কবি নজরুলকে ঢাকা বিশ^^বিদ্যালয় সম্মানসূচক ডিগ্রি ‘ডি লিট’ প্রদান করে। ১৯৭৫ সালের ২২ জুলাই নজরুলের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক তত্ত¡াবধানের জন্য পিজি হাসপাতালে (১১৭নং কেবিন) স্থানান্তরিত করা হয়। এই হাসপাতালেই কবির মৃত্যু ঘটে ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (১৩৮৩ সনের ১২ ভাদ্র)।
৬.
বঙ্গবন্ধু নজরুলের রচনাবলী সুযোগ পেলেই পাঠ করতেন বলে জানা যায়। তাঁর প্রিয়তম গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল নজরুলের ‘নমঃ নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম’। নজরুল লিখেছেন, ‘বাংলা বাঙালির হোক। বাংলার জয় হোক, বাঙালির জয় হোক আর বঙ্গবন্ধু সেøাগান দিয়েছেন ‘জয় বাংলা’। নজরুল ‘পূর্ণ-অভিনন্দন’ (যাত্রার গান কাব্যের অন্তর্ভুক্ত) কবিতায় ‘জয় বাংলা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। গবেষক শামসুজ্জামান খান লিখেছেন, ‘নজরুলের কাছে বঙ্গবন্ধু বিশেষভাবে ঋণী তার ‘জয় বাংলা’ সেøাগানের জন্য।’
আজ দুজনই শারীরিকভাবে বেঁচে নেই। কিন্তু নজরুলের বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আছে, আছে বাঙালি। আর আছে সেই অমর সেøাগান বাণী ‘জয় বাংলা।’




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]